চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ৩৮
সংঘর্ষের পর চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে দেয়াল-লিখনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হয়ে বিকেলেও নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কলেজ সূত্র জানায়, কলেজের একটি ভবনের দেয়ালে থাকা গ্রাফিতিতে ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা ছিল। সোমবার রাতে ছাত্রদলের কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দিয়ে তার পরিবর্তে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

সকালের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বিকেল ৪টার দিকে আবারও মুখোমুখি হয় দুই পক্ষ। এ সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। কলেজ ক্যাম্পাসের সামনেও উভয় পক্ষকে একে অপরকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়তে দেখা যায়।

পরিস্থিতির অবনতি হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ দিনের ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ ও মাস্টার্সের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও শুরুতে তাদের তৎপরতা সীমিত ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রাধান্য দেখা যায় এবং তারা দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন। সংঘর্ষের পরও লাঠিসোঁটা হাতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অবস্থান লক্ষ করা গেছে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকে হয়েছে। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।’

সম্পর্কিত