কুয়াকাটায় আবারও ভেসে এল বিশাল বেলিন তিমির মরদেহ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বরিশাল

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসা বেলিন তিমির মরদেহ ঘিরে উপরা সদস্যরা। স্ট্রিম ছবি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ২৬ দিনের ব্যবধানে আবারও বিশাল আকৃতির একটি মৃত বেলিন তিমি ভেসে এসেছে। গতকাল সোমবার (২৯ জুন) দুপুরের দিকে কুয়াকাটার গঙ্গামতি এলাকার বসুধা আইল্যান্ডে প্রায় ৫৫ ফুট দৈর্ঘ্যের তিমিটি দেখা যায়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে সৈকতেই তিমিটির মরদেহ বালু চাপা দেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তিমিটির প্রজাতি শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করে দেখা হবে। তিমিটির কঙ্কাল সংরক্ষণের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী বালু চাপা দেওয়া হয়েছে তিমিটির দেহ।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, সোমবার স্থানীয় ট্যুরিস্ট গাইড তরিকুল ইসলা প্রথম তিমিটির মৃতদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি বন বিভাগকে অবহিত করা হয়। তিমিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৫ ফুট ও প্রস্থ ১৬ ফুট। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিমিটি মারা গেছে। তবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, কুয়াকাটার গঙ্গামতি এলাকার কাউয়ারচরসংলগ্ন সৈকতে ভেসে আসা তিমিটির মাথা ও লেজের অংশ নেই। অবশিষ্ট দেহাংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ ফুট। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, জীবিত অবস্থায় তিমিটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৫৫ ফুট।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স ও মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এটি একটি বেলিন তিমি। এ ধরনের তিমি প্ল্যাঙ্কটন ও ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণী ছেঁকে খাদ্য গ্রহণ করে। সমুদ্রে পরিবেশগত পরিবর্তন, খাদ্যের সংকট, অসুস্থতা, জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ বা সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে এ ধরনের বড় সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী উপকূলে ভেসে আসতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইয়াসীন সাদেক বলেন, তিমিটি পচনশীল অবস্থায় থাকায় দুর্গন্ধ এড়াতে বন বিভাগ ও কুয়াকাটা পৌরসভার সহযোগিতায় সেটিকে মাটি চাপা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপকূল ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, এর আগে ২০১৮ ও ২০২২ সালে কুয়াকাটা উপকূলে মৃত তিমি পাওয়া যায়। চলতি বছরের ৩ জুনও একই সৈকতে একটি মৃত তিমি ভেসে এসেছিল। মাত্র ২৬ দিনের ব্যবধানে আবারও একটি বেলিন তিমির মৃতদেহ পাওয়া সামুদ্রিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উপরার যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, সম্প্রতি উপকূলে বারবার তিমি, ডলফিন ও সামুদ্রিক কচ্ছপের মৃতদেহ ভেসে আসছে। বিষয়টি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য উদ্বেগজনক। এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত