বাসডুবিতে ২৬ মৃত্যু

পঞ্চম দিনের অনুসন্ধান চলছে, ঘটনাস্থলে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দল

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজবাড়ী

ঘটনাস্থলে তদন্ত দল। স্ট্রিম ছবি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটের সামনে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। আজ রোববার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা অন্যান্য দিনের মতো তাঁদের কার্যক্রম শুরু করেন। এদিকে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণের নিমিত্তে গঠিত নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এর আগে গতকাল শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চতুর্থ দিনের উদ্ধার অভিযান চলে। এ সময় দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটের অবশিষ্ট পন্টুনটি সরিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়। সন্ধ্যার পর উদ্ধার কার্যক্রমে বিরতি দেওয়া হয়।

আজ সকালে আবারও অনুসন্ধান শুরুর বিষয়ে রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান মো. সোহেল রানা সাংবাদিকদের বলেছেন, ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত কর্মীরা অন্যান্য দিনের মতো আজও সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেবেন। আজও সন্দেহজনক স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোতে অনুসন্ধান করা হবে। তবে অভিযান কখন বা কবে নাগাদ শেষ হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় পড়ে যাওয়া বাস। ছবি: সংগৃহীত
দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় পড়ে যাওয়া বাস। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে গত ২৫ মার্চ বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নদী পারাপারের জন্য দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছায়। ঘাটে থাকা একটি বড় ফেরি যানবাহন বোঝাই করে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ায় বাসটি অন্য ফেরির অপেক্ষায় ছিল। কয়েক মিনিট পর ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি ‘হাসনা হেনা’ ঘাটে আসে। ফেরি থেকে দুই-তিনটি যানবাহন নামানোর সময় অপেক্ষমাণ ‘সৌহার্দ্য পরিবহনে’র বাসটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুনের দিকে এগিয়ে গিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

বুধবার মধ্যরাতে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় উদ্ধারকারীরা প্রায় সাত ঘণ্টার চেষ্টায় বাসটি টেনে পন্টুনে তোলেন। এ সময় বাস থেকে ১৮ জন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীরা আরও ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার পরপর চার যাত্রীকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। সব মিলিয়ে ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রাজবাড়ী জেলার ১২টি পরিবারের ১৮ জন ছিলেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৬ জনের মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দুর্ঘটনা-কবলিত বাসটি পরিদর্শন করেছেন তদন্তকারী দলের সদস্যরা
দুর্ঘটনা-কবলিত বাসটি পরিদর্শন করেছেন তদন্তকারী দলের সদস্যরা

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম অন্য পাঁচ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে দুর্ঘটনাস্থল ৩ নম্বর ফেরিঘাট পরিদর্শন করেন। পরে তদন্ত কমিটি দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে রাখা দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিও পরিদর্শন করে।

এসময় বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ ও বিআরটিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানোর বিষয়ে প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হবে।’

সম্পর্কিত