জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

দৌলতদিয়া ঘাটে ৪০ যাত্রী নিয়ে বাস পদ্মায়, নিহত অন্তত ২

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজবাড়ী

দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় পড়ে যাওয়া বাস। ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে একটি বাস। বুধবার বিকেল ৫টার দিকে ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটিতে অন্তত ৪০ যাত্রী ছিল। তাদের মধ্যে ২ জনের মরদেহ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন জানান, ফেরিতে উঠার সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বাসটি নদীতে পড়ে যায়। কয়েকজন সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও বেশিরভাগ যাত্রীর সন্ধান মেলেনি।

গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে ৩ জনকে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ২ নারী মারা গেছেন। বাকি একজন চিকিৎসাধীন।’

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ফেরিতে উঠার সময় বাসটি পদ্মায় পড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল কাজ করছে। ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।

দুর্ঘটনার সময় উদ্ধারকারকারী জাহাজ হামজা নদীর অপর পাড় মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করলেও সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বাসটি রশিতে বাঁধতে পারেনি। নদীতে স্রোত বেশি থাকায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক সোহেল রানা বলেন, ‘উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও মানিকগঞ্জের ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ করছে। তবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বাসটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।’

দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস উদ্ধারে তৎপরতা। স্ট্রিম ছবি
দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস উদ্ধারে তৎপরতা। স্ট্রিম ছবি

৩ নম্বর ফেরিঘাটের টিকিট সুপারভাইজার মো. রাসেল বলেন, ‘ঘাটে বাসটা আসার পর ব্রেক ফেইল করে। ড্রাইভার চাইলে সাইড নিয়ে কোনোভাবে সেফ করার চেষ্টা করতে পারত। কিন্তু তিনি জানালা দিয়ে লাফিয়ে নেমে গেলেন পন্টুনের উপর। আর বাসটা ফেরিঘাট পার হয়ে পানিতে পড়ে তলিয়ে গেল।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। চার-পাঁচজনের লাশ পাওয়া গেছে। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমার ছোট ভাই নিজেই পানিতে লাফ দিয়া কয়েকজনকে উঠাইছে।’

বেঁচে যাওয়া যাত্রী আইন উদ্দিন বলেন, ‘একটা বড় ফেরি ঘাটে লোড হয়ে ছাইড়া গেছিল। তখন ওই গাড়িটা নিচে নামছিল। আমি বাস থেকে নিচে নামছিলাম। বাসটা নিচে নামার পর ব্রেক ফেল হয়া পানিতে পইড়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের স্থানীয় এক ভাই ইউনুস– সে ভালো ডুব পাড়তে পারে– সে ডুবাইয়া ১০ থেকে ১২ জনকে উদ্ধার করছে। কিন্তু সবার অবস্থা খুব খারাপ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এত প্রশাসন! এত কিছু! একটা অ্যাম্বুলেন্স বলবে সেই লোকও নাই। খুবই খারাপ অবস্থা। এত বড় একটা ঘটনা ঘটল, উদ্ধার করার মতো কোনো মানুষ নাই। যারা উদ্ধার করছে তাদের পেছনেও কেউ আগায়া আসে নাই।’

আইন উদ্দিন বলেন, ‘বাসে ৪০ থেকে ৪৫ জন লোক ছিল। তাদের মধ্যে উদ্ধার হইছে ১২ জন। বাকি কেউ বেঁচে আছে বলে মনে হয় না। আমার স্ত্রী ও ছেলে বেঁচে গেলেও মেয়ে বাসের মধ্যে রয়েছে।’

সম্পর্কিত