ট্রাইব্যুনালে সেনাসদস্যের জবানবন্দি

তারিক সিদ্দিককে বলেছিলেন জিয়াউল, ‘আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গুম করলাম’

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

জিয়াউল আহসান ও ইনসেটে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী। স্ট্রিম গ্রাফিক

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের বিষয়ে জবানবন্দিতে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস। রোববার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি জবানবন্দি দেন।

বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ইমরুল কায়েস। এই মামলার একমাত্র আসামি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। জবানবন্দির সময় তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে গুম হন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী। জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস জানান, ২০০১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে আর্মাড কোরে যোগদান করেন তিনি। ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত র‍্যাব হেড কোয়ার্টারে প্রেষণে কর্মরত ছিলেন তিনি। র‍্যাব ইন্টেলিজেন্সের পরিচালকের ‘রানার’ হিসেবে তিনি নিয়োগ পান। রানার হিসেবে তিনি জিয়াউল আহসানের সঙ্গে থাকতেন।

ইলিয়াস আলীর গুম হওয়া প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ইমরুল কায়েস বলেন, ‘২০১২ সালের সম্ভবত ১৩ এপ্রিল হেডকোয়ার্টার থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে জিয়া স্যার, মেজর নওশাদ স্যার, স্কোয়াড্রন লিডার সাইফ স্যারসহ আমরা মহাখালী ফ্লাইওভারের নিকটে যাই। কাকে গাড়িতে পিক করবে, তা আমি জানতাম না। জিয়া স্যার গাড়িতে বসে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করছিলেন। টার্গেট কখন আসবে, তা জানার জন্য ফোন করছিলেন। একটা পর্যায়ে জানা যায় যে টার্গেট আসবে না। পরে সেখান থেকে জিয়া স্যারকে বাসায় নামিয়ে দিই এবং স্যারকে বলে পরের দিন সকালে আমি ৯ দিনের ছুটিতে যাই।’

তিনি বলেন, ‘ছুটিতে থাকা অবস্থায় মিডিয়ার মাধ্যমে আমি জানতে পারি যে, ইলিয়াস আলী নামের এক বিএনপি নেতাকে মহাখালী ওভারব্রিজের ওখান থেকে অপহরণ করা হয়েছে। ৯ দিন ছুটি শেষে এপ্রিলের ২৩ আমি কর্মস্থলে যোগদান করি। যোগদানের পর আমি র‍্যাব হেডকোয়ার্টারে থমথমে পরিবেশ লক্ষ করি। অন্য সদস্যদের মাধ্যমে জানতে পারি, কোতের অস্ত্রের ইন-আউট রেজিস্টার এবং সিসিটিভি ফুটেজ জিয়া স্যার নষ্ট করে ফেলেন।’

জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস বলেন, ‘সাধারণত সকাল ৯টায় রোল-কল হতো। কিন্তু ১৮ এপ্রিলের পর সকাল ৭টায় হয়েছিল। এভাবে বেশ কয়েকদিন সকালে আসতেন জিয়াউল স্যার। একদিন ফোনে কথা বলছিলেন জিয়াউল। এর মধ্যে তাঁর আরেকটি ফোনে কল আসে। তখন জিয়া বলছিলেন– ‘তুই রাখ। তারিক স্যার (সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক) ফোন দিয়েছেন।’

ফোনে জিয়াউল ও ওই তারিক স্যারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একপর্যায়ে জিয়াউল বলে ওঠেন– “আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গলফ (গুম) করলাম। এখন আপনারা এ রকম করলে হবে? আমি কমান্ডো মানুষ। তাহলে পোস্টিং দিয়ে জঙ্গলে পাঠিয়ে দেন। এটাই আমার ভালো।” বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুম করার পর প্রমাণ মুছে ফেলতে জিয়াউল র‍্যাব হেডকোয়ার্টারের বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ ধ্বংস করে ফেলেন।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত