জুতাপেটার ঘটনায় সেই শিক্ষিকা বরখাস্ত, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা অধরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ৩৯
শিক্ষিকার ওপর বিএনপি নেতার হামলা। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর দাওকান্দি সরকারি কলেজের শিক্ষিকা (ডেমোনস্ট্রেটর) আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এক বিএনপি নেতাকে চড় মারার ঘটনার জেরে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে ওই শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করা বিএনপি নেতা শাহাদ আলী এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে। তার নামে আগে থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার একটি তাফসির মাহফিলের চাঁদা নিতে কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী ও ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীনসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী। এ সময় শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরার সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

আলেয়া খাতুনের অভিযোগ, এ সময় অভিযুক্ত শাহাদ আলী তাকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে চড় মারেন। এর পর শাহাদ আলী ওই শিক্ষিকাকে জুতাপেটা ও চুল ধরে টানাহেঁচড়া করেন। এমনকি অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাককেও মারধর করা হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় কোনো মামলা করেনি।

এই ঘটনার পর শনিবার (২৫ এপ্রিল) স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যক্ষ ও ওই শিক্ষিকার অপসারণের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. আছাদুজ্জামান রোববার কলেজ পরিদর্শনে যান। তিনি শিক্ষিকা আলেয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। আছাদুজ্জামান জানান, উচ্ছৃঙ্খল আচরণের জন্য তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, স্থানীয় ওই চক্র কলেজের পুকুর ইজারা নিয়ে পান চাষ করলেও কোনো অর্থ পরিশোধ করে না। উল্টো দফায় দফায় এসে নানা কথা বলে চাঁদা নিয়ে যায়। মামলা না করার বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, ‘মামলা করলে এখানে টেকা যাবে না।’

এদিকে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চানন্দ সরকার জানান, অধ্যক্ষ থানায় এসে জিডি করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করা শাহাদ আলীর বিরুদ্ধে আগেই একটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। পরোয়ানার বিষয় জানতে পেরে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে।

অন্যদিকে ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে সহসভাপতি আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও অভিযুক্ত শাহাদ আলীর কোনো পদ না থাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সম্পর্কিত