বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং, রাঙামাটির দীপন তালুকদার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বান্দরবান ও রাঙামাটি

বান্দরবানের জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাম্যাচিং ও রাঙামারি চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার। স্ট্রিম গ্রাফিকস
বান্দরবানের জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাম্যাচিং ও রাঙামারি চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার। স্ট্রিম গ্রাফিকস

বান্দরবান ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন পরিষদ গঠন করেছে সরকার। এতে বান্দরবানে নতুন পরিষদের চেয়ারম্যান হয়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মিজ মাম্যাচিং। অপরদিকে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার (দীপু)। এছাড়া উভয় জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান ছাড়াও ১৪ জন করে সদস্য পর্ষদ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানা যায়। নতুন পরিষদ ঘোষণার পাশাপাশি ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গঠিত আগের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের পরিষদ-১ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ও সংশোধিত আইনে নতুন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন পরিষদ বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সব দায়িত্ব পালন করবে।

চেয়ারম্যান মিজ মাম্যাচিং ছাড়াও নতুন পরিষদের সদস্যরা হলেন চনুমং, মং কানু মারমা, লুসাই মং, মাওসেতুং তংচংগ্যা, দনওয়াই ম্রো, আগস্টিন ত্রিপুরা, অংজাই উচ্ছাক, রিয়াল দাও বম, আবদুল মাবুদ, মশিউর রহমান, মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন, ক্যউপু খিয়াং, উম্যাসিং মার্মা ও কাজী নিরুতাজ বেগম।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মাম্যাচিং ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর পঞ্চম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য (এমপি) ছিলেন। এছাড়া ২০০১-০৬ পর্যন্ত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। সর্বশেষ তিনি বিএনপির উপজাতি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। একাধিক মেয়াদে তিনি বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির সদস্য।

এদিকে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার ছাড়াও নতুন পরিষদের সদস্যরা হলেন শাশ্বত চাকমা, বিল্টু চাকমা, সুবিমল চাকমা, অনিল বিরণ চাকমা, উথোয়াইমং মার্মা, পাইচিং মং মার্মা, প্রেমা তালুকদার, তিমথী খিয়াং, সুপর্ণ দেব বর্মণ, মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ, মো. তোফাজ্জল হোসেন, মোহাম্মদ ফারুক, নন্দিতা দাশ ও চন্দ্রা চাকমা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুনর্গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সব দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর প্রজ্ঞাপনে সাবেক কৃষি কর্মকর্তা দীপন তালুকদারের সহোদর কাজল তালুকদারকে চেয়ারম্যান করে ১৫ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করেছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

দীপন তালুকদার ছাড়াও এবারের পরিষদে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রা চাকমাসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতারা স্থান পেয়েছেন। সেই সঙ্গে স্থান পেয়েছেন সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ।

সদ্যঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার বলেন, নতুন বাংলাদেশ ও নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা দৃঢ়ভাবে কাজ করার প্রচেষ্টা করব। সমাজের উন্নয়নে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না। এছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষাসহ পাহাড়ের প্রভৃতি উন্নয়নে আরও গুরুত্বারোপ করব।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং, রাঙামাটির দীপন তালুকদার