ফাবিহা বিনতে হক

অলিতে-গলিতে শিশুদের কলতান, নতুন জামার আর ঘরে প্রিয় খাবারের মিষ্টি সুবাস৷ এসব ঈদের দিনের চেনা দৃশ্য। ইতিহাস বলে, কোরবানি ঈদের চিত্র সবসময় খুব আনন্দমুখর ছিল না। কখনও ধর্মীয়, কখনও সামাজিক-রাজনৈতিক দায় থেকে ঈদুল আজহা বা কোরবানি ঈদ পালনে এসেছে বিভিন্ন বাধা।
অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন তাঁর ‘বাংলাদেশের উৎসব’ (১৯৯৪) বইয়ে লিখেছেন:
‘আজকে আমরা যে ধুমধামের সঙ্গে ঈদ-উল আজহা পালন করি, তা চল্লিশ–পঞ্চাশ বছরের ঐতিহ্যমাত্র। বিশেষ করে তখন ঈদুল আজহাকে বলা হতো ‘বক্রা ঈদ, বকরিদ বা বকরি ঈদ’।
বকরি ঈদ অর্থাৎ যে ঈদে বকরি কোরবানি করা হয়। এখনও ভারতসহ বাংলাদেশের কিছু জায়গায় এই ঈদকে ‘বকরি ঈদ’ নামে ডাকা হয়।
বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যমতে, জনগণের দারিদ্র্য ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে গরু কোরবানি দেওয়া কিংবা সাড়ম্বরে মাংস বিতরণ করার ব্যাপারটি তখন খুব আয়োজন করে পালিত হতো না। বলা চলে, গরু কোরবানির রেওয়াজ শুধু নবাব পরিবারেই ছিল। ঈদুল ফিতর বা মহররম নিয়ে আত্মজীবনী বা ইতিহাসমূলক বইগুলোতে যেমন চিত্র উঠে এসেছে, কোরবানির ঈদ নিয়ে তেমনটা আসেনি।
এ ছাড়া বকরি ঈদ নিয়ে উতসাহের অভাব শুধু যে অর্থনৈতিক কারণে ছিল, তা কিন্ত নয়। রাজনৈতিক ও সামাজিক টানাপোড়েনও এর পেছনে দায়ী। জমিদারদের বৈরি মনোভাবের কারণে গরু কোরবানি দেওয়া সহজ ছিল না। ফলে এক প্রকার বাধ্য হয়েই মুসলমানেরা গরুর বদলে ছাগল বা বকরি কোরবানি করার দিকে ঝুঁকতেন।
আবুল মনসুর আহমদ তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন: ‘বক্রা ঈদে গরু কোরবানি কেউ করিত না। কারণ জমিদারের তরফ হইতে উহা কড়াকড়িভাবে নিষিদ্ধ ছিল। খাশি-বকরি কোরবানি করা চলিত। লোকেরা করিতও তা প্রচুর।’ অর্থাৎ জমিদারের তরফ হইতে কড়াকড়িভাবে নিষিদ্ধ ছিল তাই বাংলার মুসলমানরা সাধারণত বকরি কোরবানি করত। যে কারণে ঈদের নামই হয়ে গিয়েছিল বকরি ঈদ।
তৎকালীন সময়ে মুসলমানদের এই ধর্মীয় উৎসবকে তেমন গুরুত্ব সহকারে দেখা হতো না। এর প্রমাণ মেলে ১৮৯০ সালের ‘ঢাকা প্রকাশ’ পত্রিকায় ছাপা হওয়া সরকারি ছুটির তালিকায়। হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিষ্টান—এই তিন সম্প্রদায়ের জন্য পুরো বছরে মোট ১৮ দিনের ছুটি বরাদ্দ ছিল, যার মধ্যে মুসলমানদের জন্য জুটেছিল মাত্র ৩ দিন। এর মধ্যে দুই দিন ছিল মহররমের, আর ঈদুল আজহার জন্য ছিল মাত্র ১ দিনের ছুটি।
এ ছাড়া ১৮৮২ সালে ভারতবর্ষে গো-রক্ষা আন্দোলনের সূচনা হয়। এই আন্দোলনের মাধ্যমে হিন্দু সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানানো হয়, যেন মুসলমান কসাইদের কাছে গরু বিক্রি না করেন।
পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের কোরবানি দেওয়ার অধিকার রক্ষা করতে ঢাকার আহসান মঞ্জিলের নওয়াবরা সবসময়ই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ১৮৭৯ সালের ‘ঢাকা প্রকাশ’ পত্রিকার সংবাদে দেখা যায়, ৩০ ডিসেম্বর ১৮৭৯ থেকে ১ জানুয়ারি ১৮৮০ পর্যন্ত ঢাকায় সাধারণ মানুষের জন্য বিশাল গো ও মেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল।
সেখানে নবাবের জমিদারির ভালো জাতের ষাঁড়ের দাম রাখা হয় ২৫ টাকা। ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে বার্তা আসত সুদূর দিল্লী থেকে, যা আবার ঢোল পিটিয়ে শহরে প্রচার করা হতো।
গবেষক অনুপম হায়াত ১৯২৩ সালের ২৫ জুলাইয়ের দিনলিপিতে লিখেছেন, ‘খাজা মওদুদ আজ হোসেনী দালান এলাকার গরুর হাটে যান। সেখান থেকে ২৫ টাকা দামে একটি গরু কিনেন কোরবানীর জন্য।’
মূলত ১৯৪৭-এর পর অর্থাৎ দেশভাগের পর থেকে ঈদুল আজহা এই অঞ্চলে ধীরে ধীরে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্যাপিত হতে থাকে। তবে তখনো সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি। এর প্রমাণ পাওয়া যায় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘কাল নিরবধি’ বইয়ে। সেখানে লেখা, 'বকরিদে আমরা প্রতিবছর কোরবানি দিতাম না। মাঝে মাঝে তা বাদ পড়ত। ভক্তির অভাবে অতটা নয়, যতটা সামর্থ্যের অভাবে।’
আবার আনোয়ার হোসেন ‘আমার সাত দশকে’ বইতে তুলে ধরেছেন পঞ্চাশের দশকে ঈদ উদ্যাপনের চিত্র। তিনি লিখেছেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর প্রথমবার কোরবানি দিই ১৯৫৩-৫৪ সালে, ১৫-১৬ বছর বয়সে। ভাড়া করা গাড়িতে গিয়েছিলাম ফতুল্লার হাটে। যতটুকু মনে পড়ে, ৬০-৬৫ টাকা দিয়ে একটি ষাঁড় কিনেছিলাম। কোরবানি দিতাম সাধারণত ঈদের পরদিন।’
বিশ শতকের শুরু থেকে বাংলা সাহিত্য ও আত্মজীবনীমূলক রচনায় ঈদকে ঘিরে স্মৃতিচারণার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। গবেষক অনুপম হায়াতের ১৯২৪ সালের ১৪ জুলাইয়ের দিনলিপিতে লেখা রয়েছে, ‘আজ ঈদুল আজহা। খাজা মওদুদ লালবাগ মসজিদে নামাজ পড়েন।’
নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী তাঁর ‘ঈদল আজহা’ বইয়ে লিখেছেন, ১৮৯৬ সালে গ্রামের আশেপাশে কোনো নির্দিষ্ট ঈদগাহ ছিল না। তাই তিনি নিজেই ধনবাড়ি গ্রামের একটি খোলা মাঠকে পরিষ্কার করে ঈদগাহ বানান। সেখানে সে বছরই প্রথম কোরবানির ঈদের জামাত হয় এবং সেই জামাতে ইমামতি করেছিলেন স্বয়ং নবাব সাহেব নিজে।
ষাটের দশকের ঈদের জামাতের চেনা ছবি পাওয়া যায় ১৯৬৭ সালের ২০ মার্চ ‘দৈনিক আজাদ’ পত্রিকায়। সেই প্রতিবেদনের বিবরণ অনুযায়ী, পুরান ঢাকার লালবাগ শাহি মসজিদ, বকশীবাজার, গেণ্ডারিয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে তখন ঈদের সবচেয়ে বড় বড় জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হতো।
