চেক ডিজঅনার মামলায় কারাগারে রিজেন্টের সেই সাহেদ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ১৯: ৫২
গ্রেপ্তার মো. সাহেদ। সংগৃহীত ছবি

রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।

ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫-এর বিচারক সাদিক আহম্মেদ এই আদেশ দিয়েছেন। সাহেদের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি যখন হয়, তখন তিনি জেলে ছিলেন। তখন মামলাটিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। গত বছরের ৪ মে আদালত তাকে এই মামলায় এক বছরের সাজা দেন এবং সমপরিমাণ টাকা (২ কোটি ১৬ লাখ) অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এখন যেহেতু তিনি কারাগারে গেছেন, আমরা এই মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।’

এর আগে আজ দুপুরে মিরপুরের ইসিবি এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘আজ দুপুরে রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পল্লবী থানায় সাহেদের বিরুদ্ধে একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। পল্লবী থানার পুলিশের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।’

যোগাযোগ করা হলে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির বলেন, ‘অর্থঋণের একটি মামলায় সাহেদের নামে পরোয়ানা জারি করেন আদালত। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাহেদকে পল্লবী থানায় পাঠানোর পর আমরা তাকে আদালতে পাঠিয়েছি।’

২০২০ সালের ৭ জুলাই উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট জব্দ করে র‌্যাব। তখন হাসপাতালটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন মো. সাহেদ। করোনার রিপোর্ট জালিয়াতির ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে সাহেদসহ ১৭ জনের নামে মামলা করে। এই ঘটনার মাধ্যমেই আলোচনায় আসেন সাহেদ। মামলার ৯ দিনের মাথায় সাহেদকে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

গ্রেপ্তারের পর সাহেদকে নিয়ে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব। পরে সাহেদের বিরুদ্ধে নানা প্রতারণার অভিযোগে ৩৫টি মামলা হয়। এসবের মধ্যে ছিল প্রতারণা, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগ।

২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় সাহেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলায় তিনি বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি পান। তবে পর্যায়ক্রমে সব কটি মামলাতেই জামিন পান সাহেদ। জামিনের প্রায় চার বছর পর ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত