জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

উদীচী ট্র্যাজেডি: ২৭ বছরেও হয়নি বিচার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
যশোর

যশোরের টাউন হল মাঠে রওশন আলী মঞ্চের পাশে উদীচী ট্র্যাজেডির স্মৃতিস্তম্ভ। স্ট্রিম ছবি

উদীচী ট্র্যাজেডি দিবস আজ ৬ মার্চ। ১৯৯৯ সালের এই দিনে গভীর রাতে বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে যশোর টাউন হল ময়দান। উদীচীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের অনুষ্ঠানে সেই বোমা হামলায় ঝরে যায় তরতাজা ১০টি প্রাণ। আহত হয় আড়াই শতাধিক। তবে ২৭ বছরেও চিহ্নিত হয়নি ঘাতকরা। আইনের মারপ্যাঁচে থমকে গেছে বিচারও।

সেদিনের হামলায় পা হারানো সুকান্ত দাস বলেন, ঘটনা ঘটেছিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। পরবর্তীতে সেই আওয়ামী লীগ আরও তিনবার ক্ষমতায় আসে। কিন্তু তারা বিচার করেনি।

২৭ বছরেও বিচার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর ৬ মার্চ আসলে আমরা বিচার দাবি করি। এভাবে আর কতদিন চাইতে হবে জানি না।

ওই দিন নিহত হন- নূর ইসলাম, নাজমুল হুদা তপন, সন্ধ্যা রাণী ঘোষ, ইলিয়াস মুন্সী, শাহ আলম বাবুল, বাবুল সূত্রধর, শাহ আলম, বুলু, রতন রায় ও রামকৃষ্ণ।

যশোর শিল্পকলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু বলেন, প্রকাশ্যে একটি ঘটনা ঘটেছে। ১০ জনের প্রাণ গেছে। পঙ্গুসহ আহত হয়েছে আড়াই শতাধিক। অথচ এখনও ঘাতকরা চিহ্নিত হয়নি। সব আসামি খালাস পেয়ে গেছে। মামলা নিয়েও রাজনীতি হয়েছে। ২৭ বছরেও ঘাতক চিহ্নিত করতে পারা না সরকারের দায়, রাষ্ট্রের দায়। এ ব্যাপারে কোনো সরকারই আন্তরিক না।

আদালত সূত্রে জানা যায়, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ত্রুটিপূর্ণ অভিযোগপত্রের কারণে ২০০৬ সালের ৩০ মে মামলার সব আসামি আদালত থেকে খালাস পায়। পরে সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলেও শুনানি আর হয়নি।

যশোরের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এম ইদ্রিস আলী বলেন, মামলাটির ২৩ আসামির মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। বাকিরা জামিনে রয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ওই শুনানি নিষ্পত্তি না হলে নিম্ন আদালতে বিচার শুরু করা যাবে না।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে যশোর উদীচী। সংগঠনের সভাপতি আমিনুর রহমান হিরু বলেন, দুপুর ১২টায় যশোর ঈদগাহ মোড়ে বিচারের দাবিতে সভা হয়েছে। আর সন্ধ্যা ৭টায় টাউনহল মাঠের রওশন আলী মঞ্চের পাশে শহিদবেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পন ও আলোক প্রজ্জ্বলন করা হবে।

সম্পর্কিত