জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি, কর্তৃপক্ষ বলছে সংকট নেই

কাজী মাকতাবার পান্থ
কাজী মাকতাবার পান্থ
ঢাকা

প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৬, ২২: ৫৪
একটি ফিলিং স্টেশনের চিত্র। স্ট্রিম ছবি

এখনো চলছে ঈদের ছুটি। ছুটির দিনেও রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা যায়। যদিও রাজধানীর বেসরকারি ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে তিন দিন বন্ধ থাকার পর আজ থেকে পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও গ্রহীতাদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। সরকারের সঙ্গে সুর মিলিয়ে রাজধানীর সরকারি পাম্পগুলোর কর্মকর্তারাও বলছে, সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। অবশ্য কেউ কেউ স্বীকার করেছেন, সংবাদমাধ্যমে খবর সংবাদ প্রকাশের পর পাম্পগুলোতে গ্রহিতাদের ভিড় কিছুটা বেড়েছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) দুপরে সরজমিনে ঢাকার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পগুলোতে গিয়ে সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা ভোক্তা, পাম্প কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।

দুপুরে শাহবাগের পূর্বাচল ট্রেডার্স ও আসাদ গেটের মেসার্স তালুকদার ফিলিং স্টেশনে গিয়ে জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকেই তেল আসতে শুরু করেছে। আর শাহবাগে থাকা সরকারি জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে জানা যায়, পাম্পটিতে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকেই তেল পাওয়া যাচ্ছে। তবে রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি পাম্পে দুপুর পর্যন্ত তেল না থাকায়, তার চাপ পড়েছে সরকারি পাম্পগুলোতে। এর ব্যতিক্রম ছিল না মডেল মেঘনা সার্ভিস সেন্টারে। দুপুরে সেখানে অকটেন ও পেট্রোলের জন্য প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

৩ দিন পর পাম্পে অকটেন ও পেট্রোল আসার কথা জানিয়ে পূর্বাচল ট্রেডার্সের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আলী স্ট্রিমকে বলেন, ‘আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অকটেন ও পেট্রোল আসছে। আমরা ১টার দিক থেকে অকটেন ও পেট্রোল দিতে শুরু করেছি।’

একই পাম্পের আরেক কর্মচারী বলেন, ‘এখনো তেল কতটুকু দেবো তার নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। আমরা আপাতত মোটরবাইকের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকার, আর প্রাইভেটকারগুলার ক্ষেত্রে ১০-১৫ লিটার দিচ্ছি।’

তেল নিতে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। স্ট্রিম ছবি
তেল নিতে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। স্ট্রিম ছবি

পূর্বাচল ট্রেডার্সে অকটেন নিতে আসা কেএফসির এক ডেলিভারি ম্যান বলেন, ‘আমি ১৫-২০ মিনিট লাইনে দাঁড়ানোর পরই বাইকে অকটেন নিতে পেরেছি।’

একই পাম্পে অকটেন নিতে আসা সোহান নামে একজন বলেন, ‘আমি মাত্র ৫ মিনিট আগে লাইনে দাঁড়াই। আমার আগে দুটি গাড়ি ছিল তাই দ্রুত পেয়ে যাই।’

এদিকে, আসাদ গেটের মেসার্স তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার ফাত্তা আলম বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টার পর পাম্পে তেল আসছে। মূলত আজকের চাপ সামাল দিতে ডিওতে থাকা তেল দেওয়া হচ্ছে। তাই গাড়ির ক্ষেত্রে এখন সর্বোচ্চ ২০০০ টাকার এবং বাইকের ক্ষেত্রে ৪০০ টাকা পর্যন্ত তেল দিতে পারছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই কয়দিন বন্ধ থাকার কারণেই প্রধানত তেলের এতো সমস্যা হয়েছিল। আগামীকাল তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে, ইনশাল্লাহ।’

নির্ধারিত পরিমাণে তেল সরবরাহের বিষয়টি ফুটে উঠে পাম্পটিতে তেল নিতে আসা আলমগীরের বক্তব্যেও। তিনি বলেন, ‘আমি সেই লেক রোড থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু ৪০০ টাকার তেল পেয়ে হতাশ লাগছে। মোটরসাইকেলের জন্য এক পাশে লাইন থাকায় এতো সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।’

একই পাম্পে গাড়ির তেল নিতে আসা জামিল জানান, তিনি প্রায় ঘণ্টাখানেকের ওপর লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকার তেল নিতে পেরেছেন।

অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে সরকারি শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারে। এটি মেঘনা পেট্রোলিয়ামের মেইন প্রতিষ্ঠান। পাম্পটির অ্যাকাউন্টসে থাকা মোহাম্মদ মীর আজীম বলেন, ‘সরকারি পাম্প হওয়ায় আমাদের পাম্পে কখনোই তেলের কোনো প্রকার সংকট হয়নি। সরকার নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে আমরা তেল সরবরাহ করে থাকি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল পত্রিকায় তেলের সংকট নিয়ে নিউজ পাবলিশ হওয়ায় পর থেকে আমরা সকাল থেকে অনেক প্রেশারে ছিলাম। সিরিয়াল অনুযায়ী সবাইকে তেল সরবরাহ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছিলো। সকালে কাঁটাবন পর্যন্ত গাড়ি ও মোটরবাইকের সিরিয়াল ছিল। তবে আমাদের পাম্পে সকাল থেকে যাঁরাই আসছেন তাঁরা সবাই হাসিমুখেই ফিরে গেছেন।’

উল্টো তিনি বলেন, ‘কারও যদি মনে হয় তাঁরা তেল পাচ্ছেন না, তাহলে আমাদের পাম্পে চলে আসতে পারেন।’

তেল নিতে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। স্ট্রিম ছবি
তেল নিতে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। স্ট্রিম ছবি

এদিকে, মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার পাম্পে অপেক্ষারত মোটরসাইকেল আরোহী নাবিল জানান, প্রথমে তিনি নীলক্ষেতে থাকা পাম্পে যান। সেটি বন্ধ থাকায় এখানে এসে প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর সামনে ৪-৫টি মোটরবাইক আছে। তিনি আশাবাদী অকটেন পাবেন।

আরেক মোটরবাইকার তুষার বলেন, ‘৪৫ মিনিট আগে আমি শাহবাগে এই লাইনে দাঁড়াই। সেখান থেকে পাম্পের মুখে এসে মনে হচ্ছে তেল নিয়ে যেতে পারবো।’

অন্যদিকে, আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

তেলের সরবরাহ নিয়ে কথা বলতে আজ রাজ পৌনে ৮টার দিকে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিয়া মোহাম্মদ কেয়ামউদ্দিনকে ফোন করা হয়। অবশ্যই তিনি এই ব্যাপারে কোনো কথা না বলে মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তাকে (পিআরওকে) ফোন দিতে বলেন।

পরে জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর জ্বালানি তেলের পরিমাণ বেশি আমদানি করা হয়েছে। যদিও এবছর গ্রাহকদের চাহিদা বেশি থাকার ফলে সমস্যা বেশি তৈরি হচ্ছে।’

পাম্পগুলোর সীমিত তেল সরবরাহ নিয়ে তিনি দাবি হলো, পাম্প মালিকরা হয়তো সবাইকে দিতেই নির্ধারিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছেন।

সম্পর্কিত