জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

বাংলাদেশে ফিরতে গিয়েই ধরা পড়েন হাদির দুই ঘাতক

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৩: ১০
স্ট্রিম গ্রাফিক

বাংলাদেশের আলোচিত রাজনৈতিক কর্মী ও ‘ইনকিলাব মঞ্চ’র মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড় এসেছে। এই মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আটক করেছে পুলিশ। সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এখন শুরু হয়েছে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ।

বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। জানা গেছে, ৭ মার্চ গভীর রাতে বনগাঁর সীমান্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং স্থানীয় আদালতে তোলা হলে আদালত তাঁদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

হাদি হত্যাকাণ্ডের পরপরই এই দুই অভিযুক্ত বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। গোয়েন্দাদের ধারণা, তারা প্রথমে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। এরপর বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান পরিবর্তন করে তারা দীর্ঘদিন ধরেই আত্মগোপনে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় আবার আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তারা পুলিশের নজরে পড়ে।

বাংলাদেশের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা সুযোগ বুঝে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছিল। সেই সময়ই সীমান্তবর্তী এলাকায় তাদের অবস্থানের বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

এই ঘটনাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক ভারত সফরে গিয়েছিলেন। সফরের সময় তিনি ভারতীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সহযোগিতা চান। ওই বৈঠকের পরই দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান আরও জোরদার হয়।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষও বাংলাদেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ায়। সেই নজরদারির মধ্যেই সন্দেহভাজনদের গতিবিধি চিহ্নিত করা সম্ভব হয় এবং শেষ পর্যন্ত বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় জন্ম নেওয়া ওসমান হাদি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এসে তিনি রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সময় তাঁর নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এর পর থেকে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের উত্থান দেখা যায়। ওসমান হাদিও সেই প্রজন্মের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে তাঁর ওপর হামলার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধাক্কা দেয়। ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন হামলাকারী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। প্রায় এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তদন্তকারীরা সন্দেহ করছিলেন, হামলাকারীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারে। পরে জানা যায়, সন্দেহভাজন কয়েকজন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েছে। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত এগোতে থাকে।

তদন্তকারীদের মতে, ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলেও বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ভারতীয় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ হেফাজতে রেখে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তী পর্যায়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

এই গ্রেপ্তারের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনা, অর্থায়ন এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে নতুন তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

সম্পর্কিত