leadT1ad

ঈদের পরে বইমেলার দাবি প্রকাশকদের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশকদের ৪ দফা প্রস্তাবনাসহ ঈদের পরে বইমেলার দাবি। ছবি: সংগৃহীত

‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ আসন্ন রমজান ও ঈদের পরে আয়োজনসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন প্রকাশকরা।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) 'সাধারণ প্রকাশকবৃন্দ' ব্যানারে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

প্রকাশকরা জানান, আগামী পাঁচ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ঈদের পরে মেলা আয়োজনের ঘোষণা না দিলে ২৬২ জন প্রকাশকসহ সাধারণ প্রকাশকদের পক্ষে আসন্ন বইমেলায় অংশগ্রহণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত দেড় বছরে দেশে বই বিক্রি ৬০ শতাংশের বেশি কমেছে। বর্তমানে প্রকাশিত ৯৫ ভাগ বইয়ের প্রথম মুদ্রণ মাত্র ৩০০ কপি করে ছাপা হয়, যার মধ্যে ৭০ ভাগের বেশি বইয়ের ৩০০ কপিও বিক্রি হয় না। ফলে প্রায় ৯০ ভাগ প্রকাশক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা চরম আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া, ‘সিইও ওয়ার্ল্ড’-এর গ্লোবাল রিডিং ইনডেক্সে ১০২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম, যা গভীর আশঙ্কার বিষয়।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রকাশকরা তিনটি প্রধান বাধার কথা উল্লেখ করেন।

১. ফেব্রুয়ারির শুরুতেই রোজা এবং সামনে ঈদ থাকায় মানুষের বাজেটের বড় অংশ চলে যাবে পোশাক ও খাদ্যদ্রব্য ক্রয়ে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মেলার প্রধান ক্রেতা শিক্ষার্থীরা ঢাকায় থাকবেন না।

২. জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলে প্রেস ও বাইন্ডিং শ্রমিক এবং স্টল নির্মাণের কারিগর পাওয়া দুষ্কর হবে। নির্মাণসামগ্রীর দামও আকাশচুম্বী।

৩ মেলার স্টলগুলোতে কাজ করা শিক্ষার্থীদের সিংহভাগই রোজা রাখেন এবং ঈদের আগে বাড়ি যেতে চান। এই অবস্থায় মেলা চালানো অমানবিক।

প্রকাশকদের ৪ দফা

প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো স্মারকলিপিতে চারটি দাবির কথা জানান বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস) এবং ২৬২ জন প্রকাশক।

১. রমজান ও নির্বাচনী বাস্তবতা বিবেচনায় এবারের বইমেলা পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করা।

২. প্রকাশকদের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থার কথা চিন্তা করে মেলার স্টল ও প্যাভিলিয়ন ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ এবং সরকারি খরচে সম্পূর্ণ কাঠামো তৈরি করে দেওয়া।

৩. পহেলা বৈশাখের উৎসব ভাতার আদলে বইমেলা উপলক্ষে শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ‘বই-ভাতা’ বা ভাউচার ব্যবস্থা চালু করা।

৪. আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে সরকারিভাবে প্রতিটি মানসম্মত বইয়ের ন্যূনতম ৩০০ কপি ক্রয়ের ব্যবস্থা করা এবং নামমাত্র (৩৫-৭০ কপি) বই ক্রয় প্রথা বাতিল করা।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশকরা অভিযোগ করে জানান, এর আগে সংস্কৃতি উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েও সমাধান পাননি তারা। ফলে এবার তারা এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার ‘স্যাক্রিফাইস’ ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত আশা করছেন।

এসময় প্রকাশকরা আগামী পাঁচ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাবি মেনে ঈদের পরে মেলা আয়োজনের ঘোষণা না দিলে প্রকাশনা শিল্পকে বাঁচাতে মেলায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দেন।

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মেছবাহউদ্দীন আহমদ (আহমদ পাবলিশিং হাউস), এ.কে নাসির আহমেদ (কাকলী), মাজহারুল ইসলাম (অন্যপ্রকাশ), মনিরুল হকসহ (অনন্যা) আরও অনেকে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত