স্ট্রিম প্রতিবেদক

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ এবং রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার দায়ে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ রায়ের এই তারিখ নির্ধারণ করেন। এই বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি (২০২৬) রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছিল।
রায়ের দিন ধার্যের পর প্রসিকিউটর এস এম ময়নুল করিম সাংবাদিকদের জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এ কারণে তারা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছেন।
তিনি জানান, এই মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৫ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকের পাশাপাশি পটভূমির সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ ছাড়া প্রমাণ হিসেবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারের ভিডিও ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে।
ময়নুল করিম আরও উল্লেখ করেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ওপর চাপ ও প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল এবং পরে তাকে হুমকিও দেওয়া হয় বলে ওই চিকিৎসক তার জবানবন্দিতে আদালতকে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু তিন আসামি-এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী আপেলের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে তাদের বেকসুর খালাস চেয়েছেন।
আইনি যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, রেডিওগ্রাফিক বা এক্স-রে পরীক্ষায় আবু সাঈদের শরীরে গুলির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁর গলা থেকে কোমর পর্যন্ত পরিহিত কালো টি-শার্টের জব্দ করা অংশে কোনো ছিদ্র ছিল না বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন। ফলে গুলির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে, সেটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
এই আইনজীবী আরও দাবি করেন, ছয়জন পুলিশ সদস্য লাঠিচার্জ করলেও অভিযোগপত্রে মাত্র একজনকে আসামি করায় তদন্ত প্রতিবেদনটি ত্রুটিপূর্ণ হয়েছে।
ফৌজদারি আইনে লাঠিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে গণ্য করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবু সাঈদের হাতে লাঠি ছিল এবং তিনি সেটি দিয়ে পুলিশের আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন—যা তদন্তকারী কর্মকর্তা জেরায় স্বীকার করেছেন।
আইনজীবী দুলু বলেন, ‘‘তাঁকে (আবু সাঈদ) ‘নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ সিভিলিয়ান’ হিসেবে ধরে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের মধ্যে আনা আইনগতভাবে কতটা যৌক্তিক সেটি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে আবু সাঈদ যে একজন বীরত্বপূর্ণ আন্দোলনকারী ছিলেন এবং রাষ্ট্র তার সেই বীরত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে—এ বিষয়ে আমার কোনো দ্বিমত নেই।”
আদালত ও মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, এই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৩০। তাদের মধ্যে ২৪ জন পলাতক এবং ছয়জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। এই হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় এবং ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেন।
পরে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র খরচে আইনজীবী নিয়োগ করে একই বছরের ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়। ২১ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি এখন রায়ের পর্যায়ে পৌঁছাল।

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ এবং রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার দায়ে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ রায়ের এই তারিখ নির্ধারণ করেন। এই বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি (২০২৬) রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছিল।
রায়ের দিন ধার্যের পর প্রসিকিউটর এস এম ময়নুল করিম সাংবাদিকদের জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এ কারণে তারা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছেন।
তিনি জানান, এই মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৫ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকের পাশাপাশি পটভূমির সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ ছাড়া প্রমাণ হিসেবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারের ভিডিও ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে।
ময়নুল করিম আরও উল্লেখ করেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ওপর চাপ ও প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল এবং পরে তাকে হুমকিও দেওয়া হয় বলে ওই চিকিৎসক তার জবানবন্দিতে আদালতকে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু তিন আসামি-এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী আপেলের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে তাদের বেকসুর খালাস চেয়েছেন।
আইনি যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, রেডিওগ্রাফিক বা এক্স-রে পরীক্ষায় আবু সাঈদের শরীরে গুলির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁর গলা থেকে কোমর পর্যন্ত পরিহিত কালো টি-শার্টের জব্দ করা অংশে কোনো ছিদ্র ছিল না বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন। ফলে গুলির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে, সেটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
এই আইনজীবী আরও দাবি করেন, ছয়জন পুলিশ সদস্য লাঠিচার্জ করলেও অভিযোগপত্রে মাত্র একজনকে আসামি করায় তদন্ত প্রতিবেদনটি ত্রুটিপূর্ণ হয়েছে।
ফৌজদারি আইনে লাঠিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে গণ্য করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবু সাঈদের হাতে লাঠি ছিল এবং তিনি সেটি দিয়ে পুলিশের আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন—যা তদন্তকারী কর্মকর্তা জেরায় স্বীকার করেছেন।
আইনজীবী দুলু বলেন, ‘‘তাঁকে (আবু সাঈদ) ‘নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ সিভিলিয়ান’ হিসেবে ধরে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের মধ্যে আনা আইনগতভাবে কতটা যৌক্তিক সেটি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে আবু সাঈদ যে একজন বীরত্বপূর্ণ আন্দোলনকারী ছিলেন এবং রাষ্ট্র তার সেই বীরত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে—এ বিষয়ে আমার কোনো দ্বিমত নেই।”
আদালত ও মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, এই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৩০। তাদের মধ্যে ২৪ জন পলাতক এবং ছয়জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। এই হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় এবং ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেন।
পরে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র খরচে আইনজীবী নিয়োগ করে একই বছরের ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়। ২১ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি এখন রায়ের পর্যায়ে পৌঁছাল।
.png)

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য আইনুল হকের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংসদ সদস্যর ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে রায়গঞ্জের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিল করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। ঘটনার পর এমপির সঙ্গে থাকা ফয়স
৭ মিনিট আগে
মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল সচল হওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। পেট্রোবাংলার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় গ্যাস মিলেছে দৈনিক ২৪৪ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট।
১ ঘণ্টা আগে
যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত শেষে শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। বর্তমানে ইউনিটটি থেকে জাতীয় গ্রিডে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
১ ঘণ্টা আগে
গণঅধিকার পরিষদ নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের জেরে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মুফতি আমির হামজার গাড়িতে হামলা ঘটেছে। এ সময় সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদের ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে এই সংঘর্ষ হয়।
২ ঘণ্টা আগে