ইমরান হোসাইন

রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার আড়াই দশক পূর্ণ হচ্ছে এই বৈশাখে। দেড় যুগের বেশি সময় পেরিয়ে হত্যা মামলার রায় উচ্চ আদালত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলেও বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনো সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।
১৪০৮ সালের পয়লা বৈশাখে সকাল ৮টা ৫ মিনিটে প্রথম বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের পর দ্বিতীয় বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। ঘটনাস্থলেই ৯ জন প্রাণ হারান এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। হামলার শিকার হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেন তাদের মধ্যে ছিলেন আল-মামুন হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌস শিল্পী, আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ এমরান হোসেন, অসীম চন্দ্র সরকার, ইসমাইল হোসেন স্বপন এবং আনসার আলী। এছাড়া এই ঘটনায় প্রায় ৫০ জন মানুষ গুরুতর আহত হন, যাঁদের অনেকেই সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
হামলার দিনই নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র চন্দ রমনা থানায় দুটি পৃথক মামলা করেন; একটি দণ্ডবিধিতে হত্যা মামলা এবং অন্যটি বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে।
বিচারিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা
মামলা দায়েরের পর তদন্ত কর্মকর্তা বারবার পরিবর্তন, সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল, বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও তদন্ত কর্মকর্তাদের আদালতে সাক্ষ্য দিতে না আসা ইত্যাদি কারণে মামলার বিচার শুরু হতে বিলম্ব হয়।
আট বার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর শীর্ষ হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির পরিদর্শক আবু হেনা মো. ইউসুফ আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে আলাদা দুটি সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দুটি মামলারই অভিযোগপত্র একসঙ্গে দাখিল করা হয়। পরে বিচারের জন্য মামলা দুটি ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে যায়। ওই আদালতে একই বছরের ১৬ এপ্রিল পৃথকভাবে মামলা দুটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের সিদ্ধান্তে হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এ এবং বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানো হয়। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, ১৩৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ না হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী মামলা দায়রা আদালতে ফেরত যায়। ফলে হত্যা মামলাটি আবার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালতে স্থানান্তর হয়।
হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর একই বছরের ১০ নভেম্বর আসামি আত্মপক্ষ সমর্থন করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি দেন। মামলার নথিতে ৮৪ জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৬১ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রুহুল আমিন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার আদ্যোপান্ত
বোমা হামলার ঘটনায় নিষিদ্ধ সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি-বি) অন্যতম শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনকে আসামি করে রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে পৃথক মামলা করে পুলিশ। এর মধ্যে হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রায় দেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) রমনা বটমূলে ওই হামলা চালিয়েছিল বলে মামলার বিচারে প্রমাণিত হয়েছে। সেটা ছিল ‘ব্রুটাল মার্ডার’, এ দেশের সংস্কৃতির ওপর আঘাত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির সাজা কমল
বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় মুফতি হান্নানসহ আট আসামিকে। অন্যরা হলেন আকবর হোসেন, আরিফ হাসান, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মো. তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, আবদুল হাই ও শফিকুর রহমান।
এর মধ্যে সিলেটে গ্রেনেড হামলা মামলায় মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড ২০১৭ সালে কার্যকর হয়। বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর সাত আসামির মধ্যে মো. তাজউদ্দিনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয় আসামিরও সাজা কমেছে হাইকোর্টের রায়ে। তাদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থদণ্ড (৫০ হাজার টাকা করে) বহাল রাখা হয়েছে। এই আসামিরা হলেন আকবর হোসেন, আরিফ হাসান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, আবদুল হাই ও শফিকুর রহমান।
এক আসামির যাবজ্জীবন বহাল, সাজা কমে তিনজনের
এ মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা হলেন শাহাদাতউল্লাহ, সাব্বির, শেখ ফরিদ, আবদুর রউফ, ইয়াহিয়া ও আবু তাহের। শাহাদাতউল্লাহর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট।
বিচারিক আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডিত সাব্বির, শেখ ফরিদ ও আবু তাহেরের সাজা সংশোধন করে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে হাইকোর্ট। আর মারা যাওয়ায় আবদুর রউফ ও ইয়াহিয়ার আপিল অ্যাবেট (পরিসমাপ্তি) ঘোষণা করা হয়েছে।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও সরওয়ার আহমেদ এবং আইনজীবী মহিনুর রহমান। দুই আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসিফ ইমরান।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বর্তমান অবস্থা নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা রুবি বলেন, ‘রমনা বটমূলে হামলার হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও বের হয়নি, কেবল একটি অ্যাডভান্স অর্ডার বের হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সেখানে লিখিতভাবে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পেলে সেটি পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রপক্ষ অবশ্যই আপিলে যাবে।’
মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্ত রিপোর্ট বা অন্যান্য নথিপত্র খুঁজে পেতে দেরি হয় এবং পেপার বুকে ঘাটতি থাকলে রাষ্ট্রপক্ষকে সেগুলো সংগ্রহ করতে হয়। দীর্ঘ সময় হাজতবাসের পর সাজা কমলে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে যদি রায়ে সুনির্দিষ্ট উল্লেখ না থাকে তবে নিম্ন আদালত কোনো ক্ষতিপূরণ দিবে না।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘রমনা বটমূল হত্যা মামলার সর্বশেষ অবস্থা হলো এখনো পর্যন্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ (সার্টিফাইড) কপি পাওয়া যায়নি। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি না পাওয়ার কারণে আপিল করার স্কোপ এখনো তৈরি হয় নাই। শুধু শর্ট অর্ডার দেওয়া হয়েছে।’
মুক্তিপ্রাপ্তদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মাওলানা আকবর এবং মাওলানা আবু তাহের এই দুইজন বের হয়ে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা ছিল না। বাকিরা এখনো জেলে আছে কারণ তারা অন্য মামলায় গ্রেপ্তার। আমাদের দুইজন আসামি—আরিফ হাসান সুমন ও মাওলানা আব্দুল হাই—সিপিবির বোমা হামলা মামলায় গ্রেপ্তার এবং ওই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। বিষয়টি এখন হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স হিসেবে শুনানির অপেক্ষায় আছে। তাই তাদের মুক্তির সুযোগ নেই।’
আপিল বিভাগের আইনজীবী সারওয়ার আহমেদ বলেন, ‘এই মামলায় আপিল বিভাগে কেউ আপিল করেছে কিনা তা আমার জানা নেই। আইনে যদি কোনো আসামি বিচার চলাকালীন সময় হাজতে থাকে, সেই সময়টা তার চূড়ান্ত সাজার মেয়াদ থেকে বাদ (ডিডাকশন) যায়। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫(এ) ধারায় এ বিধান রয়েছে।’
বিস্ফোরক মামলা: আড়াই দশকের বিচারিক আবর্ত
একই ঘটনার বিস্ফোরক মামলাটি বর্তমানে ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে (মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫) বিচারাধীন।
ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘রমনা বটমূলের বিস্ফোরক মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ছয়জন সাক্ষীকেও খুঁজে বের করে দ্রুত আদালতে হাজির করার চেষ্টা চলছে।’
চলতি বছরের মধ্যেই এই মামলার রায় দেওয়া সম্ভব হতে পারে বলে তিনি আশা করেন।
আসামিদের হাজিরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ভার্চ্যুয়ালি (ডিজিটাল পদ্ধতিতে) আদালতে হাজিরা দেওয়া হচ্ছে। হত্যা মামলা দণ্ডবিধির আওতাধীন এবং বিস্ফোরক মামলাটি ভিন্ন আইনের অধীনে। ফলে একত্রে পরিচালনার সুযোগ নেই।’
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (স্পেশাল পিপি) আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার সময় পর্যন্ত মামলাটি আর্গুমেন্ট (যুক্তিতর্ক) স্টেজে ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নতুন বিচারক এসে আর্গুমেন্ট না শুনে আবার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য পাঠিয়ে দেন এবং পরে মামলাটি বদলি করে দেওয়া হয়। শুরু থেকেই দুটি মামলা দুই আদালতে পাঠানো হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বিচার জটিল করেছে। রাষ্ট্রপক্ষ চাইছিল দ্রুত রায় হোক। এই বিলম্ব বিচারিক প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্তের কারণেই হয়েছে।’
