কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
টাঙ্গাইল

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ২৭
অনুষ্ঠানে ১৫ জন কৃষকের হাতে কৃষি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের শতকরা ৪০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিটি পরিবারের বা আত্মীয় স্বজন একজন হলেও কৃষির সঙ্গে জড়িত। অর্থাৎ বাংলাদেশে আমরা যত মানুষ আছি, প্রায় ৪ কোটি পরিবার, প্রত্যেকটি পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সঙ্গে জড়িত।’

এই দেশের প্রধান পেশাই হচ্ছে কৃষি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তগতভাবে বিশাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে, বর্তমান বাংলাদেশের মানুষের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে যে এই দেশের কৃষক যদি স্বচ্ছল থাকে, এই দেশের কৃষক যদি বেঁচে থাকে, এই দেশের কৃষক যদি ভালো থাকে, তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে।’

আজ মঙ্গলবার পয়লা বৈশাখের দিন (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রি-পাইলটিং ’কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

এসময় তারেক রহমান ১৫ জন কৃষকের হাতে ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ ও একটি করে গাছের চারা তুলে দেন। এছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে ১১টি উপজেলাতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশের কৃষকদের সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘পয়লা বৈশাখের মূল বিষয়টি অমাদের কৃষক ভাই, কৃষাণী বোনদের সঙ্গে জড়িত। সেজন্যেই আমরা কৃষক কার্ড দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি আমরা মানুষকে দিয়েছিলাম; আমরা সেটির আজ উদ্বোধন ঘোষণা করলাম। মোট ১১টি উপজেলায় অমাদের এই কৃষক কার্ডের পাইলটিং প্রোগ্রামটি হচ্ছে। প্রায় ২২ হাজার কৃষককে আমরা প্রথম পর্যায়ে এই কৃষক কার্ডের সুবিধা আমরা তাঁদের কাছে পৌঁছে দিতে চাচ্ছি।’

বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে এই কার্ডের কথা উল্লেখ ছিল, স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এর বাইরেও আমরা বলেছিলাম, কৃষকদের বিশেষ করে যাদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি লোন ছিল, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, সেই কৃষি লোনের সুদসহ ১০ হাজার টাকা কৃষি লোন আমরা মওকুফ করবো, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম নির্বাচনের আগে। আল্লাহর রহমতে আমরা নির্বাচনের পরে প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সেই কাজটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। যার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষক এই সুবিধাটি পেয়েছেন। আজকে আমরা হয়তো মাত্র ২২ হাজার কৃষককে এই কৃষক কার্ডের পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু পর্যায়ক্রমিকভাবে ইনশাল্লাহ ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের মধ্যে আগামী ৫ বছরের মধ্যে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেবো।’

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) তখন ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি লোন মওকুফ করে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, ২৫ বিঘা পর্যন্ত যে কৃষি জমি ছিল সেটির খাজনাও সেই সময় মওকুফ করে দেওয়া হয়েছিল।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই খাল খননের মাধ্যমে এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষিতে মোটামুটিভাবে ফসলে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল। ১৯৭৪ সালে দেশের মানুষ যেখানে না খেয়ে মারা গিয়েছিল, দুর্ভিক্ষে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল, সেই বাংলাদেশই আমরা দেখেছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুধু খাল খনন কর্মসূচির ফলে কৃষক সেচ সুবিধা পাওয়ার ফলে কৃষি উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছিল। অল্প পরিমাণে হলেও খাদ্যশস্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছিল এই বাংলাদেশ।’

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

অনুষ্ঠানে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবর রিজভী এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। স্বাগত বক্তব্য দেন, কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ। এছাড়াও একজন কৃষক ও একজন কৃষাণী বক্তব্য দেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকাল ১১টায় সড়ক পথে টাঙ্গাইল প্রবেশ করে ১১টা ২০ মিনিটে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচিস্থলে পৌঁছান। এসময় দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে তাঁকে স্বাগত জানান। কৃষক কার্ড বিতরণ শেষে প্রধানমন্ত্রী শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন।

দুপুরে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে নামাজের বিরতির পর প্রধানমন্ত্রী সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করার কথা রয়েছে।

সম্পর্কিত