জুলাই সনদ প্রয়োজনীয়, আলোচনা হতে পারে সব পক্ষেই: রিজভী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ২২: ২৪
আইইউবিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। সংগৃহীত ছবি

‘জুলাই সনদ’ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং এটি নিয়ে সরকার, সরকারি দল ও বিরোধী দলগুলো অবিলম্বে আলোচনা করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

আজ সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় আইইউবিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই স্মৃতি’ এবং ‘তারুণ্যের স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সেমিনারে তিনি এই কথা বলেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি নিয়ে সরকার বা সরকারি দল এবং বিরোধী দলগুলো আলোচনা করতে পারে। সেখানে যদি আরও কিছু বলার বা সংযোজন করার থাকে, তবে তা করতে অসুবিধা কোথায়? সেগুলোর বিষয়ে আলোচনা করে যেসব বিষয় আইনি রূপ দেওয়া দরকার তা পার্লামেন্টে করে এবং যেগুলো সংবিধান সংশোধন করা দরকার তা সম্পন্ন করে আমাদের জুলাই সনদকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু সেটার জন্য তো একটি টেবিলে বসতে হবে, কথা বলে ঠিক করতে হবে এবং আইনি রূপ দেওয়ার কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। এই কাজগুলো দ্রুতই করা দরকার। কারণ নানা ছিদ্রপথে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির পুনরুত্থান ঘটতে পারে; বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং দেশের বাইরে থেকে মদদ পেয়ে তারা নানাভাবে আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।’

রিজভী বলেন, ‘ভয়ংকর দানবের কাছ থেকে জুলাই-আগস্টের এই পরিবর্তনের মাধ্যমে কমপক্ষে গণতন্ত্রের কিছুটা আলো দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। এখন কমপক্ষে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা রয়েছে। কেউ সরকারের জোরালো সমালোচনা করলে তাকে গুম হতে হবে কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হতে হবে—সেই পরিস্থিতি এখন আর নেই। কথা বলা ও সমালোচনা করা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান, যা আগে ছিল না; জুলাই আমাদের সেটি নিশ্চিত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর ও তীক্ষ্ণ। এই তাৎপর্যকে আমাদের আরও উপলব্ধি করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য আমাদের যেসব কাজ বাকি আছে, সেগুলো সম্পন্ন করতে হবে। তবে আমি আবারও বলি—রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কমপক্ষে কতগুলো ন্যূনতম প্রধান ইস্যুতে একটি মিনিমাপ আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকতে হবে। সেই বোঝাপড়া না থাকলে আবারও গণতন্ত্র বিপন্ন হবে; আর এই বিপন্ন হওয়ার পথে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাও বিঘ্নিত হতে পারে।’

রিজভী বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকার নির্বাচন কমিশনসহ সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। তিনি যা বলতেন, মিডিয়ায় তাই প্রচার করতে হতো; সব মিডিয়া ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত। ফ্যাসিবাদী শাসকেরা প্রতিটি দেশেই এমনটা করে, আমাদের এখানেও তাই হয়েছে। বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা ছিল না; সরকারের দপ্তর থেকে যে রায় লিখে দেওয়া হতো, আদালত সেটাই পাঠ করে শোনাত। নির্বাচন কমিশন একের পর এক তামাশার নির্বাচন করতে করতে নিজে একটি তামাশার পাত্রে পরিণত হয়েছিল।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি), অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (এ্যাব) নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ চঞ্চল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ নেতারা।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত