তেজগাঁওয়ে ট্রেন লাইনচ্যুত, সূচি বিপর্যয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় যাত্রীরা। স্ট্রিম ছবি

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রোববার (৩১ মে) বিকেল তিনটায় একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন গন্তব্যের বেশ কয়েকটি ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যয় ঘটায় স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।

কুলিয়ারচরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বিকেল ৪টা থেকে স্টেশনে বসে আছেন জনি আহমেদ। রাত ৮টা বেজে গেলেও তাঁর কাঙ্ক্ষিত ট্রেনটি স্টেশনে এসে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, 'অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। বাচ্চা নিয়ে কষ্ট হচ্ছে।'

স্ট্রিম ছবি
স্ট্রিম ছবি

একই ধরনের দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে রংপুরগামী যাত্রী মোহাম্মদ সুমন সওদাগরের ক্ষেত্রেও। স্ত্রীসহ রংপুরে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, '৮টায় ট্রেন আসার কথা। কিন্তু এখন মেসেজ পাঠাইছে ১১টা ১০ মিনিটে ট্রেন আসবে। এতক্ষণ আমরা কী করব। ঈদের আগে টিকিট পাইনি। এখন পেয়েও এই ভোগান্তি।'

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার যাত্রী হাফিজুর রহমান তাঁর দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন। ট্রেন আসার কোনো সঠিক তথ্য না পেয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'এই ট্রেন কখন আসবে কে জানে। বাচ্চাদের তো কষ্ট হবে।'

ট্রেন বিলম্বের কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, তেজগাঁওয়ে একটি মালবাহী ট্রেন উল্টে গেছে। সেখানে উদ্ধারকারী দল কাজ শুরু করে দিয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনার কারণে চিত্রা এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস স্টেশনে পৌঁছাতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা করে দেরি হবে।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল রাত ৮টায়। এছাড়া চিত্রা এক্সপ্রেসের সাড়ে ৭টায় এবং দ্রুতযান এক্সপ্রেসের রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লাইনচ্যুত ট্রেনের উদ্ধারকাজের কারণে এসব ট্রেনের যাত্রা বিলম্বিত হচ্ছে।

সম্পর্কিত