অভ্যুত্থানের পর প্রথম গুমের অভিযোগ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ১৯: ৪৪
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে প্রথম গুমের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সোমবার (২০ জুলাই) বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানায় সংস্থাটি।

দেশের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ১০ এপ্রিল রাতে মোংলার সুন্দরবনের কাছে জয়মনির ঘোল এলাকা থেকে ৩০ বছর বয়সী জেলে মিরাজ শেখ নিখোঁজ হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কোস্টগার্ডের সদস্যরা স্পিডবোটে করে মিরাজকে তুলে নিয়ে যায়। পরে মিরাজের বাবা একটি রিট পিটিশন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ জুলাই হাইকোর্ট আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মিরাজকে আদালতে হাজির করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেন।

কোস্টগার্ডের পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহবুব হোসেন মিরাজকে আটক করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে এইচআরডব্লিউ এই ঘটনাকে বিগত দুই বছরের মধ্যে প্রথম গুমের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

এইচআরডব্লিউয়ের এশিয়া অঞ্চলের ডেপুটি ডিরেক্টর মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, ‘শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে হাজার হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। মিরাজের গুমের ঘটনা প্রমাণ করে, প্রকৃত সংস্কার ছাড়া এ ধরনের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। নতুন সরকারের উচিত অবিলম্বে যথাযথ আইনি সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত করা।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের নভেম্বরে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছিল। এর মাধ্যমে কমিশনকে আদালতের অনুমতি ছাড়াই আটক কেন্দ্র পরিদর্শন এবং গুমের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি সরকার এই অধ্যাদেশগুলোর মেয়াদ শেষ হতে দিয়েছে এবং নতুন আইন প্রস্তাব করেছে। নতুন আইন মানবাধিকার কমিশনকে নিরাপত্তা বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তে বাধা দেবে এবং গুমের তদন্তভার পুলিশের হাতেই ন্যস্ত করবে।

প্রস্তাবিত আইনের সংশোধনের দাবি জানিয়ে মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, পুলিশকে দিয়ে গুমের তদন্ত করালে কখনো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে না।

বিবৃতিতে জানানো হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের একটি কমিশন ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১ হাজার ৫৬৯টি গুমের ঘটনা চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৮২ জন দীর্ঘ গোপন বন্দিদশার পর ফিরে এলেও ২৫১ জনের সন্ধান মেলেনি এবং ৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই গুমের পেছনে ডিবির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, র‍্যাব এবং ডিজিএফআইয়ের মতো নিরাপত্তা বাহিনী জড়িত ছিল।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত