দুই জেলায় বজ্রপাতে গৃহবধূসহ তিনজনের মৃত্যু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৭: ০৮
জীবননগরে মারা যাওয়া যুবক রাসেল হোসেনের পরিবারে নগদ টাকা তুলে দেন ইউএনও। স্ট্রিম ছবি

চুয়াডাঙ্গা জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলায় বজ্রপাতে এক যুবক ও এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঝিনাইদহের মহেশপুরে বজ্রপাতে মারা গেছেন এক গৃহবধূ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে এসব ঘটনা ঘটে।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে তামাকের খড়ি গোছানোর সময় বজ্রপাতে রাসেল হোসেনে (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের মৃত রেজাউলের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ।

জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির পাশের জমিতে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন রাসেল। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক নাফিসা আনজুম হিমু জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

বিকেলে রাসেল হোসেনের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় নগদ ২৫ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার তুলে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেল।

এদিকে জেলার দামুড়হুদায় বজ্রপাতে মারা গেছে স্কুলছাত্র আজিম উদ্দীন (১৪)। সে উপজেলার দর্শনা পারকৃষ্ণপুর গ্রামের তাজিমুল ইসলামের ছেলে এবং দর্শনা মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুপুর ১২টার দিকে মাঠে বাবাকে খাবার দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বলে জানায় তার পরিবার। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

মহেশপুরে বজ্রপাতে মারা যাওয়া ‍গৃহবধূর বাড়ি প্রতিবেশীদের ভিড়। সংগৃহীত ছবি
মহেশপুরে বজ্রপাতে মারা যাওয়া ‍গৃহবধূর বাড়ি প্রতিবেশীদের ভিড়। সংগৃহীত ছবি

আজিমের বাবা তাজিমুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলেটি আমাকে খাবার দিয়ে ফেরার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে আক্রান্ত হয়। সে ‘আব্বা’ বলে একবার ডাক দিয়েই মাটিতে পড়ে যায়।’ বৃহস্পতিবার বাদ আসর পারকৃষ্ণপুর ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।

এছাড়া ঝিনাইদহের মহেশপুরে বজ্রপাতে রোজিনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বাথানগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের মিজানুর রহমান পিলুর স্ত্রী।

পুলিশ ও গৃহবধূর স্বজনরা জানান, দুপুরে ঝড়বৃষ্টির মধ্যে রোজিনা গরুকে খাবার দিতে গোয়াল ঘরে গেলে পাশের একটি নারকেল গাছে বজ্রপাত হয়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রতিবেশী রমজন আলী বলেন, বজ্রপাতে নারকেল গাছটির গায়ে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন দেখা যাচ্ছে।

মহেশপুর থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, বজ্রপাতে এক নারীর মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ জেনেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত