চার জেলায় ধর্ষণের অভিযোগ, চিকিৎসক-ইমামসহ গ্রেপ্তার ৩

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ধর্ষণ। প্রতীকী ছবি

ঢাকাসহ চার জেলায় পৃথক ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে। ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বজনের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জে মসজিদে সাত বছর বয়সীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইমাম, যশোরে শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল করার মামলায় চিকিৎসক এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জে চার বছর বয়সীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় এক যুবক গ্রেপ্তার হয়েছেন। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নয় বছর বয়সীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে।

কিশোরগঞ্জে ইমাম আটক

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মসজিদে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মসজিদের ইমাম মাহবুব ওরফে মাহবুল্লাহকে (২৩) আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের পশ্চিম তারাকান্দি জামে মসজিদ থেকে তাকে আটক করা হয়।

মাহবুল্লাহ নেত্রকোনার পূর্বধলার খলিশাপুর ইউনিয়নের বনপাড়া গ্রামের মৃত শাহেদ আলী আকন্দের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, মাহবুল্লাহ এক মাস ধরে তারাকান্দি জামে মসজিদে ইমামতি করছেন। শিশুটি ইমামের জন্য বাড়ি থেকে দুপুরের খাবার নিয়ে গেলে, সুযোগ বুঝে তাকে সে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী ইমামকে ধরে পুলিশে দেয়।

কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

যশোরে শ্যালিকার মামলায় চিকিৎসক কারাগারে

যশোরের মণিরামপুরে শ্যালিকাকে ধর্ষণ এবং ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার মামলায় পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার রাফসান জানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ মে) রাতে যশোর উপশহর এলাকার নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

এজাহারে বলা হয়, তিন বছর আগে পড়াশোনা করানো এবং নিজের সন্তানদের দেখাশোনার কথা বলে শ্যালিকাকে যশোরে নিজের কাছে নেন রাফসান জানি। একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করেন রাফসান এবং সেটির ভিডিও রেখে অনলাইনে ছড়ানোর হুমকি দিয়ে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মণিরামপুর উপজেলা সদরে একটি বাসাভাড়া করে শ্যালিকাকে রাখেন রাফসান। দিনের পর দিন ঘনিষ্ঠ হলেও বিয়ে করেননি। উল্টো ভয়ভীতি ও মানসিক চাপ দেন। নিরুপায় হয়ে মণিরামপুর থানায় মামলা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন তিনি।

মনিরামপুর থানার ওসি আবু সাঈদ জানান, ডা. রাফসান জানি আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদে শনিবার রাতে রাফসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের আদেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধর্ষণের শিকার মক্তবের ছাত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ৯ বছর বয়সীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৩ মে) রাতে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার মক্তব বিভাগের ছাত্রী। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সহিদুল মিয়া পলাতক।

শিশুর স্বজনরা জানান, শনিবার দুপুরে বাড়ির পাশে খেলা করছিল শিশুটি। এ সময় প্রতিবেশী সহিদুল মিয়া চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে তাকে নির্জনে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় ঘটনাটি কাউকে জানালে হত্যারও হুমকি দেন তিনি। পরে সহিদুল নিজে শিশুটিকে নদীতে গোসল করিয়ে বাড়ির সামনে রেখে যান। একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। শিশুর শারীরিক পরীক্ষা করা হবে।

কেরানীগঞ্জে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবক গ্রেপ্তার

ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে চার বছর বয়সীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় শাহ পরানকে (২৪) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে রোববার (২৩ মে) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ।

ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, শাহ পরানকে শনিবার আটকের পর থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। পরে ভুক্তভোগীর মায়ের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

র‌্যাব জানায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ঝাউবাড়ি এলাকায় শিশুটি পরিবারের সঙ্গে থাকে। বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী শাহ পরান শনিবার দুপুরে চকলেট দেওয়ার কথা বলে ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পের নির্জনে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

তাদের বহনকারী অটোরিকশা চালক রাকাত হোসেন বিষয়টি বুঝতে পেরে র‌্যাবকে জানান। তিনি বলেন, শিশুটিকে নিয়ে আমার রিকশায় ওঠে ওই যুবক। তার কথাবার্তা সন্দেহজনক। তাদের ঝিলমিল এলাকায় নামিয়ে, একটু দূরে অপেক্ষা করি। হঠাৎ শিশুর কান্নার শব্দে এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। পরে র‍্যাব-১০-কে জানালে তারা এসে যুবককে ধরে নিয়ে যায়।

সম্পর্কিত