স্ট্রিম সংবাদদাতা

ঈদে বিভিন্ন পেশাজীবীরা নানা আয়োজন করলেও কৃষকদের জন্য অনুষ্ঠানের খোঁজ মেলে না। তবে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় হাবিবপুর গ্রামে এমনই এক অনুষ্ঠান করেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দয়াল ফাউন্ডেশন। কৃষকের ঈদ সন্ধ্যা নামে এই উৎসব রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় শুরু হয়ে চলে গভীর রাত পর্যন্ত।
ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে গাছপালায় ঘেরা মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মূল আকর্ষণ ছিল বাউল গানের আসর। আপ্যায়নে ছিল ঐতিহ্যের ছোঁয়া। দর্শকদের দেওয়া হয় ধোঁয়া ওঠা গরম জিলাপি ও মুড়ি। গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই আয়োজনে অংশ নিয়ে অনেকেই যেন ফিরে পান হারিয়ে যাওয়া শিকড়ের টান।
অনুষ্ঠান উপভোগে এদিন সন্ধ্যায় হাবিবপুরসহ আশপাশের কয়েক গ্রামে মানুষ ভিড় জমান। একতারা-দোতারার সুরে মরমি গানের কথা ও আড্ডায় কৃষকেরা কিছুক্ষণের জন্য ভুলে যান তাদের প্রতিদিনের কঠোর পরিশ্রম ও ক্লান্তির কথা।
আব্দুল কুদ্দুস নামে এক কৃষক বলেন, ‘সারাদিন রোদে পুড়ে কাম করি। ঈদে একটু আনন্দ করার সুযোগ পাই না। কিন্তু আজ জিলিপি-মুড়ি খাতি খাতি বাউল গান শুনে মনটা জুড়িয়ে গেল। আমাগের মতো কৃষকের জন্য এমন আয়োজন আগে দেহিনি।’
পরিবারের সঙ্গে আসা রহিমা খাতুন বলেন, ‘সংসারের চাপে বাইরে যাওয়ার সময় হয় না। বাড়ির পাশেই এত সুন্দর গানের আসর দেখে খুব ভালো লাগছে। বাচ্চারাও জিলিপি খেয়ে খুব খুশি। আমরা চাই এমন আয়োজন প্রতি বছর হোক।’
কয়েকজন দর্শক জানান, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে মানুষ ধীরে ধীরে নিজস্ব সংস্কৃতি ও শিকড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরে। পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনকে আরও মজবুত করে।
বাউল শিল্পী মানিক জোয়ার্দ্দার আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা গান গাই মানুষের জন্য, মাটির জন্য। আগে গ্রাম-গঞ্জে প্রচুর বাউল গানের আসর হতো, রাতভর মানুষ গান শুনত। কিন্তু এখন আর আগের মতো এসব আয়োজন চোখে পড়ে না। মানুষ এখন যান্ত্রিক বিনোদনে মজেছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে এই অমূল্য সম্পদ বিলীন হয়ে যাবে।’
এদিকে সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত লেখক ও কবি রফিক রেজা প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয়। এ বিষয়ে সাংস্কৃতিক সংগঠক মিরাজ হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন কবি রফিক রেজা। তিনি শিল্প ও সাহিত্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল। বিশেষ করে লালন শাহকে নিয়ে তাঁর গবেষণাভিত্তিক লেখা ছিল। অকালে তাঁর মৃত্যু সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।’
কৃষকদের ভাবনার আদান-প্রদান ও সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার প্রয়াস থেকে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন বলে জানান দয়াল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী লাবাবুল বাশার দয়াল। তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছি ঈদ যেন শুধু বড়লোকদের না হয়, ঈদের আনন্দ যেন মাঠের কৃষকের দুয়ারেও পৌঁছায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাউল গান আমাদের মাটি ও মানুষের কথা বলে। গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে আমরা কৃষকের ঈদ সন্ধ্যার আয়োজন করেছি। মানুষের ভালোবাসা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই উৎসব চালিয়ে যাব।’

