স্ট্রিম সংবাদদাতা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে ছোঁয়াচে রোগ হাম। আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন শুধু জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগেই এই রোগের উপসর্গ নিয়ে শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডকে অস্থায়ী আইসোলেশন ওয়ার্ড বানিয়ে সেখানে প্রায় শতাধিক রোগীকে গাদাগাদি করে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরা বলছেন, হাম ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় চিকিৎসকেরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু একটি ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ রোগী ভর্তি থাকায় রোগটি ওয়ার্ড থেকেই আবারও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। আবার অনেকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে সিঁড়ির নিচে ও বারান্দায় আশ্রয় নিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
গত তিন মাসে শুধু জেলা হাসপাতালে হাম আক্রান্ত চারজন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করলেও এর সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি স্বজনদের। এদিকে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরাও বলছেন, বুঝে ওঠার আগেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে চার শিশু।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ১৩ দিনে (১৫ থেকে ২৭ মার্চ) হাম আক্রান্ত ১৩০ রোগী ভর্তি করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা) আরও ৩৭ শিশু এই ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৩১ জন ছেলে ও ছয়জন মেয়ে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালে হাম রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছেই। চিকিৎসক ও নার্স সংকটের কারণে প্রচুর হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকবল নিয়োগ দিয়ে চিকিৎসা অব্যাহত রাখা হয়েছে। হাসপাতালের পুরাতন ভবনের তৃতীয় তলায় আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে, যাতে এই রোগ অন্যদের মধ্যে ছড়াতে না পারে।’
হাম রোগের প্রধান লক্ষণ সম্পর্কে চিকিৎসকেরা জানান, এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। রোগীর হাঁচি-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস দ্রুত বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। হামের জটিলতা থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখে ও মাথায় প্রদাহসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে এবং মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়।
চিকিৎসা নিতে আসা এক শিশুর মা শরিফা বেগম বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম সাধারণ জ্বর। কিন্তু শরীরে লাল দানা উঠতে শুরু করলে ভয় পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসি। এখানে এসে দেখি অনেক শিশু এই রোগে ভুগছে। রোগীর চাপে সেবা পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’
একই ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা আরেক শিশুর বাবা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাচ্চার বয়স মাত্র আট মাস। জানতাম না এত ছোট শিশুদেরও এই রোগ হতে পারে। আশপাশে আরও অনেকের হচ্ছে শুনে খুব আতঙ্কে আছি।’

জেলা হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ মাহফুজ রায়হান বলেন, ‘হাম রোগটি পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। কিন্তু অবহেলা করলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ৯ ও ১৫ মাসে দুটি ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দিতে হবে। যেসব শিশুর এই বয়সে এখনও টিকা দেওয়া হয়নি, তাদের দ্রুত টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘কিছু বুঝে ওঠার আগেই এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে।’ টিকাদানে অনীহাকে দায়ী করে তিনি দ্রুত টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার সুযোগ নেই। সুতরাং এই সময়ে শিশুদের বাসায় রাখতে হবে। ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।’
হাসপাতালে হাম রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছেই জানিয়ে অন্যদের মধ্যে ছড়াতে না পারে, সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ মশিউর রহমান।
জেলার সার্বিক অবস্থা নিয়ে সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘হাম রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রতি পাঁচ বছর পরপর একটি ক্যাম্পেইন করা হয়। সবশেষ এই ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০১৯ সালে। নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪ সালে ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা হয়নি। তবে আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরের এপ্রিল অথবা মে মাসেই এই ক্যাম্পেইন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই ভিজিট করছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাম রোগীদের শনাক্ত করে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসছেন। এই রোগটি প্রতিরোধযোগ্য, কাজেই আতঙ্কিত না হয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে ছোঁয়াচে রোগ হাম। আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন শুধু জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগেই এই রোগের উপসর্গ নিয়ে শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডকে অস্থায়ী আইসোলেশন ওয়ার্ড বানিয়ে সেখানে প্রায় শতাধিক রোগীকে গাদাগাদি করে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরা বলছেন, হাম ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় চিকিৎসকেরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু একটি ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ রোগী ভর্তি থাকায় রোগটি ওয়ার্ড থেকেই আবারও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। আবার অনেকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে সিঁড়ির নিচে ও বারান্দায় আশ্রয় নিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
গত তিন মাসে শুধু জেলা হাসপাতালে হাম আক্রান্ত চারজন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করলেও এর সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি স্বজনদের। এদিকে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরাও বলছেন, বুঝে ওঠার আগেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে চার শিশু।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ১৩ দিনে (১৫ থেকে ২৭ মার্চ) হাম আক্রান্ত ১৩০ রোগী ভর্তি করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা) আরও ৩৭ শিশু এই ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৩১ জন ছেলে ও ছয়জন মেয়ে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালে হাম রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছেই। চিকিৎসক ও নার্স সংকটের কারণে প্রচুর হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকবল নিয়োগ দিয়ে চিকিৎসা অব্যাহত রাখা হয়েছে। হাসপাতালের পুরাতন ভবনের তৃতীয় তলায় আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে, যাতে এই রোগ অন্যদের মধ্যে ছড়াতে না পারে।’
হাম রোগের প্রধান লক্ষণ সম্পর্কে চিকিৎসকেরা জানান, এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। রোগীর হাঁচি-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস দ্রুত বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। হামের জটিলতা থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখে ও মাথায় প্রদাহসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে এবং মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়।
চিকিৎসা নিতে আসা এক শিশুর মা শরিফা বেগম বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম সাধারণ জ্বর। কিন্তু শরীরে লাল দানা উঠতে শুরু করলে ভয় পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসি। এখানে এসে দেখি অনেক শিশু এই রোগে ভুগছে। রোগীর চাপে সেবা পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’
একই ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা আরেক শিশুর বাবা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাচ্চার বয়স মাত্র আট মাস। জানতাম না এত ছোট শিশুদেরও এই রোগ হতে পারে। আশপাশে আরও অনেকের হচ্ছে শুনে খুব আতঙ্কে আছি।’

জেলা হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ মাহফুজ রায়হান বলেন, ‘হাম রোগটি পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। কিন্তু অবহেলা করলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ৯ ও ১৫ মাসে দুটি ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দিতে হবে। যেসব শিশুর এই বয়সে এখনও টিকা দেওয়া হয়নি, তাদের দ্রুত টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘কিছু বুঝে ওঠার আগেই এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে।’ টিকাদানে অনীহাকে দায়ী করে তিনি দ্রুত টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার সুযোগ নেই। সুতরাং এই সময়ে শিশুদের বাসায় রাখতে হবে। ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।’
হাসপাতালে হাম রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছেই জানিয়ে অন্যদের মধ্যে ছড়াতে না পারে, সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ মশিউর রহমান।
জেলার সার্বিক অবস্থা নিয়ে সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘হাম রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রতি পাঁচ বছর পরপর একটি ক্যাম্পেইন করা হয়। সবশেষ এই ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০১৯ সালে। নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪ সালে ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা হয়নি। তবে আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরের এপ্রিল অথবা মে মাসেই এই ক্যাম্পেইন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই ভিজিট করছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাম রোগীদের শনাক্ত করে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসছেন। এই রোগটি প্রতিরোধযোগ্য, কাজেই আতঙ্কিত না হয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।’

সচিবালয়ে একাধিক দপ্তর পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৯ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে প্রবেশের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ দপ্তরে না গিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় আকস্মিকভাবে ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।
২১ মিনিট আগে
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটের সামনে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। আজ রোববার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা অন্যান্য দিনের মতো তাঁদের কার্যক্রম শুরু করেন।
১ ঘণ্টা আগে
নড়াইলে তেল না পেয়ে এক পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজারকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরেকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
কক্সবাজারের টেকনাফ সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসছে অসংখ্য মৃত জেলিফিশ, যা স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের মাঝেও কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
৩ ঘণ্টা আগে