বিএসএফের গুলিতে আহত কৃষক হাসপাতাল থেকে লাপাত্তা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ৪৬
পিঠে গুলি নিয়ে চমেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কৃষক মোশাররফ। ছবি: সংগৃহীত
পিঠে গুলি নিয়ে চমেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কৃষক মোশাররফ। ছবি: সংগৃহীত

ফেনী থেকে শরীরে ছররা গুলির ক্ষত নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর খোঁজ মিলছে না। তিনি নিজ জমিতে কাজ করার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আহত হন বলে জানিয়েছিলেন।

হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, ওই রোগীর নাম মোশাররফ (৪৫)। তিনি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার জয়নগর এলাকার মো. মোস্তফার ছেলে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে তাঁকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ভর্তি নিয়ে ক্যাজুয়ালটি বিভাগের ৫ নম্বর বেড দেওয়া হয়।

ভর্তির সময় মোশাররফ জানিয়েছিলেন, বিকেল ৪টার দিকে তিনি ছাগলনাইয়ার পূর্বজয়নগর সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে নিজের জমিতে কাজ করছিলেন। ওই সময় বিএসএফ সদস্যরা শটগান থেকে গুলি ছুড়লে তাঁর পিঠের বাম অংশে লাগে। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে চমেক হাসপাতালে যান।

তবে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় বেডটি ফাঁকা। উপরে পড়ে আছে দুটি এক্স-রে ফিল্ম, পাশে প্যাকেটভর্তি ওষুধ।

পাশের শয্যার রোগী জাহেদুল ইসলাম জানান, সকাল ১০টার দিকে কয়েকজন সাংবাদিক এসে মোশাররফের সাক্ষাৎকার নেন। কিছুক্ষণ পর তিনি টয়লেটে যান; ফিরে এসে আর মোশাররফকে দেখেননি।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ভর্তির সময় মোশাররফের সঙ্গে পুলিশ ছিল। এ ছাড়া মোশাররফের সঙ্গে থাকা লোকজনের মধ্যে এক ধরনের লুকোচুরি ভাব দেখেছেন।

এদিকে, মোশাররফের লাপাত্তা হওয়ার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ– কারো কাছ থেকে সদুত্তর পাওয়া যায়নি। ক্যাজুয়ালটি বিভাগের আয়া মিনারা বলেন, ‘সকাল থেকে আমরাও রোগীকে খুঁজছি। সম্ভবত পালিয়ে গেছে।’ তবে কখন, কীভাবে বা কার সঙ্গে বের হয়েছেন– তা জানাতে পারেননি তিনি।

ক্যাজুয়ালটি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. উপল চৌধুরী বলেন, ওই রোগীর পিঠে অনেকগুলো ছররা গুলি ছিল। আনুমানিক ৮০ থেকে ১০০টি, বেশিও হতে পারে।

মোশাররফের ফেলে যাওয়া এক্স-রে রিপোর্টে গুলির চিহ্ন। ছবি: সংগৃহীত
মোশাররফের ফেলে যাওয়া এক্স-রে রিপোর্টে গুলির চিহ্ন। ছবি: সংগৃহীত

তিনি জানান, শনিবার সকালে চিকিৎসকদের নিয়মিত রাউন্ডের সময়ও মোশাররফ বেডে ছিলেন। এরপর থেকে তাঁর খোঁজ মিলছে না।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, ‘রোগী কোথায় গেছেন, আমরা জানি না। খোঁজ নিচ্ছি।’

চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক প্রথমে বলেন, রোগী হয়তো বাইরে গেছেন। পরে জানান, তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানা নেই।

ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, আমরা তো জানি চমেকে আছেন। এখন না থাকলে কীভাবে জানব।

পরে হাসপাতালে মোশাররফকে ভর্তির সময়ে দেওয়া ফোন নম্বরে কল করেন এই প্রতিবেদক। কলটি ধরে নিজেকে মোশাররফের মেয়ের স্বামী হিসেবে পরিচয় দেন এক ব্যক্তি। দিদার নামে ওই ব্যক্তি বলেন, তাঁরা রোগীকে নিয়ে ঢাকায় গেছেন। রোগীর অবস্থা খারাপ, এজন্য চলে গেছেন।

রোগীর অবস্থা খারাপ হলে তো হাসপাতালে থাকার কথা– এমন কথা বললে তিনি বলেন, ‘দেখি, ডাক্তারের কাছে যাব।’ তবে কোন চিকিৎসকের কাছে যাবেন বা মোশাররফকে কখন ও কীভাবে হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে তা জানাননি তিনি।

এদিকে, সীমান্তে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছেন তারা। এর বাইরে আর কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।

ছাগলনাইয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় চাষাবাদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৪ সালে এই সীমান্ত থেকে ২০ জনের বেশি বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল বিএসএফ। সম্প্রতি সীমান্তে পুশইনের ঘটনায়ও আলোচনায় আসে এই সীমান্ত।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত