কুমারখালীতে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও ছাত্রদলের

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কুষ্টিয়া

কুমারখালীতে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও করে ছাত্রদল ও স্থানীয়রা। সংগৃহীত ছবি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করেছে ছাত্রদল নেতাকর্মী ও ছাত্রজনতা। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত ইউএনওর কার্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। দুপুর ১২টার দিকে ইউএনও কার্যালয়ের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়।

‘কুমারখালী পতিত স্বৈরাচার বিরোধী নাগরিক সমাজ’ ব্যানারে এই কর্মসূচিতে বিক্ষোভ সমাবেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। পরে অবরুদ্ধ অবস্থায় কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় দাঁড়িয়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের তথ্য পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের আশ্বাস দেন ইউএনও ফারজানা আখতার। তবে তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের জন্য প্রশাসনকে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে দুপুর ১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর ত্যাগ করে বিক্ষুব্ধরা।

উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহানুর রহমান ও সদস্যসচিব আবু কাউসার অপুর নেতৃত্বে কর্মসূচিতে উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকশ নেতাকর্মী ও ছাত্রজনতা অংশ নেন। এ সময় আবু কাউসার অপু বলেন, ছাত্রদলের যোগ্য ছেলেপুলে থাকলেও ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে প্রায় ৫০ জন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে শুমারির ফলাফল বাতিল ও স্বেচ্ছায় ইউএনওকে পদত্যাগ করতে হবে। তা না হলে আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টায় কঠোর আন্দোলন করা হবে।

সমাবেশে উপজেলার পান্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরতে নুর বলেন, বিএনপি সরকারের ফ্যামিলি কার্ডে আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ বাতিল করে বিএনপির লোকদের নিয়োগ দিতে হবে।

উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা আন্দোলন কমিটির সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা বলেন, ‘প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ধরে ধরে আওয়ামী লীগের লোকদের নিয়োগ দিয়েছে ইউএনও। এই ইউএনও কে আর আমরা চাই না।’

আন্দোলন চলাকালে নিজ কার্যালয়ে দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, ‘কোনো অভিযোগ থাকলে তথ্য প্রমাণ দিয়ে সহায়তা করুন। আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ তবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ অস্বীকার করে বিকেলে তিনি বলেন, তথ্য প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্দোলনের পর কুমারখালী ভ্রমণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম জানান, ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ের সমস্যা সমাধানে ইউএনওকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ইউএনওর অপসারণের বিষয়ে কেউ কিছু বলেনি।

বিষয়:

কুষ্টিয়া
Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত