স্ট্রিম ডেস্ক

বিয়ের সবচেয়ে পরিচিত রীতিগুলোর একটি হলো বিয়ের আংটি পরানো। সাধারণত সেই আংটি পরানো হয় বাম হাতের অনামিকা আঙুলে। বিশেষ করে পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বাগদান বা বিয়ের পর অনেক জুটিই এই আঙুলে আংটি পরেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিয়ের আংটি অন্য কোনো আঙুলে না পরে অনামিকাতেই কেন পরানো হয়? শুধু কি দেখতে সুন্দর লাগে বলে?
এর পেছনে রয়েছে হাজার বছরের পুরোনো বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও নানা গল্প। বিষয়টি এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে অনেকে হয়তো ভেবেও দেখেন না, এই ছোট্ট আংটিটি কেন ঠিক এই আঙুলের জন্য নির্ধারিত হলো। অথচ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাচীন মিসর, গ্রিস ও রোমান সভ্যতার ইতিহাস।
বিয়েতে আংটি পরার ইতিহাসও বহু শতাব্দী পুরোনো। প্রাচীন মিসরে আংটি ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও হায়ারোগ্লিফিক চিত্রে এর ইঙ্গিত মেলে। শুধু মিসরেই নয়, প্রাচীন বিশ্বের আরও অনেক সংস্কৃতিতে আংটি ব্যবহারের প্রচলন ছিল। গ্রিক ও রোমানদের মধ্যেও বিয়ের আংটি পরার রীতি ছিল।
অনামিকা আঙুলে বিয়ের আংটি পরার পেছনে সবচেয়ে পরিচিত গল্পগুলোর একটি হলো ‘ভেনা আমোরিস’। লাতিন ভাষায় এর অর্থ ‘ভালোবাসার শিরা’। প্রচলিত বিশ্বাস ছিল, বাম হাতের অনামিকা থেকে একটি শিরা সরাসরি হৃদপিণ্ড পর্যন্ত চলে গেছে। তাই ভালোবাসা ও দাম্পত্যের প্রতীক হিসেবে এই আঙুলে আংটি পরার রীতি তৈরি হয়েছে বলে গল্পটি প্রচলিত।
তবে এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। মানুষের বাম হাতের অনামিকা থেকে সরাসরি হৃদপিণ্ডে পৌঁছে যাওয়া বিশেষ কোনো শিরা নেই। ‘ভেনা আমোরিস’ মূলত একটি ঐতিহাসিক বিশ্বাস ও রোমান্টিক ধারণা, শারীরবৃত্তীয় সত্য নয়।
প্রাচীন বিশ্বাসে ভেনা আমোরিসের উপস্থিতি থাকলেও চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বাম হাতের অনামিকা থেকে সরাসরি হৃদপিণ্ডে চলে গেছে এমন কোনো বিশেষ শিরা নেই। অর্থাৎ ‘ভেনা আমোরিস’ আসলে মানুষের শরীরে থাকা কোনো বাস্তব শিরা নয়। প্রাচীন মানুষের শরীর সম্পর্কে জ্ঞান আজকের মতো উন্নত ছিল না বলে ফলে শরীরের গঠন নিয়ে নানা বিশ্বাস ও ধারণা প্রচলিত ছিল। ‘ভালোবাসার শিরা’ও তেমনই একটি ধারণা।
হৃদপিণ্ডের মূল কাজ হলো সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন করা। কিন্তু তারপরও ভালোবাসা ও আবেগ প্রকাশ করতে আমরা এখনো হৃদয়ের উদাহরণ দিই। হয়তো এ কারণেই রবিঠাকুর লিখেছিলেন, ‘হৃদয়ের এ কূল-ও কূল, দু’কূল ভেসে যায়’। অর্থাৎ হৃদপিণ্ডকে শুধু শরীরের অঙ্গ হিসেবে না দেখে আমরা নিজেদের আবেগ-অনুভূতির অংশ হিসেবে দেখি। এর সঙ্গে চিকিতসাবিজ্ঞানের সম্পর্ক নেই, সম্পর্ক আমাদের বিশ্বাস, সংস্কৃতি আর কল্পনাশক্তির।
আর সেই একই কারণে অনামিকায় বিয়ের আংটি পরার পুরোনো রীতিও টিকে গেছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর অনেক জায়গায় বাঁ হাতের অনামিকায় বিয়ের আংটি পরার রীতি বেশি প্রচলিত। কিন্তু পৃথিবীর সব জায়গায় একই নিয়ম নেই। ইউরোপের কিছু দেশ এবং ভারতেও ডান হাতের অনামিকায় বিয়ের আংটি পরার চল রয়েছে। আবার দক্ষিণ আমেরিকার কিছু সংস্কৃতিতে বাগদানের আংটি ডান হাতে পরানো হয়, পরে বিয়ের পর সেটি বাঁ হাতে সরিয়ে নেওয়ার রীতিও আছে।
অর্থাৎ বিয়ের আংটি কোন হাতে পরতে হবে, এ বিষয়ে বিশ্বজুড়ে একক কোনো নিয়ম নেই।
ভৌগোলিক অঞ্চল, ধর্ম, সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে এই রীতি বদলে যায়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি কিছুটা আলাদা। এখানে বিয়েতে আংটি পরানোর প্রচলন থাকলেও সেটি নির্দিষ্ট কোনো আঙুলে বা হাতে পরতেই হবে—এমন বাধ্যতামূলক সামাজিক রীতি নেই। কেউ অনামিকায় পরেন, কেউ অন্য আঙুলে। আবার কেউ আংটি পরেনই না।
