সরেজমিন/ডেঙ্গু ওয়ার্ডে মশারি ছাড়াই রোগীরা, কর্তৃপক্ষও নির্বিকার

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ১৪
স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

সংক্রমণ ছড়ানোর নিশ্চিত ঝুঁকি সত্ত্বেও রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে মশারি ছাড়াই চলছে চিকিৎসা। সরেজমিনে হাসপাতালটির নারী-পুরুষ উভয় ওয়ার্ডে একজন ডেঙ্গু রোগীর শয্যায়ও মশারি টানাতে দেখা যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরও ছিল না কোনো উচ্চবাচ্য।

বুধবার হাসপাতালটিতে দেখা যায়, পুরুষ ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৫০ জন এবং নারী ওয়ার্ডে ৩৯ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের কারও বেডে মশারি টানানো নেই। কারও মশারি গুটিয়ে রাখা, কারও বেডে তাও নেই।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের কাছে পর্যাপ্ত মশারি রয়েছে। রোগী ও স্বজনদের বারবার টানাতে বলা হচ্ছে। তবে তারা কথা শুনছেন না। আর রোগী ও স্বজনদের ভাষ্য, মশারিগুলো ছোট। উন্নতমানের না হওয়ায় ভেতরে বাতাস চলাচল কম। এতে অস্বস্তির কারণে তারা মশারি টানান না।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৫০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সবমিলিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২৭ হাজার ২২ জন।

রোগীদের অনীহা, তাগাদা দিয়েই দায় সারছে কর্তৃপক্ষ

ডেঙ্গুর ভাইরাস ছড়ায় এডিস মশার মাধ্যমে। সংক্রমিত রোগী মশারির বাইরে থাকলে সহজেই এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। এরপরও মশারি না টানানো নিয়ে রোগী ও স্বজনদের প্রশ্ন করলে তাদের কেউ গরম লাগার, কেউ ফ্যানের বাতাস ভেতরে না যাওয়ার অজুহাত দেন। দুজন আবার দাবি করেন, হাসপাতাল থেকে মশারি দেওয়া হয়নি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাসিন্দা আল-আমিন গত পাঁচ দিন ধরে এই হাসপাতালে ভর্তি। সঙ্গে থাকা তাঁর বাবার কাছে মশারি না টানানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘মশারি টানালে ভেতরে বাতাস কম লাগে, ছোটও। মশারি আরও ভালোমানের হলে এবং ওয়ার্ডে আলো-বাতাসের ব্যবস্থা ভালো থাকলে রোগীদের জন্য সুবিধা হতো।’

মিরপুর-১-এর ল্যাবরেটরি এলাকার বাসিন্দা মো. নিজামুদ্দীনও জানান একই কথা। তিনি অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে এই হাসপাতালে আছেন ১৩ আগস্ট থেকে। নিজামুদ্দীন বলেন, ‘ফ্যানের বাতাস মশারির ভেতর কাভার করে না। আলাদা টেবিল ফ্যান লাগে।’

আর রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালটিতে ভর্তি ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রিফাত হাসান ও তাঁর ছোট ভাই মো. মঞ্জুর অভিযোগ, তাদেরকে হাসপাতাল থেকে মশারি দেওয়া হয়নি।

তবে হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের নার্স ইনচার্জ শামীমা নাসরিন জানান, রোগীদের মশারি না দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি বলেন, মশারি আমাদের এখানে অতিরিক্ত। ৫০ বেডের বিপরীতে আছে ৫৫টি। আমরা প্রতিনিয়ত মশারি টানানোর জন্য তাগাদা দিচ্ছি, কিন্তু তারা শুনছেন না। উল্টো রোগীরা আমাদের সঙ্গে ঝগড়া করেন।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নন্দ দুলাল সাহা স্ট্রিমকে বলেন, পর্যাপ্ত মশারি রয়েছে। হাসপাতালের নার্সরা রোগীদের মশারি টানানোর বিষয়ে নিয়মিত বলছেন। কিন্তু রোগীদের মধ্যেই মশারি টানানোর বিষয়ে অনীহা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত বেড আছে ১৪০টি। এর মধ্যে পুরুষ ওয়ার্ডে ৫০টি এবং নারী ওয়ার্ডে ৪০টি। বাকি ৫০টি রয়েছে মেডিসিন বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটে। বছরের শুরু থেকে বুধবার পর্যন্ত এখানে ১ হাজার ৭০১ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ভর্তি রয়েছেন ১০৮ জন।

চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বেডের চেয়ে রোগী বেশি হয়ে গেলে তাদের হিমশিম খেতে হয়। তখন মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপরও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতের চেষ্টায় করা হয়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

ডেঙ্গু ওয়ার্ডে মশারি ছাড়াই রোগীরা, কর্তৃপক্ষও নির্বিকার