জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

বাবাকে ‘হত্যার উদ্দেশ্যে’ই ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসে ছেলে সিয়াম

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নাটোর

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১৪: ৪২
ডিবি হেফাজতে আটক সিয়াম

নাটোর সদরের কাফুরিয়া ইউনিয়নের হাতেমপুরে চটপটি বিক্রেতা মহরম আলী (৫৫) হত্যাকাণ্ডে তাঁর ছেলে মাইন উদ্দীন সিয়াম (২৬) জড়িত থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিল সিয়াম।

আজ বুধবার (২৫ মার্চ) ভোরের দিকে অভিযান চালিয়ে সিয়ামকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে মহরম আলীর মৃত্যুর পর ঘটনার কারণ উদঘাটনে কাজ শুরু করে পুলিশ। প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদে মহরমের পারিবারিক কলহ ও স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি সামনে আসে।

পুলিশ জানায়, এসব তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার দিন ভোরে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসা মহরমের মেজ ছেলে সিয়ামের খোঁজ শুরু করা হয়। পরে কাফুরিয়া ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম জানায়, বাবাকে হত্যার জন্যই সে ঢাকা থেকে নাটোরে এসেছে।

হত্যায় ব্যবহৃত রক্তাক্ত দা বাড়িতে থাকা একটি চার্জার ভ্যানের চালকের আসনের নিচে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।

নিহতের প্রতিবেশীরা জানান, মহরম আলীর স্ত্রী রহিমা ও তিন ছেলে রয়েছে। কয়েক বছর আগে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ছেড়ে যান। স্ত্রী ও মেজ ছেলে সিয়াম ঢাকার দুটি গার্মেন্টসে কাজ করেন এবং সেখানে বসবাস করেন। অপর দুই ছেলে নাটোরে নানার বাড়িতে থাকতেন।

প্রতিবেশীরা আরও জানান, কয়েক মাস আগে জায়গাজমি নিয়ে মহরমের সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তানদের বিরোধ হয়। মহরম জমি বিক্রি করতে চাইলে সিয়াম বাধা দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মহরম সিয়ামকে মারধর করেন। এরপর থেকেই তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় মহরম আলীকে পাওয়া যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুরে তিনি মারা যান।

সম্পর্কিত