মোবাইল নিতে বাধা দিলে মাথায় লাঠির আঘাত, তাতেই মৃত্যু অপ্রতিমের
স্ট্রিম সংবাদদাতাকুমিল্লা

মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যা করা হয়। তার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে তিনজন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান।
এসপি জানান, অপ্রতিম হত্যায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা এলাকার নূরে আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) এবং ২ কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তিনজন হত্যায় সরাসরি জড়িত। আরেক কিশোরকে হেফাজতে নিয়ে সম্পৃক্ততার তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে। শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়াবাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় সে। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। শনিবার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানায় পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজের জিডির (সাধারণ ডায়েরি) পরপরই আমরা তদন্ত শুরু করি। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঘটনার দিন বিকেল সোয়া ৩টায় অপ্রতিমকে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে যায় তুহিন। পরবর্তীতে ওই পাহাড়েই অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়া যায়। ফুটেজ অনুযায়ী, তুহিনকে হেফাজতে নিলে সে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে অপ্রতিমকে ওই স্থানে নেওয়ার কথা স্বীকার করে।
তিনি জানান, পরে তুহিনের তথ্যে সালমানপুর এলাকার এক কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর তার বন্ধু হাতিগাড়া এলাকার আরেক কিশোরকে আটক করা হয়। এই তিনজনই হত্যায় সরাসরি জড়িত।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে এসপি জানান, শনিবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তুহিনসহ তিনজন। অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে অপর দুই কিশোর লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে অপ্রতিমের মৃত্যু হয়। পরে তুহিনসহ অন্যরা মোবাইল ফোন নিয়ে চলে আসে।
তিনি আরও জানান, সদর দক্ষিণের এলাহিপুর এলাকার আরেক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ। অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
.png)






