আ.লীগ আমলে পাচার ২৩৪ বিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনামলে (২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল) বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এতথ্য জানান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জানান, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে তাদের সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশে-বিদেশে এ পর্যন্ত মোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ (ফ্রিজিং) করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার; যা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা)। পাচার করা এ অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।

তারেক রহমান জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশ– যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি দেশ– মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ সইয়ের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। অপর সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের বিষয় প্রক্রিয়াধীন। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান। মামলাগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে এবং পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করা হয়।

সম্পদ জব্দের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, আদালতের আদেশে দেশে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে বিদেশে মোট ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

মামলার হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং ছয়টি মামলার রায় দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনে বৃহত্তর কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিদেশে পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

টাকা ছেপে দিচ্ছি না যে মূল্যস্ফীতি হবে

প্রশ্নোত্তর পর্বে নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের জন্য আমরা টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না। কাজেই মূল্যস্ফীতি হবে না।

তিনি বলেন, বাজেট কতো সেটি আমরা আপনাদের এখনই বলছি না। আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে জিনিসগুলোকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব। কৃষক কার্ডের একজন কৃষক বছরে আড়াই হাজার টাকা পাবেন, ফ্যামিলি কার্ডে এক নারী মাসে আড়াই হাজার টাকা পাবেন। আমরা প্রতি মাসে এটিকে এক্সটেন্ড করতে থাকব। এবারে সবাইকে দেওয়া সম্ভব না। প্রতিবছর আমরা বাজেটের টাকা বাড়াব।

সংসদ নেতা বলেন, যে কৃষক কৃষক কার্ড পাবেন এবং প্রান্তিক পর্যায়ে যে নারী ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, তারা তো সিঙ্গাপুরে এই টাকা পাচার করবেন না। এই টাকা তারা স্থানীয় অর্থনীতিতে খরচ করবেন। এতে প্রান্তিক অর্থনীতি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হবে।

সম্পর্কিত