সাবেক ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হত্যা মামলার রায় অনুযায়ী ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল রাতে মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ফলে রমনা বটমূলের বিস্ফোরক আইনের মামলা থেকে তার নাম বাদ যায়।
২০২২ সালের ২১ মার্চ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ১১ অগাস্ট দিন ধার্য করেন বিচারক। কিন্তু ২০২২ সালের ২৮ জুলাই মামলাটি বদলি করে ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানো হয়। সেখান থেকে ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি পাঠানো হয় মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫-তে।
মামলা এমন প্রলম্বিত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় সাবেক ঢাকা মহানগর পিপি এহসানুল হক সমাজী স্ট্রিমকে বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকা, নির্ধারিত তারিখে সাক্ষী না আসা এবং সিআরপিসির ৫৪০ ধারার অধীনে সাক্ষীকে পুনঃতলব (রিকল) করা মামলা বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ।’
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রসিকিউশন শুরুতেই সমন্বিত চার্জশিট দিলে একসঙ্গে বিচার সম্ভব ছিল। বিচার প্রক্রিয়া ২০-২৫ বছর ধরে চলার পেছনে কাঠামোগত সমস্যাই দায়ী।’
আপিল বিভাগের আইনজীবী সারওয়ার আহমেদ দুটি মামলা একত্রে বিচার না হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের এ বিষয়ে ভিন্নমুখী রায় রয়েছে। কিছু রায়ে বলা হয়েছে একই ঘটনায় সাজা হলে অন্যটি চলতে পারে না; আবার কিছু রায়ে ভিন্ন আইনের মামলা হওয়ায় বাধা নেই বলা হয়েছে। এই দ্বৈত অবস্থানের কারণেই আলাদা বিচারের চর্চা অব্যাহত রয়েছে।’

রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার আড়াই দশক পূর্ণ হচ্ছে এই বৈশাখে। দেড় যুগের বেশি সময় পেরিয়ে হত্যা মামলার রায় উচ্চ আদালত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলেও বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনো সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।
১৪০৮ সালের পয়লা বৈশাখে সকাল ৮টা ৫ মিনিটে প্রথম বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের পর দ্বিতীয় বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। ঘটনাস্থলেই ৯ জন প্রাণ হারান এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। হামলার শিকার হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেন তাদের মধ্যে ছিলেন আল-মামুন হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌস শিল্পী, আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ এমরান হোসেন, অসীম চন্দ্র সরকার, ইসমাইল হোসেন স্বপন এবং আনসার আলী। এছাড়া এই ঘটনায় প্রায় ৫০ জন মানুষ গুরুতর আহত হন, যাঁদের অনেকেই সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
হামলার দিনই নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র চন্দ রমনা থানায় দুটি পৃথক মামলা করেন; একটি দণ্ডবিধিতে হত্যা মামলা এবং অন্যটি বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে।
বিচারিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা
মামলা দায়েরের পর তদন্ত কর্মকর্তা বারবার পরিবর্তন, সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল, বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও তদন্ত কর্মকর্তাদের আদালতে সাক্ষ্য দিতে না আসা ইত্যাদি কারণে মামলার বিচার শুরু হতে বিলম্ব হয়।
আট বার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর শীর্ষ হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির পরিদর্শক আবু হেনা মো. ইউসুফ আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে আলাদা দুটি সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দুটি মামলারই অভিযোগপত্র একসঙ্গে দাখিল করা হয়। পরে বিচারের জন্য মামলা দুটি ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে যায়। ওই আদালতে একই বছরের ১৬ এপ্রিল পৃথকভাবে মামলা দুটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের সিদ্ধান্তে হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এ এবং বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানো হয়। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, ১৩৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ না হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী মামলা দায়রা আদালতে ফেরত যায়। ফলে হত্যা মামলাটি আবার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালতে স্থানান্তর হয়।
হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর একই বছরের ১০ নভেম্বর আসামি আত্মপক্ষ সমর্থন করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি দেন। মামলার নথিতে ৮৪ জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৬১ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রুহুল আমিন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার আদ্যোপান্ত
বোমা হামলার ঘটনায় নিষিদ্ধ সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি-বি) অন্যতম শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনকে আসামি করে রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে পৃথক মামলা করে পুলিশ। এর মধ্যে হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রায় দেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) রমনা বটমূলে ওই হামলা চালিয়েছিল বলে মামলার বিচারে প্রমাণিত হয়েছে। সেটা ছিল ‘ব্রুটাল মার্ডার’, এ দেশের সংস্কৃতির ওপর আঘাত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির সাজা কমল
বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় মুফতি হান্নানসহ আট আসামিকে। অন্যরা হলেন আকবর হোসেন, আরিফ হাসান, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মো. তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, আবদুল হাই ও শফিকুর রহমান।
এর মধ্যে সিলেটে গ্রেনেড হামলা মামলায় মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড ২০১৭ সালে কার্যকর হয়। বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর সাত আসামির মধ্যে মো. তাজউদ্দিনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয় আসামিরও সাজা কমেছে হাইকোর্টের রায়ে। তাদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থদণ্ড (৫০ হাজার টাকা করে) বহাল রাখা হয়েছে। এই আসামিরা হলেন আকবর হোসেন, আরিফ হাসান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, আবদুল হাই ও শফিকুর রহমান।
এক আসামির যাবজ্জীবন বহাল, সাজা কমে তিনজনের
এ মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা হলেন শাহাদাতউল্লাহ, সাব্বির, শেখ ফরিদ, আবদুর রউফ, ইয়াহিয়া ও আবু তাহের। শাহাদাতউল্লাহর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট।
বিচারিক আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডিত সাব্বির, শেখ ফরিদ ও আবু তাহেরের সাজা সংশোধন করে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে হাইকোর্ট। আর মারা যাওয়ায় আবদুর রউফ ও ইয়াহিয়ার আপিল অ্যাবেট (পরিসমাপ্তি) ঘোষণা করা হয়েছে।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও সরওয়ার আহমেদ এবং আইনজীবী মহিনুর রহমান। দুই আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসিফ ইমরান।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বর্তমান অবস্থা নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা রুবি বলেন, ‘রমনা বটমূলে হামলার হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও বের হয়নি, কেবল একটি অ্যাডভান্স অর্ডার বের হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সেখানে লিখিতভাবে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পেলে সেটি পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রপক্ষ অবশ্যই আপিলে যাবে।’
মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্ত রিপোর্ট বা অন্যান্য নথিপত্র খুঁজে পেতে দেরি হয় এবং পেপার বুকে ঘাটতি থাকলে রাষ্ট্রপক্ষকে সেগুলো সংগ্রহ করতে হয়। দীর্ঘ সময় হাজতবাসের পর সাজা কমলে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে যদি রায়ে সুনির্দিষ্ট উল্লেখ না থাকে তবে নিম্ন আদালত কোনো ক্ষতিপূরণ দিবে না।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘রমনা বটমূল হত্যা মামলার সর্বশেষ অবস্থা হলো এখনো পর্যন্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ (সার্টিফাইড) কপি পাওয়া যায়নি। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি না পাওয়ার কারণে আপিল করার স্কোপ এখনো তৈরি হয় নাই। শুধু শর্ট অর্ডার দেওয়া হয়েছে।’
মুক্তিপ্রাপ্তদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মাওলানা আকবর এবং মাওলানা আবু তাহের এই দুইজন বের হয়ে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা ছিল না। বাকিরা এখনো জেলে আছে কারণ তারা অন্য মামলায় গ্রেপ্তার। আমাদের দুইজন আসামি—আরিফ হাসান সুমন ও মাওলানা আব্দুল হাই—সিপিবির বোমা হামলা মামলায় গ্রেপ্তার এবং ওই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। বিষয়টি এখন হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স হিসেবে শুনানির অপেক্ষায় আছে। তাই তাদের মুক্তির সুযোগ নেই।’
আপিল বিভাগের আইনজীবী সারওয়ার আহমেদ বলেন, ‘এই মামলায় আপিল বিভাগে কেউ আপিল করেছে কিনা তা আমার জানা নেই। আইনে যদি কোনো আসামি বিচার চলাকালীন সময় হাজতে থাকে, সেই সময়টা তার চূড়ান্ত সাজার মেয়াদ থেকে বাদ (ডিডাকশন) যায়। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫(এ) ধারায় এ বিধান রয়েছে।’
বিস্ফোরক মামলা: আড়াই দশকের বিচারিক আবর্ত
একই ঘটনার বিস্ফোরক মামলাটি বর্তমানে ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে (মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫) বিচারাধীন।
ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘রমনা বটমূলের বিস্ফোরক মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ছয়জন সাক্ষীকেও খুঁজে বের করে দ্রুত আদালতে হাজির করার চেষ্টা চলছে।’
চলতি বছরের মধ্যেই এই মামলার রায় দেওয়া সম্ভব হতে পারে বলে তিনি আশা করেন।
আসামিদের হাজিরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ভার্চ্যুয়ালি (ডিজিটাল পদ্ধতিতে) আদালতে হাজিরা দেওয়া হচ্ছে। হত্যা মামলা দণ্ডবিধির আওতাধীন এবং বিস্ফোরক মামলাটি ভিন্ন আইনের অধীনে। ফলে একত্রে পরিচালনার সুযোগ নেই।’
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (স্পেশাল পিপি) আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার সময় পর্যন্ত মামলাটি আর্গুমেন্ট (যুক্তিতর্ক) স্টেজে ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নতুন বিচারক এসে আর্গুমেন্ট না শুনে আবার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য পাঠিয়ে দেন এবং পরে মামলাটি বদলি করে দেওয়া হয়। শুরু থেকেই দুটি মামলা দুই আদালতে পাঠানো হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বিচার জটিল করেছে। রাষ্ট্রপক্ষ চাইছিল দ্রুত রায় হোক। এই বিলম্ব বিচারিক প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্তের কারণেই হয়েছে।’
সাবেক ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হত্যা মামলার রায় অনুযায়ী ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল রাতে মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ফলে রমনা বটমূলের বিস্ফোরক আইনের মামলা থেকে তার নাম বাদ যায়।
২০২২ সালের ২১ মার্চ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ১১ অগাস্ট দিন ধার্য করেন বিচারক। কিন্তু ২০২২ সালের ২৮ জুলাই মামলাটি বদলি করে ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানো হয়। সেখান থেকে ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি পাঠানো হয় মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫-তে।
মামলা এমন প্রলম্বিত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় সাবেক ঢাকা মহানগর পিপি এহসানুল হক সমাজী স্ট্রিমকে বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকা, নির্ধারিত তারিখে সাক্ষী না আসা এবং সিআরপিসির ৫৪০ ধারার অধীনে সাক্ষীকে পুনঃতলব (রিকল) করা মামলা বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ।’
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রসিকিউশন শুরুতেই সমন্বিত চার্জশিট দিলে একসঙ্গে বিচার সম্ভব ছিল। বিচার প্রক্রিয়া ২০-২৫ বছর ধরে চলার পেছনে কাঠামোগত সমস্যাই দায়ী।’
আপিল বিভাগের আইনজীবী সারওয়ার আহমেদ দুটি মামলা একত্রে বিচার না হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের এ বিষয়ে ভিন্নমুখী রায় রয়েছে। কিছু রায়ে বলা হয়েছে একই ঘটনায় সাজা হলে অন্যটি চলতে পারে না; আবার কিছু রায়ে ভিন্ন আইনের মামলা হওয়ায় বাধা নেই বলা হয়েছে। এই দ্বৈত অবস্থানের কারণেই আলাদা বিচারের চর্চা অব্যাহত রয়েছে।’

বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সোসাইটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক তাহমিদ আল-হুসাইনী এবং মহাসচিব অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
৩ ঘণ্টা আগে
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বদলি নিয়ে মন্তব্য করে লিগ্যাল নোটিশ পেলেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা দিয়ে বদলি হয়ে আসার অভিযোগ তোলায় তাঁকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় চলছে খনার মেলা। টানা তৃতীয়বার আয়োজিত মেলায় কৃষি, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও বাকস্বাধীনতায় খনার বচনের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
এবারের পয়লা বৈশাখের ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে ১০০ ফুট দীর্ঘ একটি পটচিত্র। যেখানে লোকজ সংস্কৃতির পাশাপাশি ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের রক্তিম ইতিহাস। পহেলা বৈশাখের আগের দিনেও চারুকলার প্রাঙ্গণে পটুয়া নাজির হোসেনের নেতৃত্বে এই পটচিত্র তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন শিল্পীরা।
৩ ঘণ্টা আগে