ইতিহাস বিকৃত করে শেখ মুজিবকে বড় করার চেষ্টা করেছেন শেখ হাসিনা: রিজভী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৬, ১৫: ১৪
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (শিল্প মন্ত্রণালয়) রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান এককভাবে তুলে ধরতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিহাস বিকৃত করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার কীর্তি বর্ণনা করলে মুজিবের ওপর ছায়া পড়বে—এমন ভয় থেকেই সত্য গোপন করা হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) সকালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট মাজার প্রাঙ্গণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, 'শেখ হাসিনা শুধু ক্ষমতা কুক্ষিগত করে দেশের মানুষের টাকা পাচার করতে চেয়েছেন। রাজনীতির সত্য ও স্বীকৃত ইতিহাসকে তিনি বিকৃত করার চেষ্টা করেছেন। জিয়াউর রহমানের কীর্তি বর্ণনা করলে শেখ মুজিবের ওপর ছায়া পড়ে যাবে—এমন ভয় থেকেই তিনি সত্য বলতে চাইতেন না।'

মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অবদানকে আড়াল করা হয়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, 'প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও শেখ মুজিবের ওপর ছায়া পড়ে যায়। এ কারণেই শেখ হাসিনা তাজউদ্দীন আহমদকে আড়াল করে তাঁকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করতেন।'

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর দিনটিকে দেশপ্রেমিক মানুষের জন্য গভীর বেদনার দিন হিসেবে উল্লেখ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জীবদ্দশায় যখনই দেশ ক্রান্তিকালে পড়েছে, তখনই শহীদ জিয়াউর রহমান মুক্তির দিশারি ও বাতিঘর হিসেবে সামনে এসেছেন।

১৯৭১ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, 'রাজনৈতিক নেতারা যখন নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছিলেন, দেশের মানুষ তখন অধিকার আদায়ে বারুদের মতো ফুঁসছিল। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ছিল না। ঠিক সেই মুহূর্তে সেনাবাহিনীর একজন মেজর হয়েও জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তাঁর সেই ঘোষণায় বারুদের স্তূপে আগুন জ্বলে ওঠার মতো দেশের তরুণ, ছাত্র ও শ্রমিকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।'

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি রাখা ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, 'মানুষের বাকস্বাধীনতা ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে খালেদা জিয়া জীবনপণ লড়াই করেছেন। তাঁকে মিথ্যা মামলায় দিনের পর দিন জরাজীর্ণ কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু একচুল পরিমাণও তাঁকে তাঁর আদর্শ ও ন্যায়ের পথ থেকে সরানো যায়নি।'

আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়নের চিত্র তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, 'অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করার কারণেই জিয়া পরিবারের ওপর শেখ হাসিনার প্রচণ্ড ক্ষোভ ছিল। এই কারণে তিনি জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিথ্যাচার ও কুৎসা রটিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে, গণমাধ্যমকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এবং গুম-খুনের ভয় দেখিয়ে তাঁরা দেশ শাসন করেছেন।'

এ সময় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কামরুল ইসলাম সজল, ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি ও বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক–বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী শফু, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম মিয়াসহ ফোরামের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত