
নেপালের সাম্প্রতিক বন্যায় মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকার প্রমাণ মিলেছে। এর ভিত্তিতে জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ দাবি করতে যাচ্ছে নেপাল। গবেষণা সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০ মিলিয়ন ডলার দাবি করবে দেশটি।
সংস্থাটির ‘র্যাপিড ওয়ার্মিং ইন দ্য হিমালয়া এক্সাসারবেটস জিওহ্যাজার্ড ক্যাসকেডস বিয়ন্ড অ্যাডাপ্টেশন লিমিটস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে গত মাসের প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের পেছনে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সুস্পষ্ট ভূমিকা থাকার প্রমাণ মিলেছে। এর ভিত্তিতে জাতিসংঘের ‘ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ থেকে প্রায় ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করার পরিকল্পনা করছে নেপাল।
নেপালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত এবং ৬ হাজার ১৫০ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির সীমান্ত এলাকা পুনর্গঠনে প্রায় ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন নেপালের নীতিনির্ধারকেরা।
গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নেপালের হিমালয় অংশের লাংটাং লিরুং পর্বতের চূড়ার কাছাকাছি শিলা ও হিমবাহ ধসে পড়ার ফলে এই বিধ্বংসী বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল। ডব্লিউডব্লিউএ-এর গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জুলাই ও আগস্টে ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল এবং প্রতি বছর হিমবাহের বরফ গড়ে প্রায় আধা মিটার করে হ্রাস পাচ্ছিল। এছাড়া গত অক্টোবর ও নভেম্বরের অতিরিক্ত তুষারপাত বছরের শুরুতে বিপুল পরিমাণ গলিত পানির সৃষ্টি করেছিল।
গবেষণার সহ-লেখক ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের জলবায়ুবিদ ড. ফ্রেডেরিক অটো বলেন, ‘এই বিপর্যয়ের পটভূমি তৈরিতে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের স্পষ্ট ভূমিকা ছিল।’
জাতিসংঘের লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিল পেতে হলে আবেদনকারী দেশকে প্রমাণ করতে হয় যে তাদের ক্ষয়ক্ষতি সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই ঘটেছে।
নেপালের কৃষি, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মহেশ্বর ঢাকাল বলেন, ‘ডব্লিউডব্লিউএ-এর প্রতিবেদন আমাদের দাবির প্রধান ভিত্তি হবে।’
নেপাল জানিয়েছে, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত কম হলেও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।
ব্লুমবার্গ এনইএফের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়া লিউ বলেন, নেপাল এই তহবিলকে সাধারণ সাহায্য হিসেবে না দেখে ‘ক্ষতিপূরণ’ হিসেবে দাবি করছে। এর মাধ্যমে ‘যে দেশ দূষণ করবে, ক্ষতিপূরণের দায় তাকেই নিতে হবে’—এই নীতি প্রকাশ পাচ্ছে।
যদিও নেপালের এই অর্থপ্রাপ্তিতে কিছু জটিলতা রয়েছে। জাতিসংঘের এই তহবিলে বর্তমানে মাত্র ৪০ কোটি ডলার বরাদ্দ রয়েছে। এর বিপরীতে প্রায় ১২০ দেশ ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের দাবি জমা দিয়েছে। নেপালকে দ্রুত তহবিল দেওয়ার পক্ষে কিছু দেশ অবস্থান নিলেও অন্যরা আন্তর্জাতিক নিয়ম ও পদ্ধতি অনুসরণের ওপর জোর দিয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে জাতিসংঘ তহবিলের কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে নেপালের জরুরি বরাদ্দসহ অন্যান্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
.png)


-40e58c.jpeg)

-deee67.jpg)




