পোশাক কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুতে ১,৭৬৮ মেগাওয়াট উৎপাদনের সম্ভাবনা: সিপিডি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ০০
শিল্প খাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ: তৈরি পোশাক খাতে চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক গবেষণা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সংগৃহীত ছবি
শিল্প খাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ: তৈরি পোশাক খাতে চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক গবেষণা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সংগৃহীত ছবি

দেশের তৈরি পোশাক কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৭ ৬৮ দশমিক ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক গবেষণা প্রতিবেদনে সংস্থাটি এ তথ্য জানায়।

রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে পঞ্চম বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরামে ‘শিল্প খাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ: তৈরি পোশাক খাতে চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক গবেষণাটি উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষকেরা।

গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে পোশাক খাত থেকে। ৩ হাজার ৩২০টি পোশাক কারখানার মধ্যে ২ হাজার ৩০৩টিকে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে প্রায় ১৮৮ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

গুগল ওপেন বিল্ডিংস ডেটাসেটের সহায়তায় প্রায় ৯৭ লাখ ২৫ হাজার ৫৯১ বর্গমিটার ছাদ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতি ৫ দশমিক ৫ বর্গমিটারে ১ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতা ধরে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা নির্ধারণ করা হয়। আঞ্চলিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গাজীপুরের ১ হাজার ১২৪টি কারখানায় ৭৩২,ঢাকার ১ হাজার ২৪৭টিতে ৩৯১, নারায়ণগঞ্জের ৫০০টিতে ২৫২ এবং চট্টগ্রামের ৩৫৯টি কারখানায় ২০৯ মেগাওয়াট-পিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ময়মনসিংহ, নরসিংদী ও পাবনাসহ আরও কয়েকটি জেলাতেও সম্ভাবনা রয়েছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, রুফটপ সোলারের মাধ্যমে পোশাক খাতের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পূরণ করা সম্ভব। বড় কারখানার বিদ্যুৎ চাহিদার ৩৯ দশমিক ৯ শতাংশ, মাঝারি কারখানার ৩৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ছোট কারখানার ৩৮ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে মেটানো সম্ভব।

সৌরবিদ্যুতের অর্থনৈতিক সুবিধার দিক তুলে ধরে সিপিডি জানায়, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিট খরচ প্রায় ৩ টাকা ৪ পয়সা, যেখানে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ব্যয় প্রায় ১০ টাকা। তবে কম সুদের সবুজ অর্থায়ন এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর অন্যতম প্রধান শর্ত।

গবেষণায় হা-মীম গ্রুপের একটি প্রকল্পকে সফল উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ডিজেলের ব্যবহার প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘পোশাক খাতে রুফটপ সোলার বা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। তবে আরও আগে এ উদ্যোগ নেওয়া গেলে বর্তমান জ্বালানি সংকটের চাপ অনেকটাই কমানো যেত।’

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতে চীনা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এতে রুফটপ সোলারের সম্ভাবনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা), বিজিএমইএ ও বিকেএমইএসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

পোশাক কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুতে ১,৭৬৮ মেগাওয়াট উৎপাদনের সম্ভাবনা: সিপিডি