শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও মব-সহিংসতা বন্ধে ১৩৫ নাগরিকের ৮ দাবি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ২৩
সচেতন নাগরিকদের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন। সংগৃহীত ছবি
সচেতন নাগরিকদের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন। সংগৃহীত ছবি

দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হয়রানি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও মব-সহিংসতা বন্ধ করে নিরাপত্তা ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে ১৩৫ নাগরিকের স্বাক্ষরিত বিবৃতি এবং আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এক যৌথ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীর পরিচয়, মত, বিশ্বাস বা ব্যক্তিগত জীবনের কারণে তাকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। একইসঙ্গে হলে থাকতে না দেওয়া কিংবা হয়রানিও গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের এমন সহিংসতার মুখে ঠেলে দেওয়া রাষ্ট্রের ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ।

স্বাগত বক্তব্যে বহ্নিশিখার আহ্বায়ক তাসাফী হোসেন বলেন, কেবল নীতিগত ঘোষণা দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এর জন্য নারী, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী ও এলজিবিটিকিউআইএ+ সহ সব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাঠামোগত পরিকল্পনা এবং জবাবদিহিতা প্রয়োজন।

রেড ফেমিনিস্ট ব্লকের আহ্বায়ক মারজিয়া প্রভা বলেন, মৌলিক অধিকার নির্দিষ্ট পরিচয় বা গোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ হতে পারে না। ধর্ম বা লৈঙ্গিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষার্থীর অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ করা অনুচিত।

ট্রান্সজেন্ডার অধিকারকর্মী জয়া শিকদার বলেন, সমাজ একদিকে হিজড়া জনগোষ্ঠীর নির্দিষ্ট পেশা নিয়ে আপত্তি তোলে, অন্যদিকে তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাধীনভাবে বাঁচার পথ সীমিত করে রাখে। এই দ্বৈত অবস্থান পরিবর্তন করে হিজড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ ও নীতিগত সহায়তা দিতে হবে।

এলজিবিটিকিউআইএ+ কর্মী ও ব্যঞ্জনা ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক মুনতাসীর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ পাওয়া সুবিধা নয়, স্বাভাবিক অধিকার। পরিচয়ের কারণে শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়া গ্রহণযোগ্য নয়।

ডাইভার্স ফেমিনিস্টের আহ্বায়ক নির্ণয় ইসলাম বলেন, শিক্ষকের দায়িত্ব শিক্ষার্থীর পরিচয় বা মতাদর্শ বিবেচনা না করে পক্ষপাতহীন মূল্যায়ন ও শিক্ষার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। ক্যাম্পাসে সহিংসতার ঘটনা ঘটলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব এবং জনসমক্ষে হয়রানি হলে সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য।

মন্দ্রের আহ্বায়ক মো. হাসিবুর রহমান বলেন, দণ্ডবিধির ঔপনিবেশিক ৩৭৭ ধারার কারণে যৌন সহিংসতার শিকার কিশোর, পুরুষ, হিজড়া ও রূপান্তরকামী ব্যক্তিরা আইনি সুরক্ষা পান না। ৬০০ আলেমের দাবিকৃত বিবৃতি অনুযায়ী এই ধারার প্রয়োগ বাড়ালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌন সহিংসতা ও সম্মতিপূর্ণ সম্পর্ককে এক করে দেখার ঝুঁকি বাড়বে। তাই ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ছেলে শিশুরা ১৭ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা পেলেও ১৮ বছরের কিশোরদের আইনি সুরক্ষার ফাঁক থেকে যায়।

পরিস্থিতি নিরসনে সংবাদ সম্মেলনে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া যেসব শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়েছে, অবিলম্বে তা বাতিল করে তাদের হলে ও ক্লাসে ফেরার নিরাপত্তা দেওয়া। গোপনীয়তা লঙ্ঘন, মোবাইল তল্লাশি, ব্ল্যাকমেলিং ও গোপন ভিডিও প্রচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিষিদ্ধ করা। ভয়ভীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরবতা ভেঙে প্রকাশ্য ব্যবস্থা গ্রহণ। সকল শিক্ষার্থীর শারীরিক, মানসিক ও গোপনীয়তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা প্রদান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় একটি গোলটেবিল বৈঠকের ঘোষণা দেওয়া হয়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত