বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার হার কমেছে ৬২%: আইনমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ১৩: ২৪
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সংগৃহীত ছবি

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা প্রি-কেস মেডিয়েশন (মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা) নতুন মামলার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে। ২০ জেলায় গত বছরের তুলনায় গড়ে মামলার সংখ্যা কমেছে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ। এই উদ্যোগ আরও কার্যকর করা গেলে দীর্ঘদিনের মামলাজট নিরসনে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব।

সোমবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি ১০ জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন, যা বিচারব্যবস্থার ওপর বৃহৎ চাপ সৃষ্টি করেছে। এ বাস্তবতায় আদালতে মামলার আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে বিচারপ্রার্থীর সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে। আদালতের ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

মন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ২০ জেলায় এই কার্যক্রম চালুর পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মে সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে বিভিন্ন আইনে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর মধ্যে পারিবারিক আদালত আইনে মামলা ৩ হাজার ৫৫৯ থেকে ১ হাজার ৭৪৪-তে নেমে (প্রায় ৫১ শতাংশ) এসেছে। সিভিল জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টন-সংক্রান্ত মামলা ২ হাজার একটি থেকে ৬৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ কমে ৬৬১ হয়েছে।

এ ছাড়া স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের প্রিম্পশন মামলা ১৭ থেকে ২টি, নন-এগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি আইনে ৩১ থেকে ১৪টি, যৌতুক নিরোধ আইনে ৫ হাজার ৬০৫ থেকে ১ হাজার ৮১০টি এবং পিতামাতার ভরণ-পোষণ আইনে মামলা ৪৩ থেকে ৩৫টিতে নেমেছে। সব মিলিয়ে গড়ে মামলা কমেছে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ।

তিনি বলেন, এই প্রবাহ ধরে রাখা গেলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে যেগুলো আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য, সেগুলো জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে মধ্যস্থতার জন্য পাঠালে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।

কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন উল্লেখ করে তিনি জেলা জজ, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের আগামী তিন মাসে মামলাজট দৃশ্যমানভাবে কমানোর উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে বলেও তিনি জানান।

মধ্যস্থতাকারীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, এই দায়িত্বকে কেবল চাকরি হিসেবে নয়, বরং জনসেবামূলক একটি দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে। মধ্যস্থতা কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

পরে আইনমন্ত্রী ১০টি জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। জেলাগুলো হলো—বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, যশোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল। এসব জেলায় এখন থেকে সাতটি আইনে আদালতে মামলা করার আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মাধ্যমে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার চেষ্টা করতে হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত