হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবিতে তিন জেলায় সড়ক অবরোধ, অনড় মালিকেরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রংপুর, রাজশাহী ও বগুড়া

রংপুরে মহাসড়কে আলু ঢেলে চাষি ও ব্যবসায়ীদের অবরোধ। স্ট্রিম ছবি
রংপুরে মহাসড়কে আলু ঢেলে চাষি ও ব্যবসায়ীদের অবরোধ। স্ট্রিম ছবি

হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমানোর দাবিতে তিন জেলায় বিক্ষোভসহ সড়ক অবরোধ করেছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রংপুর নগরী, রাজশাহীর পবা ও বগুড়া শহরে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সড়কে যানজট পড়েন চালক ও যাত্রীরা।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, চলতি মৌসুমে উৎপাদন খরচের তুলনায় আলুর দাম কম থাকায় এমনিতেই তারা লোকসানে রয়েছেন। এর মধ্যে হিমাগারে আলু সংরক্ষণে বাড়তি খরচ ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়ে দেবে। তাই হিমাগারে কেজি প্রতি ৫ টাকা ২০ পয়সা ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। দাবি মানা না হলে হিমাগারে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। তবে হিমাগার মালিকেরা বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে ভাড়া কমানো সম্ভব নয়। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

রংপুর নগরীর নব্দীগঞ্জ বাজার এলাকায় দুপুরে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এ সময় সড়কের ওপর আলু ছড়িয়ে দেন তারা। তাদের অভিযোগ, রংপুরে অন্যান্য এলাকার তুলনায় বস্তাপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, বৃষ্টির কারণে এবার আলু উৎপাদন ও হিমাগারে পৌঁছানো পর্যন্ত খরচ বেড়ে ২০ টাকা হয়েছে। এখন বাজারে আলু ১৪ টাকা কেজি। তার মধ্যে হিমাগার ভাড়া ৭ টাকা কাটলে হাতে থাকে মাত্র ৭ টাকা। এতে কেজিতে ১৩ টাকা লোকসান হচ্ছে।

জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য নুরুন্নবী হক ভূঁইয়া বলেন, ‘৫ টাকা ২০ পয়সা প্রতি কেজি ভাড়া নেওয়ার দাবি না মানলে রংপুর অঞ্চলের সব হিমাগারে তালা লাগানোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। সরকার নির্ধারিত বা সুপারিশ করা যৌক্তিক ভাড়া কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

হিমাগার মালিকদের সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সরকার নির্ধারিত ভাড়া নিচ্ছি। একটাও বেশি নিচ্ছি না।’

এদিকে রাজশাহীর পবা উপজেলার তকিপুরে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে বেলা ১১টার দিকে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে। এতে হিমাগারে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণে ৫ টাকার বেশি ভাড়া মানবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ বলেন, জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা মানা হবে না। প্রয়োজনে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনগত লড়াই করা হবে।

এর আগে রাজশাহী জেলা সুপারিশ কমিটির প্রতিবেদনে হিমাগারে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণে ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া বগুড়া শহরের মাটিডালী এলাকায় মহাসড়কে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সমাবেশ ও অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ সময় উৎপাদন খরচ ও বাজার মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাড়া নির্ধারণ না হলে আবারও কর্মসূচি দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন করেছে আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

আলু ভেল্যু চেইন প্রমোশনাল বডি কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি সামিউল ইসলাম বলেন, বগুড়ায় হিমাগার কর্তৃপক্ষ আলু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ভাড়া সর্বোচ্চ ৬ টাকা ৭৫ পয়সা আদায় করছে। বাস্তবতা বিচারে প্রতি কেজি ৫ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণ করতে হবে।

বগুড়ার মাটিডালী কৃষিকল হিমাগারের জিএম সাইফুল ইসলাম বলেন, হিমাগার খরচ, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে ঋণের সুদ। সবমিলিয়ে হিমাগারের ভাড়া কমিয়ে দেওয়া হলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বগুড়া মাঠ ও বাজার পরিদর্শক আবু তাহের জানান, চলতি বছর জেলায় ৫৫ হাজারে বেশি হেক্টর জমি থেকে ১২ লাখ মেট্রিকটন আলু উৎপাদন হয়েছে। জেলার ৫২টি হিমাগারে প্রায় ৫ লাখ টন আলু সংরক্ষণ হলেও এখন পর্যন্ত উত্তোলন হয়েছে অর্ধেকেরও কম। হিমাগারে ভাড়া নির্ধারণ বিষয়ে মাঠ পর্যায় থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত