জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

জাবি ছাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধারে স্বামী গ্রেপ্তার, শাস্তি দাবি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ১৬: ২৭
জাবি ছাত্রী শারমিন জাহান হত্যায় গ্রেপ্তার তাঁর স্বামী ফাহিম আল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রী শারমিন জাহান খাদিজার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর স্বামী ফাহিম আল হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই শারমিনের স্বামী ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে নিহতের চাচা মনিরুল ইসলামের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

শহীদ ফেলানী হলের আবাসিক ছাত্রী শারমিন লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি চাঁদপুরের কচুয়ার তেতৈয় গ্রামের শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। আর ফাহিম আল হাসান কুমিল্লার মুরাদনগরের খুইরুল গ্রামের হানিফ সরকারের ছেলে ও ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

ক্যাম্পাস সংলগ্ন ইসলামনগরের ভাড়াবাসা থেকে রোববার বিকেলে শারমিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রেমের সম্পর্কে গত বছরের ২৪ জুন শারমিন ও ফাহিম বিয়ে করে পরে পরিবারকে জানান। একই বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ চলছিল বলে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন শারমিন।

এতে আরও বলা হয়, রোববার বেলা পৌনে ৫টার দিকে ফাহিম ফোন করে শারমিনের চাচা মনিরুল ইসলামকে জানান– শারমিন গুরুতর অসুস্থ। খবর পেয়ে তিনি বাসায় গিয়ে শারমিনকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সুরতহাল প্রতিবেদনে শারমিনের কপালের ডান পাশে এবং মাথার ওপর গভীর জখমের চিহ্ন রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, ফাহিম অজ্ঞাত সহযোগীদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে শারমিনকে হত্যা করেছেন।

এদিকে, এ ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি ঘটনার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

জাকসুর সহসভাপতি আব্দুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, শারমিনের মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা, সেই সঙ্গে বাসা থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন খোয়া যাওয়ার ঘটনা একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, শারমিনের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন নৃশংস মৃত্যু কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সম্পর্কিত