ঈদে বিভিন্ন পেশাজীবীরা নানা আয়োজন করলেও কৃষকদের জন্য অনুষ্ঠানের খোঁজ মেলে না। তবে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় হাবিবপুর গ্রামে এমনই এক অনুষ্ঠান করেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দয়াল ফাউন্ডেশন। কৃষকের ঈদ সন্ধ্যা নামে এই উৎসব রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় শুরু হয়ে চলে গভীর রাত পর্যন্ত।
ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে গাছপালায় ঘেরা মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মূল আকর্ষণ ছিল বাউল গানের আসর। আপ্যায়নে ছিল ঐতিহ্যের ছোঁয়া। দর্শকদের দেওয়া হয় ধোঁয়া ওঠা গরম জিলাপি ও মুড়ি। গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই আয়োজনে অংশ নিয়ে অনেকেই যেন ফিরে পান হারিয়ে যাওয়া শিকড়ের টান।
অনুষ্ঠান উপভোগে এদিন সন্ধ্যায় হাবিবপুরসহ আশপাশের কয়েক গ্রামে মানুষ ভিড় জমান। একতারা-দোতারার সুরে মরমি গানের কথা ও আড্ডায় কৃষকেরা কিছুক্ষণের জন্য ভুলে যান তাদের প্রতিদিনের কঠোর পরিশ্রম ও ক্লান্তির কথা।
আব্দুল কুদ্দুস নামে এক কৃষক বলেন, ‘সারাদিন রোদে পুড়ে কাম করি। ঈদে একটু আনন্দ করার সুযোগ পাই না। কিন্তু আজ জিলিপি-মুড়ি খাতি খাতি বাউল গান শুনে মনটা জুড়িয়ে গেল। আমাগের মতো কৃষকের জন্য এমন আয়োজন আগে দেহিনি।’
পরিবারের সঙ্গে আসা রহিমা খাতুন বলেন, ‘সংসারের চাপে বাইরে যাওয়ার সময় হয় না। বাড়ির পাশেই এত সুন্দর গানের আসর দেখে খুব ভালো লাগছে। বাচ্চারাও জিলিপি খেয়ে খুব খুশি। আমরা চাই এমন আয়োজন প্রতি বছর হোক।’
কয়েকজন দর্শক জানান, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে মানুষ ধীরে ধীরে নিজস্ব সংস্কৃতি ও শিকড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরে। পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনকে আরও মজবুত করে।
বাউল শিল্পী মানিক জোয়ার্দ্দার আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা গান গাই মানুষের জন্য, মাটির জন্য। আগে গ্রাম-গঞ্জে প্রচুর বাউল গানের আসর হতো, রাতভর মানুষ গান শুনত। কিন্তু এখন আর আগের মতো এসব আয়োজন চোখে পড়ে না। মানুষ এখন যান্ত্রিক বিনোদনে মজেছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে এই অমূল্য সম্পদ বিলীন হয়ে যাবে।’
এদিকে সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত লেখক ও কবি রফিক রেজা প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয়। এ বিষয়ে সাংস্কৃতিক সংগঠক মিরাজ হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন কবি রফিক রেজা। তিনি শিল্প ও সাহিত্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল। বিশেষ করে লালন শাহকে নিয়ে তাঁর গবেষণাভিত্তিক লেখা ছিল। অকালে তাঁর মৃত্যু সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।’
কৃষকদের ভাবনার আদান-প্রদান ও সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার প্রয়াস থেকে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন বলে জানান দয়াল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী লাবাবুল বাশার দয়াল। তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছি ঈদ যেন শুধু বড়লোকদের না হয়, ঈদের আনন্দ যেন মাঠের কৃষকের দুয়ারেও পৌঁছায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাউল গান আমাদের মাটি ও মানুষের কথা বলে। গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে আমরা কৃষকের ঈদ সন্ধ্যার আয়োজন করেছি। মানুষের ভালোবাসা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই উৎসব চালিয়ে যাব।’

পাবনার সুজানগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি সমর্থক দু’পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক গৃহবধূ প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়।
৩২ মিনিট আগে
দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচিতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্য
২ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কোনাপাড়া এলাকায় লিফট স্থাপনের জন্য রাখা ফাঁকা জায়গা দিয়ে নিচে পড়ে হালিমা কায়সার বকুল (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি মমিনবাগ এলাকার পবন আলীর মেয়ে।
৩ ঘণ্টা আগে
মশা নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন প্রতিবছর শতকোটি টাকার বেশি খরচ করে। কিন্তু কমে না মশার উপদ্রব। এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর কয়েকশ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। এবারও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন কীটতত্ত্ববিদরা।
৭ ঘণ্টা আগে