রাজপথে শ্রমজীবীর ঢল, স্লোগান-ব্যানারে নানা দাবি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের শোভাযাত্রা। স্ট্রিম ছবি

মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে সভা-সমাবেশ ও শোভাযাত্রা করেছে বিভিন্ন পেশাজীবী, শ্রমিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। এদিন সকাল থেকেই রাজপথে ঢল নামে শ্রমজীবীদের। স্লোগান ও ব্যানারে তারা তুলে ধরেন বিভিন্ন দাবিদাওয়া।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন হাজারো শ্রমজীবী মানুষ। সেখানে সংগঠনগুলো নিজেদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো¬ বেতন-ভাতা বাড়ানো, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কমানো, সব খাতে ৬ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধ, নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ, রানা প্লাজা-তাজরিনে শ্রমিক হত্যার বিচার, নিয়োগপত্র দেওয়া, ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিশ্চিত, বন্ধ কারখানা চালু ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো।

সমাবেশের আয়োজক বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ফ্রন্টের নেতারা জানান, নতুন সরকারের কাছে তাদের মূল চাওয়া বারবার যেন দাবি নিয়ে পথে নামতে না হয়। সরকার যেন দ্রুত শ্রমিকদের দাবিগুলো পূরণ করে। এ ছাড়া গণতান্ত্রিক শ্রম আইন করার দাবিও জানান তারা।

শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) নেতারা বলেন, শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। অন্যথায় সমাজ থেকে ‘দাস প্রথা’ লুপ্ত হবে না। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে শ্রম আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করে সেটারও বাস্তবিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় তারা অভিযোগ করে, শ্রমিকরা যেন ঐক্যবদ্ধ হতে না পারেন সেজন্য মালিকপক্ষ ‘দালাল’ তৈরি করে রাখে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। শ্রমিকদের উদ্দেশে তারা বলেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নিজেদের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করতে হবে।

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি শিল্পে শুল্ক না বাড়ানোর দাবি জানান। তারা বলেন, বিড়ি শিল্পসহ সব শ্রমিকের মজুরি বাড়াতে হবে। সিগারেটের অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ আর বিড়িতে ১০ শতাংশ– এই বৈষম্য দূর করতে হবে। বিড়ি শ্রমিকদের রেশন দিতে হবে।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের (টাফ) নেতারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি জাতীয় স্বার্থবিরোধী, শিল্প-কৃষিবিরোধী ও জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী। অবিলম্বে এটি বাতিল করতে হবে। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে রেখে সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, ও নৌবন্দর আধুনিকীকরণ করতে হবে। ভারতের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ বিরোধী সব অসম ও অধীনতামূলক চুক্তি প্রকাশ ও বাতিল করতে হবে।

ঢাকা জেলা ট্যাক্সি, ট্যাক্সি কার, অটোটেম্পু, অটোরিকশাচালক শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের মজুরি পুণর্নির্ধারণে অবিলম্বে মজুরি বোর্ড করতে হবে। ন্যূনতম মজুরি ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিও জানানো হয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন দাবিতে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা করেছে কর্মজীবী নারী, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস), সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস ওয়ার্কার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ ফেডারেশন, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ ইসলামী সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন (বাজাফে-১৭), জাতীয় গণতান্ত্রিক শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ প্রাইভেট টেলিকমিউনিকেশন শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন, হস্তশিল্পী, কারচুপি ও হ্যান্ড এমব্রয়ডারি শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন, আওয়াজ ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ লেবার কংগ্রেসসহ (বিএলসি) আরও কিছু সংগঠন।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত