সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে এইচআরএসএসের উদ্বেগ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ১৭
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) লোগো। ছবি: সংগৃহীত
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) লোগো। ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা সংশোধন আইনের কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। খসড়ার অস্পষ্ট ও দমনমূলক ধারাগুলো প্রত্যাহার করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এইচআরএসএস জানায়, সাইবার অপরাধ ও অনলাইন হয়রানি বন্ধে কার্যকর আইনের প্রয়োজন রয়েছে। তবে তা যেন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, ভিন্নমত এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ না করে। সংগঠনটির আশঙ্কা, বর্তমান খসড়া অপরিবর্তিত থাকলে তা মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিক হয়রানি ও ভিন্নমত দমনের আইনি হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে ২০০৬ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন অস্পষ্ট ধারার কথা উল্লেখ করা হয়। এসব ধারার কারণে কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুসহ অতীতে সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরা নানা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এইচআরএসএস আশঙ্কা প্রকাশ করে, এই খসড়া সংস্কার প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে দিতে পারে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে গুজব ও অপতথ্য প্রচারের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এইচআরএসএস জানায়, ‘অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত তথ্য’ এবং ‘মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য’র মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষণে প্রাথমিক তথ্য তাৎক্ষণিক যাচাই সম্ভব হয় না।

ফলে অযাচাইকৃত তথ্য প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করলে সাংবাদিকতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। এছাড়া রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি, জনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হওয়ার ‘আশঙ্কা’র মতো অস্পষ্ট শব্দের কারণে আইনের অপব্যবহার বাড়বে।

আইনের ধারা ২৫-এর আওতায় যৌন হয়রানি ও শিশু নিপীড়নের মতো অপরাধের সঙ্গে মানহানি ও বুলিং যুক্ত করে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাবকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলছে এইচআরএসএস। সংগঠনটি জানায়, নারী ও শিশু সুরক্ষার ধারায় মানহানি যুক্ত করায় রাজনৈতিক সমালোচনা, কার্টুন বা ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্য ঘিরে ফৌজদারি মামলা দায়েরের সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া ধারা ২৭ অনুযায়ী কোনো কনটেন্ট শেয়ার করাকে মূল অপরাধের সমান শাস্তি দেওয়ার প্রস্তাব করায় সাধারণ নাগরিক ও সাংবাদিকেরা অতিরিক্ত আইনি ঝুঁকিতে পড়বেন।

আদালতের অনুমোদন ছাড়াই পুলিশ ও তথ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থাকে কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতা প্রদান এবং কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলের সুযোগ রাখাকে ন্যায়বিচারের পরিপন্থী আখ্যা দিয়েছে এইচআরএসএস। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সদস্য করে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের কাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।

সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি সংশোধনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে এইচআরএসএস।

সংগঠনটি গুজব ও অপতথ্য সংক্রান্ত ধারা পুনর্বিবেচনা, অস্পষ্ট শব্দের নির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রদান, মানহানিকে নারী ও শিশু সুরক্ষার ধারা থেকে আলাদা করা এবং সাংবাদিকতা ও কার্টুনের ক্ষেত্রে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে কনটেন্ট ব্লকের আগে বিচারিক অনুমোদন, মিম ও শেয়ারের ক্ষেত্রে ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী পৃথক দায় নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া সাইবার কাউন্সিলকে স্বাধীন রাখা এবং বেআইনি পদক্ষেপের শিকার নাগরিকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে গণমাধ্যমকর্মী, প্রযুক্তিবিদ, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সাইবার আইন প্রণয়নের তাগিদ দেয় সংগঠনটি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত