leadT1ad

‘ঘুষের টাকাসহ’ গ্রেপ্তার যশোরের সেই শিক্ষা কর্মকর্তা কারাগারে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
যশোর

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮: ১৫
‘ঘুষের টাকাসহ’ আটক যশোরের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। সংগৃহীত ছবি

যশোরে ‘ঘুষের টাকাসহ’ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে গ্রেপ্তার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এম এম মোর্শেদ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা টাকা সরকারের ট্রেজারিতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) সিরাজুল ইসলাম।

এর আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে নিজ কার্যালয় থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ আশরাফুল আলমকে আটক করে দুদক। পরে দুদকে একটি মামলা করেন প্রতিষ্ঠানটির যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন।

দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, ‘ট্র্যাপ অভিযানের’ ফাঁদ পেতে গতকাল বুধবার বিকেলে দুদক যশোর কার্যালয়ের একটি দল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অভিযান চালনায়। দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক যশোরের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে এই ফাঁদ পাতা হয়।

এর আগে জেলার সদর উপজেলার বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকে ওই অভিযোগ করেন। তাঁর প্রয়াত স্ত্রী জেলার ঝিকরগাছার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তারের পেনশনের টাকা ছাড় করানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি।

এদিকে শিক্ষাকর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন প্রাথমিক শিক্ষকেরা। তাঁরা দাবি করেন, দুদকের অভিযানের কিছুক্ষণ আগে আশরাফুল আলম বাথরুমে যাওয়ার সুযোগে ‘একটি পক্ষ’ তাঁর টেবিলে টাকা রেখে যায়। পরবর্তীতে ‘হাতেনাতে আটক’ দেখানো হয়েছে। এর আগে একই দাবিতে গতকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতেও দুদকের কার্যালয়ে অবস্থান নেন এই শিক্ষকেরা।

অভিযোগের বরাত দিয়ে দুদক সূত্র জানিয়েছে, প্রায়ত স্ত্রীর পেনশন সংক্রান্ত নথি (ফাইল) ছাড় করানোর জন্য শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী তিন মাস ধরে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমের কাছে ধরনা দিচ্ছিলেন। কিন্তু ওই কর্মকর্তা নানা অজুহাতে তাঁকে ঘুরাতে থাকেন। এক পর্যায়ে ৮০ হাজার টাকা ঘুষও নেন তিনি। পরে আবারও টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে পেনশনের টাকা ছাড় করা হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি খুলনা বিভাগীয় এক কর্মকর্তার যোগসাজশে তাঁর স্ত্রীর বেতন কাঠামো (বেসিক) কমিয়ে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

দুদক যশোর কার্যালয় সূত্র জানায়, ঘটনার এক পর্যায়ে দুদক কার্যালয়ের দ্বারস্থ হন শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী। দুদক তাঁর অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে ‘ট্র্যাপ অভিযানের’ প্রস্তুতি নেয়। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অনুমোদনের পর বুধবার অভিযানের প্রস্তুতি নেয় তারা। এর অংশ হিসেবে গতকাল বিকেলে ফাইল ছাড় করানোর কথা বলে আশরাফুল আলমের হাতে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় দুদক অভিযান চালিয়ে তাঁকে হাতেনাতে আটক করে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত