কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশকে ডর দেখানোর সুযোগ নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ২১: ৪৭
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। ছবি: সংগৃহীত

কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশকে এখন ডর দেখানোর মতো কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনে যথাযথ জায়গায় আলোচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশকে এখন ডর দেখানোর মতো কোনো সুযোগ নেই। দেখেন, যদি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক করতে চান, বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না। বাংলাদেশের সরকারও কাঁটাতার ভয় পায় না, যেখানে আমাদের কথা বলা দরকার, আমরা কথা বলব।’

নির্বাচনী বক্তব্য আর বাস্তবিক সরকার পরিচালনা দুটো ভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার নির্বাচনী বক্তব্যের ধারাবাহিকতা শাসনকার্যেও রাখছে কিনা, তা একটু সময় দিয়ে দেখতে চায় ঢাকা।

মানুষে মানুষে সম্পর্ক চাইলে সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়গুলো সমাধানের ক্ষেত্রে ভারত সরকারকে ‘মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি’ দেখাতে হবে বলে মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, ‘বাস্তবিক সরকার পরিচালনা একটা ভিন্ন বিষয়। দেখি, আমরা একটু সময় দিই; রেটরিক আর গভর্নেন্সে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার একই জিনিস এগিয়ে নিতে চাচ্ছে কিনা। আর আমাদের সম্পর্ক তো প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে। এখানে আমরা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যে ঢুকতে চাই না।’

এরপর কাঁটাতার নিয়ে ভয় না পাওয়ার বক্তব্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘সীমান্তে মানুষ হত্যা করলে ঢাকা বসে বসে দেখবে না। এখানে আগে যেসব কাহিনিগুলো দেখেছি, মানুষ অনেক হত্যা করে ফেলা হয়। কাঁটাতারে লাগিয়ে আপনি ফেলে রাখবেন, যেগুলো আমরা আগে দেখেছি হাসিনার সময়। ওই নমুনায় তো বর্ডার কোনোদিন আসবে না, ইনশাআল্লাহ।’

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের প্রসঙ্গও টানেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি চায়, প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপ চায় এবং সবাই একটা আন্তরিক অবস্থায় থাকতে চায়। চ্যালেঞ্জ থাকবেই।

দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার থাকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই, আমরা বলছি যে, দুদেশের নেতৃত্বের মনোভাব ও অঙ্গীকার সেখানে অবশ্যই থাকতে হবে এবং চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও এটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত