বিডব্লিউসিসিআইয়ের প্রশিক্ষণে ২৬ হাজার ৫৭৪ নারীর দক্ষতা অর্জন
স্ট্রিম ডেস্ক

বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিউসিসিআই) উদ্যোগে পরিচালিত দক্ষতা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত ২৬ হাজার ৫৭৪ জন নারী প্রশিক্ষণার্থী দক্ষ হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষতা যাচাইয়ে অংশ নিয়েছেন মোট ৩৮ হাজার ৪৮ জন। তাদের মধ্যে দক্ষতার হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়িত অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় বিডব্লিউসিআই এন্টারপ্রাইজ-বেইজড ট্রেনিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বিডব্লিউসিআইয়ের আওতায় তিনটি কর্মসূচির মাধ্যমে মোট ৪৬ হাজার ২৪৮ জন নারী প্রশিক্ষণের আওতায় এসেছেন। এর মধ্যে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ডুয়াল-মোড ট্রেনিং প্রোগ্রামে ১ হাজার ৫৩৩টি ব্যাচে ৩৬ হাজার ৭৯২ জন, টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্কিলস ট্রেনিং প্রোগ্রামে ২৫৮টি ব্যাচে ৬ হাজার ১৯২ জন এবং স্কিলস আপগ্রেডেশন ট্রেনিং প্রোগ্রামে ১৩৬টি ব্যাচে ৩ হাজার ২৬৪ জন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
সব মিলিয়ে ১ হাজার ৯২৭টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতি ব্যাচে ২৪ জন প্রশিক্ষণার্থীর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এ সংখ্যা শতভাগ অর্জন। প্রশিক্ষণার্থীদের সবাই নারী।
প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি, আত্মকর্মসংস্থান কিংবা উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করার সুযোগ পাচ্ছেন অংশগ্রহণকারীরা। এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৮৯৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। দক্ষ হিসেবে মূল্যায়িত ২৬ হাজার ৫৭৪ জনের তুলনায় এ হার প্রায় ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ।
এন্টারপ্রাইজ-বেইজড ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। ইন্ডাস্ট্রি পার্টনার হিসেবে বিডব্লিউসিসিআই শিল্পকারখানা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের সংযোগ স্থাপনে কাজ করছে। পাশাপাশি বাজারসংযোগ ও ব্যবসায়িক পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে, যা প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হচ্ছে।
প্রশিক্ষণে টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, ফ্যাশন ডিজাইন, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ও মডেলিং, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন, এমব্রয়ডারি, হ্যান্ড স্টিচিং, ব্লক-বাটিক ও স্ক্রিন প্রিন্টিং, বিউটিফিকেশন, কেয়ারগিভিং, আইসিটি ও ফ্রিল্যান্সিং এবং এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্টের মতো বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা দেওয়া হচ্ছে।
বিডব্লিউসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট সঙ্গীতা আহমেদ বলেন, একজন নারী যখন অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করতে শুরু করেন, তখন এর সুফল শুধু তাঁর নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
অ্যাসেট-বিডব্লিউসিসিআই প্রকল্পের ডেপুটি সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার সুমন্ত কুমার মহন্ত বলেন, অ্যাসেট প্রকল্পের এন্টারপ্রাইজ-বেইজড ট্রেনিং কার্যক্রমের মাধ্যমে ৪৬ হাজারের বেশি নারীকে দক্ষতা প্রশিক্ষণের আওতায় আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়। আমরা চাই, নারীরা অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে চাকরি পান, আত্মকর্মসংস্থানে যুক্ত হন কিংবা নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এর মাধ্যমে তারা বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন।
.png)


-40e58c.jpeg)