পশ্চিমা অনেক সমাজে অনামিকায় আংটি থাকা বাগদান বা বিবাহিত হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে এমন কোনো সর্বজনীন সামাজিক সংকেত নেই। যে কেউ নিজের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো আঙুলে আংটি পরতে পারেন।
সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনযাপন বদলেছে। বদলেছে চিকিৎসাবিজ্ঞানও। শরীর সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এখন অনেক বেশি। আমরা জানি, ‘ভালোবাসার শিরা’ নামে বিশেষ কোনো শিরা নেই। তবু অনামিকায় বিয়ের আংটি পরার রীতি হারিয়ে যায়নি।
এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ সম্ভবত ঐতিহ্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা কোনো রীতি একসময় শুধু একটি প্রথা থাকে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে যায় মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও পারিবারিক সংস্কৃতি।
তার সঙ্গে বিয়ের আংটির রয়েছে আলাদা প্রতীকী অর্থ। অনেকের কাছে এটি ভালোবাসা, প্রতিশ্রুতি ও সম্পর্কের স্থায়িত্বের চিহ্ন। তাই ‘ভেনা আমোরিস’-এর গল্প বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য না হলেও, তার তৈরি করা প্রতীকটি রয়ে গেছে।

বিয়ের সবচেয়ে পরিচিত রীতিগুলোর একটি হলো বিয়ের আংটি পরানো। সাধারণত সেই আংটি পরানো হয় বাম হাতের অনামিকা আঙুলে। বিশেষ করে পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বাগদান বা বিয়ের পর অনেক জুটিই এই আঙুলে আংটি পরেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিয়ের আংটি অন্য কোনো আঙুলে না পরে অনামিকাতেই কেন পরানো হয়? শুধু কি দেখতে সুন্দর লাগে বলে?
এর পেছনে রয়েছে হাজার বছরের পুরোনো বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও নানা গল্প। বিষয়টি এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে অনেকে হয়তো ভেবেও দেখেন না, এই ছোট্ট আংটিটি কেন ঠিক এই আঙুলের জন্য নির্ধারিত হলো। অথচ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাচীন মিসর, গ্রিস ও রোমান সভ্যতার ইতিহাস।
বিয়েতে আংটি পরার ইতিহাসও বহু শতাব্দী পুরোনো। প্রাচীন মিসরে আংটি ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও হায়ারোগ্লিফিক চিত্রে এর ইঙ্গিত মেলে। শুধু মিসরেই নয়, প্রাচীন বিশ্বের আরও অনেক সংস্কৃতিতে আংটি ব্যবহারের প্রচলন ছিল। গ্রিক ও রোমানদের মধ্যেও বিয়ের আংটি পরার রীতি ছিল।
অনামিকা আঙুলে বিয়ের আংটি পরার পেছনে সবচেয়ে পরিচিত গল্পগুলোর একটি হলো ‘ভেনা আমোরিস’। লাতিন ভাষায় এর অর্থ ‘ভালোবাসার শিরা’। প্রচলিত বিশ্বাস ছিল, বাম হাতের অনামিকা থেকে একটি শিরা সরাসরি হৃদপিণ্ড পর্যন্ত চলে গেছে। তাই ভালোবাসা ও দাম্পত্যের প্রতীক হিসেবে এই আঙুলে আংটি পরার রীতি তৈরি হয়েছে বলে গল্পটি প্রচলিত।
তবে এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। মানুষের বাম হাতের অনামিকা থেকে সরাসরি হৃদপিণ্ডে পৌঁছে যাওয়া বিশেষ কোনো শিরা নেই। ‘ভেনা আমোরিস’ মূলত একটি ঐতিহাসিক বিশ্বাস ও রোমান্টিক ধারণা, শারীরবৃত্তীয় সত্য নয়।
প্রাচীন বিশ্বাসে ভেনা আমোরিসের উপস্থিতি থাকলেও চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বাম হাতের অনামিকা থেকে সরাসরি হৃদপিণ্ডে চলে গেছে এমন কোনো বিশেষ শিরা নেই। অর্থাৎ ‘ভেনা আমোরিস’ আসলে মানুষের শরীরে থাকা কোনো বাস্তব শিরা নয়। প্রাচীন মানুষের শরীর সম্পর্কে জ্ঞান আজকের মতো উন্নত ছিল না বলে ফলে শরীরের গঠন নিয়ে নানা বিশ্বাস ও ধারণা প্রচলিত ছিল। ‘ভালোবাসার শিরা’ও তেমনই একটি ধারণা।
হৃদপিণ্ডের মূল কাজ হলো সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন করা। কিন্তু তারপরও ভালোবাসা ও আবেগ প্রকাশ করতে আমরা এখনো হৃদয়ের উদাহরণ দিই। হয়তো এ কারণেই রবিঠাকুর লিখেছিলেন, ‘হৃদয়ের এ কূল-ও কূল, দু’কূল ভেসে যায়’। অর্থাৎ হৃদপিণ্ডকে শুধু শরীরের অঙ্গ হিসেবে না দেখে আমরা নিজেদের আবেগ-অনুভূতির অংশ হিসেবে দেখি। এর সঙ্গে চিকিতসাবিজ্ঞানের সম্পর্ক নেই, সম্পর্ক আমাদের বিশ্বাস, সংস্কৃতি আর কল্পনাশক্তির।
আর সেই একই কারণে অনামিকায় বিয়ের আংটি পরার পুরোনো রীতিও টিকে গেছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর অনেক জায়গায় বাঁ হাতের অনামিকায় বিয়ের আংটি পরার রীতি বেশি প্রচলিত। কিন্তু পৃথিবীর সব জায়গায় একই নিয়ম নেই। ইউরোপের কিছু দেশ এবং ভারতেও ডান হাতের অনামিকায় বিয়ের আংটি পরার চল রয়েছে। আবার দক্ষিণ আমেরিকার কিছু সংস্কৃতিতে বাগদানের আংটি ডান হাতে পরানো হয়, পরে বিয়ের পর সেটি বাঁ হাতে সরিয়ে নেওয়ার রীতিও আছে।
অর্থাৎ বিয়ের আংটি কোন হাতে পরতে হবে, এ বিষয়ে বিশ্বজুড়ে একক কোনো নিয়ম নেই।
ভৌগোলিক অঞ্চল, ধর্ম, সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে এই রীতি বদলে যায়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি কিছুটা আলাদা। এখানে বিয়েতে আংটি পরানোর প্রচলন থাকলেও সেটি নির্দিষ্ট কোনো আঙুলে বা হাতে পরতেই হবে—এমন বাধ্যতামূলক সামাজিক রীতি নেই। কেউ অনামিকায় পরেন, কেউ অন্য আঙুলে। আবার কেউ আংটি পরেনই না।
পশ্চিমা অনেক সমাজে অনামিকায় আংটি থাকা বাগদান বা বিবাহিত হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে এমন কোনো সর্বজনীন সামাজিক সংকেত নেই। যে কেউ নিজের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো আঙুলে আংটি পরতে পারেন।
সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনযাপন বদলেছে। বদলেছে চিকিৎসাবিজ্ঞানও। শরীর সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এখন অনেক বেশি। আমরা জানি, ‘ভালোবাসার শিরা’ নামে বিশেষ কোনো শিরা নেই। তবু অনামিকায় বিয়ের আংটি পরার রীতি হারিয়ে যায়নি।
এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ সম্ভবত ঐতিহ্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা কোনো রীতি একসময় শুধু একটি প্রথা থাকে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে যায় মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও পারিবারিক সংস্কৃতি।
তার সঙ্গে বিয়ের আংটির রয়েছে আলাদা প্রতীকী অর্থ। অনেকের কাছে এটি ভালোবাসা, প্রতিশ্রুতি ও সম্পর্কের স্থায়িত্বের চিহ্ন। তাই ‘ভেনা আমোরিস’-এর গল্প বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য না হলেও, তার তৈরি করা প্রতীকটি রয়ে গেছে।
.png)

প্রতি মাসের শুরুতেই আমরা অনেকেই ঠিক করি, এবার কিছু টাকা জমাব। বেতন হাতে আসার পর মনে হয়, এই মাসে আর অযথা খরচ নয়। কিন্তু মাস যত গড়াতে থাকে, সেই পরিকল্পনাও ধীরে ধীরে ভুলে যাই। মাস শেষে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা পকেটের দিকে তাকিয়ে দেখা যায়, জমার মতো টাকা আর অবশিষ্ট নেই। ফলে সঞ্চয়ের পরিকল্পনা আবারও পিছিয়ে য
১৫ আগস্ট ২০২৬
একসঙ্গে থাকতে থাকতে অনেক দম্পতির জীবনেই একটা সময় আসে, যখন দুজনের মধ্যে আগের মতো ঘনিষ্ঠতা থাকে না। ভালোবাসা হয়তো আছে, কিন্তু কথা বলার সময় কমে যায়। কারও অফিস শেষ হতে রাত হয়ে যায়, কেউ আবার সারাদিন ঘরের কাজ সামলে ক্লান্ত। এর সঙ্গে যোগ হয় অভিমান, মানসিক চাপ কিংবা সম্পর্কের ছোট ছোট দূরত্ব। একসময় দেখা যায়,
১৪ আগস্ট ২০২৬
বিড়ালকে পরিবারের সদস্যের মতো করে যাঁরা বড় করেন, তাঁদের অনেকেই নিজেদের ‘ক্যাট মম’ বলতে পছন্দ করেন। কারও জীবনে এই সম্পর্কের শুরু অসুস্থ বিড়ালকে বাঁচানো থেকে, কারও আবার হঠাৎ পাওয়া বিড়ালছানাকে ঘিরে।