আহাম্মদ ফজলুর রহমান ১৯৪৯ সালের ‘এক টুকরা জমি’ গল্পে লিখেছেন: ‘ঈদ-উল-আজহার দিন, অর্থাৎ বকরির ঈদে, পুরো গ্রামের কোরবানির গরু ও খাসিগুলি গ্রামের উত্তরে মুন্সি সাহেবদের বাড়ির কিছুটা দূরের একটি খোলা জায়গায় জবেহ করা হতো। মুন্সি সাহেব নিজে একটি চৌকি নিয়ে সেখানে বসতেন। গ্রামের কে কে কোরবানি দিচ্ছেন না—সে খবর তিনি আগেই জেনে রাখতেন। প্রতিটি পশু জবাইয়ের পর সেখান থেকে খানিকটা মাংস মুন্সি সাহেবের সামনে হাজির করা হতো। বাকি মাংস তিনি নিজেই শরিকদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়ার দায়িত্ব নিতেন।’

অলিতে-গলিতে শিশুদের কলতান, নতুন জামার আর ঘরে প্রিয় খাবারের মিষ্টি সুবাস৷ এসব ঈদের দিনের চেনা দৃশ্য। ইতিহাস বলে, কোরবানি ঈদের চিত্র সবসময় খুব আনন্দমুখর ছিল না। কখনও ধর্মীয়, কখনও সামাজিক-রাজনৈতিক দায় থেকে ঈদুল আজহা বা কোরবানি ঈদ পালনে এসেছে বিভিন্ন বাধা।
অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন তাঁর ‘বাংলাদেশের উৎসব’ (১৯৯৪) বইয়ে লিখেছেন:
‘আজকে আমরা যে ধুমধামের সঙ্গে ঈদ-উল আজহা পালন করি, তা চল্লিশ–পঞ্চাশ বছরের ঐতিহ্যমাত্র। বিশেষ করে তখন ঈদুল আজহাকে বলা হতো ‘বক্রা ঈদ, বকরিদ বা বকরি ঈদ’।
বকরি ঈদ অর্থাৎ যে ঈদে বকরি কোরবানি করা হয়। এখনও ভারতসহ বাংলাদেশের কিছু জায়গায় এই ঈদকে ‘বকরি ঈদ’ নামে ডাকা হয়।
বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যমতে, জনগণের দারিদ্র্য ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে গরু কোরবানি দেওয়া কিংবা সাড়ম্বরে মাংস বিতরণ করার ব্যাপারটি তখন খুব আয়োজন করে পালিত হতো না। বলা চলে, গরু কোরবানির রেওয়াজ শুধু নবাব পরিবারেই ছিল। ঈদুল ফিতর বা মহররম নিয়ে আত্মজীবনী বা ইতিহাসমূলক বইগুলোতে যেমন চিত্র উঠে এসেছে, কোরবানির ঈদ নিয়ে তেমনটা আসেনি।
এ ছাড়া বকরি ঈদ নিয়ে উতসাহের অভাব শুধু যে অর্থনৈতিক কারণে ছিল, তা কিন্ত নয়। রাজনৈতিক ও সামাজিক টানাপোড়েনও এর পেছনে দায়ী। জমিদারদের বৈরি মনোভাবের কারণে গরু কোরবানি দেওয়া সহজ ছিল না। ফলে এক প্রকার বাধ্য হয়েই মুসলমানেরা গরুর বদলে ছাগল বা বকরি কোরবানি করার দিকে ঝুঁকতেন।
আবুল মনসুর আহমদ তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন: ‘বক্রা ঈদে গরু কোরবানি কেউ করিত না। কারণ জমিদারের তরফ হইতে উহা কড়াকড়িভাবে নিষিদ্ধ ছিল। খাশি-বকরি কোরবানি করা চলিত। লোকেরা করিতও তা প্রচুর।’ অর্থাৎ জমিদারের তরফ হইতে কড়াকড়িভাবে নিষিদ্ধ ছিল তাই বাংলার মুসলমানরা সাধারণত বকরি কোরবানি করত। যে কারণে ঈদের নামই হয়ে গিয়েছিল বকরি ঈদ।
তৎকালীন সময়ে মুসলমানদের এই ধর্মীয় উৎসবকে তেমন গুরুত্ব সহকারে দেখা হতো না। এর প্রমাণ মেলে ১৮৯০ সালের ‘ঢাকা প্রকাশ’ পত্রিকায় ছাপা হওয়া সরকারি ছুটির তালিকায়। হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিষ্টান—এই তিন সম্প্রদায়ের জন্য পুরো বছরে মোট ১৮ দিনের ছুটি বরাদ্দ ছিল, যার মধ্যে মুসলমানদের জন্য জুটেছিল মাত্র ৩ দিন। এর মধ্যে দুই দিন ছিল মহররমের, আর ঈদুল আজহার জন্য ছিল মাত্র ১ দিনের ছুটি।
এ ছাড়া ১৮৮২ সালে ভারতবর্ষে গো-রক্ষা আন্দোলনের সূচনা হয়। এই আন্দোলনের মাধ্যমে হিন্দু সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানানো হয়, যেন মুসলমান কসাইদের কাছে গরু বিক্রি না করেন।
পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের কোরবানি দেওয়ার অধিকার রক্ষা করতে ঢাকার আহসান মঞ্জিলের নওয়াবরা সবসময়ই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ১৮৭৯ সালের ‘ঢাকা প্রকাশ’ পত্রিকার সংবাদে দেখা যায়, ৩০ ডিসেম্বর ১৮৭৯ থেকে ১ জানুয়ারি ১৮৮০ পর্যন্ত ঢাকায় সাধারণ মানুষের জন্য বিশাল গো ও মেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল।
সেখানে নবাবের জমিদারির ভালো জাতের ষাঁড়ের দাম রাখা হয় ২৫ টাকা। ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে বার্তা আসত সুদূর দিল্লী থেকে, যা আবার ঢোল পিটিয়ে শহরে প্রচার করা হতো।
গবেষক অনুপম হায়াত ১৯২৩ সালের ২৫ জুলাইয়ের দিনলিপিতে লিখেছেন, ‘খাজা মওদুদ আজ হোসেনী দালান এলাকার গরুর হাটে যান। সেখান থেকে ২৫ টাকা দামে একটি গরু কিনেন কোরবানীর জন্য।’
মূলত ১৯৪৭-এর পর অর্থাৎ দেশভাগের পর থেকে ঈদুল আজহা এই অঞ্চলে ধীরে ধীরে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্যাপিত হতে থাকে। তবে তখনো সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি। এর প্রমাণ পাওয়া যায় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘কাল নিরবধি’ বইয়ে। সেখানে লেখা, 'বকরিদে আমরা প্রতিবছর কোরবানি দিতাম না। মাঝে মাঝে তা বাদ পড়ত। ভক্তির অভাবে অতটা নয়, যতটা সামর্থ্যের অভাবে।’
আবার আনোয়ার হোসেন ‘আমার সাত দশকে’ বইতে তুলে ধরেছেন পঞ্চাশের দশকে ঈদ উদ্যাপনের চিত্র। তিনি লিখেছেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর প্রথমবার কোরবানি দিই ১৯৫৩-৫৪ সালে, ১৫-১৬ বছর বয়সে। ভাড়া করা গাড়িতে গিয়েছিলাম ফতুল্লার হাটে। যতটুকু মনে পড়ে, ৬০-৬৫ টাকা দিয়ে একটি ষাঁড় কিনেছিলাম। কোরবানি দিতাম সাধারণত ঈদের পরদিন।’
বিশ শতকের শুরু থেকে বাংলা সাহিত্য ও আত্মজীবনীমূলক রচনায় ঈদকে ঘিরে স্মৃতিচারণার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। গবেষক অনুপম হায়াতের ১৯২৪ সালের ১৪ জুলাইয়ের দিনলিপিতে লেখা রয়েছে, ‘আজ ঈদুল আজহা। খাজা মওদুদ লালবাগ মসজিদে নামাজ পড়েন।’
নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী তাঁর ‘ঈদল আজহা’ বইয়ে লিখেছেন, ১৮৯৬ সালে গ্রামের আশেপাশে কোনো নির্দিষ্ট ঈদগাহ ছিল না। তাই তিনি নিজেই ধনবাড়ি গ্রামের একটি খোলা মাঠকে পরিষ্কার করে ঈদগাহ বানান। সেখানে সে বছরই প্রথম কোরবানির ঈদের জামাত হয় এবং সেই জামাতে ইমামতি করেছিলেন স্বয়ং নবাব সাহেব নিজে।
ষাটের দশকের ঈদের জামাতের চেনা ছবি পাওয়া যায় ১৯৬৭ সালের ২০ মার্চ ‘দৈনিক আজাদ’ পত্রিকায়। সেই প্রতিবেদনের বিবরণ অনুযায়ী, পুরান ঢাকার লালবাগ শাহি মসজিদ, বকশীবাজার, গেণ্ডারিয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে তখন ঈদের সবচেয়ে বড় বড় জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হতো।
আহাম্মদ ফজলুর রহমান ১৯৪৯ সালের ‘এক টুকরা জমি’ গল্পে লিখেছেন: ‘ঈদ-উল-আজহার দিন, অর্থাৎ বকরির ঈদে, পুরো গ্রামের কোরবানির গরু ও খাসিগুলি গ্রামের উত্তরে মুন্সি সাহেবদের বাড়ির কিছুটা দূরের একটি খোলা জায়গায় জবেহ করা হতো। মুন্সি সাহেব নিজে একটি চৌকি নিয়ে সেখানে বসতেন। গ্রামের কে কে কোরবানি দিচ্ছেন না—সে খবর তিনি আগেই জেনে রাখতেন। প্রতিটি পশু জবাইয়ের পর সেখান থেকে খানিকটা মাংস মুন্সি সাহেবের সামনে হাজির করা হতো। বাকি মাংস তিনি নিজেই শরিকদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়ার দায়িত্ব নিতেন।’

নবম এবং দশম শতকে ইরাকের বাগদাদ শহর ছিল একটি বিপুল ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী অনুবাদ যজ্ঞের কেন্দ্র। এর লক্ষ্য ছিল নব্য মুসলিম সাম্রাজ্যের ভাষা আরবিতে প্রাচীন গ্রিসের বিজ্ঞান ও দর্শনবিষয়ক কাজগুলো অনুবাদ করা। অবশ্য সেই সঙ্গে বিপুল সংখ্যক সিরিয়াক, ফারসি, এবং সংস্কৃত টেক্সট-ও অনূদিত হয়েছিল।
১০ ঘণ্টা আগে
কোরবানির ঈদ মানেই যেন গরুর হাঁকডাক আর মাংস কাটাকাটির বিশাল আয়োজন। যদিও ইসলাম ধর্মে কোরবানির জন্য শুধু গরু নয় ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, উট কিংবা মহিষও বৈধ পশু। তবুও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশে গরুই কোরবানির সবচেয়ে জনপ্রিয় পশু।
১২ ঘণ্টা আগে
কোরবানির ঈদ মাংস কাটার পর হাতে মাংসের কড়া গন্ধ থেকে যায়। কাঁচা মাংসের এই আঁশটে গন্ধ সহজে পিছু ছাড়তে চায় না। অনেক সময় সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়ার পরও এই অস্বস্তিকর গন্ধ দূর হয়
১২ ঘণ্টা আগে
মানুষ সম্ভবত কথা বলার আগেই সুর চিনেছিল। পৃথিবীর শব্দ শুনেছিল। নদীর গর্জন, বাতাসের চলন, পাখির ডাক, বৃষ্টির ছন্দ—এসবের মধ্যেই মানুষ প্রথম উপলব্ধি করেছিল যে অস্তিত্ব নিছক নীরব নয়; বরং সবকিছুই এক গভীর অনুরণনের অংশ।
১৩ ঘণ্টা আগে