দৌলতপুরে হামলায় নিহত পীর শামীমের দাফন সম্পন্ন, হত্যাকাণ্ডে পরিবারের ক্ষোভ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
দৌলতপুর ও কুষ্টিয়া

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ৩৪
দৌলতপুরে হামলায় নিহত পীর শামীম জাহাঙ্গীরের জানাজা রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়। স্ট্রিম ছবি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দরবারে হামলা চালিয়ে মারধরে নিহত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পারিবারিক ও সামাজিক সিদ্ধান্তে রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে (আসরের নামাজের পর) উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় গ্রামের একটি ঈদগাহে জানাজা শেষে দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

এর আগে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুর ১টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় পীর শামীমের মরদেহ নিজ গ্রাম ফিলিপনগর আনা হয়। পরে জানাজার জন্য তাঁর মরদেহ ঈদগাহে নেওয়া হলে কান্নায় ভেঙে পরেন ভক্ত-অনুসারীরা।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, জীবিতাবস্থায় পীর শামীম তাঁর প্রতিষ্ঠিত দরবার শরিফেই সমাহিত হতে চেয়েছিলেন। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রামের কবরস্থানে তাঁকে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পীর শামীম জাহাঙ্গীরের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, ‘দুপুরে নামাজ পড়ে এসে খাওয়া-দাওয়া সময় হঠাৎ চিল্লাচিল্লিতে বাইরে বের হয়ে দেখি আবার ভাইকে তারা মারধর করছে। রক্তাক্ত অবস্থায় অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে আছে। পুলিশের সহায়তায় তাঁকে নিয়ে আমরা হাসপাতালে যাই৷ এর কিছুক্ষণ পরেই আমার ভাই মারা যায়।’

পীর শামীরের বড় ভাই জানান, শামীম জাহাঙ্গীর শিক্ষাজীবনে ভালো ছাত্র ছিলেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। চাকরিরত অবস্থায় বিয়ের প্রায় দুই বছর পর তিনি সংসার থেকে আলাদা হয়ে যান। এরপর পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনো খোঁজ-খবর ছিল না। করোনাকালে তিনি আবার এলাকায় ফেরেন। এরপর থেকে তিনি নিজের মতো থাকতে শুরু করেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমার ভাই খুব শৌখিন মানুষ ছিল। অভিযোগ থাকলে সমাধান করতে পারত। এইভাবে একটা মানুষকে মারা ঠিক হয়নি।’ পরিবারের সদস্যরা আলোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি জানান।

দাফনের পর পীর শামীরের এক ফুফাতো ভাই বলেন, ‘যারা এই কাজ (পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা) করেছেন, খুব খারাপ করেছেন। কোনো সমস্যা থাকলে তাঁর (পীর শামীম) সাথে বসতে পারত। তাকে বলতে পারতো। দেশে আইন-কানুন আছে। তারা আইনের আশ্রয় নিতে পারত। এইভাবে একজন মানুষকে দিনের বেলা হত্যা করা কেন লাগবে?’

কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন অবস্থায় দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দাফনের পরে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে সেজন্য এই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

দৌলতপুরে রোববার পীর শামীমের বাড়ি পরিদর্শন করে এনপিএর প্রতিনিধি দল। সংগৃহীত ছবি
দৌলতপুরে রোববার পীর শামীমের বাড়ি পরিদর্শন করে এনপিএর প্রতিনিধি দল। সংগৃহীত ছবি

এদিকে রোববার দুপুরে পীর আব্দুর রহমান শামীমের বাড়ি পরিদর্শন করেছে নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) একটি প্রতিনিধি দল। এনপিএর সদস্য অনিক রায় ও মেঘ মল্লার বসু সেখানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। রাত ৮টার দিকে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে পোস্ট করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দরবারে হামলা ও পীরকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদ জানায়।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীন। ধর্ম অবমাননা শাস্তি দেশে প্রচলিত আইনেই হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর (পীর শামীল) বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে আমাদের প্রচলিত আইনেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। এই ফিলিপনগর এলাকার মানুষের কাছ আমি চাইব, এখানে যেন আইনশৃঙ্খলার আর অবনতি না হয়। আমরা এর সঠিক বিচার করব।’

অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, এখনো পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ নিজ উদ্যোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি, তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

সম্পর্কিত