ফ্যাসিস্ট আমলে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭: ২৪
বুধবার জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১.৮ লাখ কোটি টাকার সমান। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় ও পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।

সংসদ নেতা জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ ১০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ (এমএলএটি) স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। অপর ৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তিটি প্রক্রিয়াধীন। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স এবং দুদকের নেতৃত্বে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জেআইটি) গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

সম্পদ জব্দের তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, আদালত দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারে এ পর্যন্ত ১৪১টি মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টির চার্জশিট দাখিল ও ৬টির রায় প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বিগত আমলের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার।

সম্পর্কিত