leadT1ad

ইসি কীভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেয়, প্রচার শুরু কাল

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯: ৫৬
নির্বাচন কমিশন

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে বুধবার (২১ জানুয়ারি)। এরপর আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের প্রচার চালাতে পারবেন।

এবার ৫১টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে ২ হাজার ৫৮৫ প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার যাচাই-বাছাইয়ে ৭২৬ জনের বাতিল হলেও, আপিলে প্রার্থিতা ফেরত পান ৪৩১ নেতা।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ২৯৮ আসনে সরে দাঁড়ান ৩০৫ জন। ফলে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলে লড়াইয়ে থাকছেন মোট ১ হাজার ৯৬৭ জন। বাকি দুটি পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। ভোটের দিন একই রেখে এ দুই আসনে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র মিলে মোট ৩৪৭ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছিলেন। ভোটের লড়াইয়ে ছিলেন ১ হাজার ৮৯৬ জন। পরে আদালতের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর প্রার্থী দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৭০ জন।

প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার থেকে এসব প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন। নির্বাচনে আচরণবিধি প্রতিপালনে শক্ত থাকার কথা জানিয়েছে ইসি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রিটার্নিং অফিসারদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য নির্দেশনা রয়েছে।

ইসি জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বেলা সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ করা হবে। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট হবে। এই নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ ও তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ১ হাজার ২৩৪ জন।

দলের প্রতীক ঠিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী পান কীভাবে

রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের জন্য নিজ নিজ দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানতে হয় নির্বাচন কমিশনকে। ইসি জানায়, দলীয় প্রার্থীদের প্রতীক নির্ধারিত থাকলেও সব আসনের প্রত্যেক প্রার্থীকেই আলাদাভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেবে তারা। সেই সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত ৫৬টি প্রতীক থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তারা কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করেন। রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থীদের নমুনা প্রতীক দেন, যেটি ব্যালট ব্যাপারেও থাকবে। প্রার্থীকে ঠিক ওই নমুনা অনুযায়ী প্রচার চালাতে হয়।

এবার নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত আলাদা জোটবদ্ধ নির্বাচন করছে। অতীতের জোটবদ্ধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরীক দলের প্রতীকে নির্বাচন করা গেলেও, এবার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের ফলে সব দলকে নিজ দলের প্রতীকে অংশ নিতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সংরক্ষিত প্রতীক বাদ দেওয়ার পর যেগুলো অবশিষ্ট থাকে, সেগুলো থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ সময় রিটার্নিং অফিসার যতটা সম্ভব প্রার্থীর পছন্দের বিষয়টি বিবেচনায় নেন।

ইসি সূত্র জানায়, রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পছন্দ বিবেচনায় নিলেও, একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী একই প্রতীকের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলে প্রথমে তাদের মধ্যে আলোচনা করে সমঝোতার চেষ্টা করেন। সমঝোতা না হলে লটারির মাধ্যমে প্রতীক নির্ধারণ করা হয়।

তবে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী আগে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকলে, তিনি তার পছন্দের প্রতীক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাওয়ার সুযোগ পান, যদি না সেই প্রতীক আগে থেকে কাউকে দেওয়া না হয়ে থাকে।

প্রতীক নির্ধারিত হওয়ার পর ইসির সরবারহকৃত প্রতীকের পোস্টার থেকে কাঁচি দিয়ে কেটে ওই নমুনা প্রতীকে স্বাক্ষর করে তা প্রার্থীদের বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

এবার ১১৯ প্রতীক

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৬৩টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন স্থগিত। এর মধ্যে ১০ নিবন্ধিত দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বাদে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে।

ইসি আগে নিবন্ধিত দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ রেখেছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া প্রতীক বাদে ৫৬টি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

বিএনপির ধানের শীষ, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির লাঙল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা এবং নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জন্য রয়েছে শাপলা কলি প্রতীক।

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। যে কারণে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই স্বতন্ত্রভাবে ভোটে অংশ নিয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্রদের জন্য যেসব প্রতীক ছিল, তার মধ্যে আলোচিত প্রতীক ছিল ঈগল। ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে ৩৮২ প্রার্থীর মধ্যে ১৫২ জন অংশ নিয়েছিলেন ঈগল মার্কায়।

তবে এবারের নির্বাচনে সেই আলোচিত ঈগল প্রতীক নেই। কারণ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে ঈগল মার্কা নিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, প্রতীক বরাদ্দ ও ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করার মধ্য দিয়ে নির্বাচন এখন শেষ ধাপে পৌঁছে গেছে। গত প্রায় এক থেকে দেড় মাসে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় গুরুতর কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত তাদের চোখে পড়েনি।

তিনি বলেন, কোথাও কোথাও কথার কথা অভিযোগ এসেছে। কিন্তু বড় ধরনের সহিংসতা বা শৃঙ্খলাভঙ্গ হয়নি। সার্বিকভাবে নির্বাচনী পরিবেশ এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক।

দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়ে এই কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো পক্ষের দিকে ঝুঁকে যায়নি। সব দলের প্রতি সমান আচরণ করা হয়েছে। আমাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে মৌলিক কোনো অভিযোগ নেই, সম-আচরণ করছি; যদিও কোনো কোনো সিদ্ধান্তে কেউ কেউ অসন্তুষ্ট হতে পারেন।

আগের ১২ নির্বাচনে যত দল ও প্রার্থী

  • ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৮টি দল অংশ নেয়। সেবার ৩৪৭ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরদিন ১ হাজার ৮৯৬ প্রার্থী ছিল। কিন্তু পরে আদালতের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৭০ জন; তার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৫৩৪; স্বতন্ত্র ৪৩৬ জন। সবচেয়ে বেশি ২৬৬ প্রার্থী ছিল আওয়ামী লীগের। এরপরই ছিল জাতীয় পার্টির ২৬৫ জন।
  • ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল ১ হাজার ৮৬১ জন। দল অংশ নেয় ৩৯টি। দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৩৩ জন; স্বতন্ত্র ১২৮ জন।
  • ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে ১২টি দল অংশ নিয়েছিল। সেই নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে একজন করে প্রার্থী ছিল বলে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বাকি ১৪৭ আসনে প্রার্থী ছিলেন ৩৯০ জন, এর মধ্যে স্বতন্ত্র ছিলেন ১০৪।
  • দল নিবন্ধনের পদ্ধতি চালুর পর ২০০৮ সালে নবম সংসদ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল ২৮টি দল; প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৫৬৭ জন।
  • নিবন্ধন চালু হওয়ার আগে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ৫৫টি দল অংশ নেয়, প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৯৩৯ জন।
  • সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ৮১টি দল অংশ নেয়, ২ হাজার ৫৭২ প্রার্থী ছিলেন।
  • ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে ১ হাজার ৪৫০ প্রার্থী ছিলেন, দল ছিল ৪২টি।
  • পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ৭৫টি দল অংশ নেয়, প্রার্থী ছিল ২ হাজার ৭৮৭ জন।
  • চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে ৮টি দল অংশ নিয়েছিল, প্রার্থী ছিলেন ৯৭৭ জন।
  • তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ হাজার ৫২৭ প্রার্থী ছিলেন, দল ২৮টি।
  • দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯টি দল অংশ নেয়, প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ১২৫ জন।
  • প্রথম সংসদ নির্বাচনে ১৪টি দল অংশ নেয়; ১ হাজার ৯১ প্রার্থী ছিলেন।
Ad 300x250

সম্পর্কিত