ভারতে এবার জেন-আলফা আন্দোলন, স্কুল-ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ০২
ভারতে স্কুলগুলোতে সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
ভারতে স্কুলগুলোতে সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির রাস্তায় নেমে অনশন-বিক্ষোভের পর শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করিয়ে ঘরে ফিরেছে জেন-জিরা। জেনজিদের ওই আন্দোলনে নেতৃত্বে ছিল ভারতের প্রচলিত ব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করে গড়ে ওঠা সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

দিল্লির যন্তর-মন্তরে টানা অবস্থান কর্মসূচির সফলতার পর সিজেপি এবার ভারতজুড়ে স্কুল-ব্যবস্থা সংস্কারের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তাদেরকে এই কর্মসূচি দিতে অনুপ্রাণিত করেছে জেন-জি পরবর্তী প্রজন্ম জেন-আলফা। এবছরের জুলাই থেকে নিজেদের স্কুলগুলোর অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেছে তারা। স্কুলপড়ুয়ারা সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্কুলের অবকাঠামো, পানি-বিদ্যুৎ, খাবার, টয়লেটসহ সার্বিক সমস্যা সমাধানের জোরাল দাবি জানাচ্ছে।

একেবারে ক্ষুদে আলফারাও বসে নেই। স্কুল ভবন সংস্কারের দাবি না মানা পর্যন্ত ক্লাসে প্রবেশ করেনি উত্তর প্রদেশের সামুহি ভাটপূর্বা গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ২০২৩ সালে এই স্কুলের দেয়াল ধসে এক ছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছিল।

ভারতের অন্তত ১০টি প্রদেশে স্কুলের শিক্ষার্থীদের এরকম নানা সংস্কারের দাবি তুলতে দেখা গেছে। মহারাষ্ট্র, বিহার, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড ও মধ্যপ্রদেশে এবছর জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে স্কুল পড়ুয়াদের এমন প্রতিবাদী রূপে দেখা যাচ্ছে। যাদের বেশির ভাগেরই জন্ম ২০১০ সালের পর। ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জন্ম নেওয়া শিশুদের বলা হচ্ছে জেন-আলফা।

স্কুলপড়ুয়া জেন-আলফাদের সংস্কার দাবিতে সমর্থন জানিয়েছে সিজেপি। ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসে সিজেপি তৃণমূল পর্যায়ে শুরু করেছে স্কুল ঠিক করো (ফিক্স দ্য স্কুলস) কর্মসূচি।

সিজেপি’র আইনি প্রধান রত্না সিং বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য সারাদেশে স্কুলে স্কুলে হওয়া আন্দোলনকে তাদের সংগঠন পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।

সিং বলেন, ‘দিল্লির যন্তর-মন্তরে আমাদের আন্দোলনের সময় গ্রামের অনেক ছোট ছোট শিশু ও তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছিল। তারা অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি স্কুলের বাজে অবস্থা, শিক্ষকের অভাব এবং স্কুলে যাওয়ার খানাখন্দে ভরা ও কাঁচা রাস্তার কথা বলেছিলেন। আমাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্কুলের পরিবেশ ও মান উন্নত করাটা আমাদের আন্দোলনেরই একটি স্বাভাবিক ধাপ।’

ভারতের স্কুল-ব্যবস্থা বেশ বিস্তৃত। প্রাথমিক ও উচ্চবিদ্যালয় মিলিয়ে ১৫ লাখ স্কুলে ২৪ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এসব বিদ্যাপীঠের প্রায় ৭০ শতাংশই কেন্দ্রীয়, রাজ্য বা স্থানীয় সরকার দ্বারা পরিচালিত, আর বাকিগুলো বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে। সরকারি হিসেবে ভারতের স্কুলগুলোতে প্রতি ২৪ জনের জন্য একজন শিক্ষক আছেন। ঝরে পড়াদের হারও কমে আসছে।

তবে স্কুলের অবকাঠামো, মিড ডে মিলের মান, পানি, বিদ্যুৎ, টয়লেট, বসার জায়গার অভাবসহ নানা সমস্যা আছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক স্কুলে ক্লাস শেষে গবাদিপশুর গোয়াল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের এসব সমস্যায় এতদিন বিভিন্ন এনজিওকর্মী, মানবাধিকারকর্মীরা কথা বললেও সম্প্রতি স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরাই প্রতিবাদ শুরু করেছে।

জেন-আলফা জাগরণের শুরুটা হয় মূলত গত ২৮ জুলাই। এদিন উত্তরপ্রদেশের সর্বোদয় ইন্টার কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের নীল-সাদা ইউনিফর্ম পরেই স্কুলে এসে বিক্ষোভ শুরু করে। দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো এই স্কুলটিতে খাবার পানি, বিদ্যুৎ, এমনকি বসার মতো বেঞ্চেরও তীব্র সংকট রয়েছে।

দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মনোজ বলেন, ‘আমাদের জন্য স্কুলে পড়াশোনা করাটা কতটা কঠিন, তা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। এখানে বিদ্যুৎ নেই, তাই গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ফ্যানও চলে না। আমাদের সুপেয় পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। পর্যাপ্ত বেঞ্চ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে মেঝেতে বসতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে আমরা আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছি।’

এরপর আরও কিছু একই ধরনের প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে। গত ৩১ জুলাই মহারাষ্ট্রের পারলিতে অবস্থিত ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত বৈদ্যনাথ স্কুলের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের তীব্র সংকটের প্রতিবাদে এক বিক্ষোভের আয়োজন করে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত