চৈত্রসংক্রান্তিতে নেত্রকোনায় কথা-গানের খনার মেলা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ৪১
খনার মেলার একটি পরিবেশনা। স্ট্রিম ছবি

চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় চলছে খনার মেলা। টানা তৃতীয়বার আয়োজিত মেলায় কৃষি, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও বাকস্বাধীনতায় খনার বচনের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।

সোমবার সূর্যোদয়ের সময় উপজেলার আঙ্গারোয়া গ্রামে ‘ভোরের হাওয়ার উদ্বোধনে’ মেলাটি শুরু হয়। স্থানীয় সংগঠন মঙ্গলঘর পরিসরের উদ্যোগে আয়োজিত মেলায় কথা ও গানে গানে খনার বচন তুলে ধরা হয়।

সরেজমিনে মেলা ঘুরে দেখা গেছে, সোমবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মেলা শুরু হয়। সকাল থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক, শিক্ষার্থী ও শিশুরা মেলায় উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও দেশ-বিদেশের সংগীতশিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা যোগ দেন।

মেলা উপলক্ষে স্থানীয় নারীদের হাতে বানানো পাখা, ঘুড়ি, হাঁড়ি, হাতে লেখা রুমাল, শাড়ি, ওয়ালমেট, ঝালট, পিনড়া, কাগজের টব, দাঁড়িপাল্লা, পাট দিয়ে তৈরি করা নানা চিত্রপটসহ কৃষি উপকরণের প্রদর্শনী করা হয়।

এছাড়া শিশুদের জন্য ছিল চিত্রাঙ্কন, কবিতা ও গানের প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে গাছসহ বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার পয়লা বৈশাখের সূর্যোদয়ের সময় মেলার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, চ্যানেল আই, কুল এক্সপোজার, নিউজট্রেইল, এসআর গ্রুপ ও এলারাবাসীর সহায়তায় মেলাটির আয়োজন করা হয়েছে।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, মেলায় সংগীতের বিভিন্ন শ্লোক, খনার কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, জীবন ও জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে বিশেষ আলোচনা রয়েছে। সংগীত পরিবেশন করবেন শাহজাহান মুন্সি, গানের দল ‘সমগীত’, ফকির সাহেব, কুয়াশা মূর্খ, গুরু প্রিয়া, শেফালি ভাইন, মঙ্গলঘরের শিল্পী কৃষক দুদু কাঞ্চন, দুলাল চিশতিসহ স্থানীয় শিল্পীরা।

ধোপা জাঙ্গালিয়া গ্রাম থেকে খনার মেলায় আসা ষাটোর্ধ্ব তুলা শাহ স্ট্রিমকে বলেন, ‘এই মেলা একজন জ্ঞানী মানুষের নামে হয়। তাঁর নাম খনা। খনা কৃষি নিয়ে বিভিন্ন কথা বলেছেন। যেগুলো আমাদের কৃষি কাজে উপকারে আসে।'

ময়মনসিংহ থেকে আসা ফজলে রাব্বি লিটন নামে একজন স্ট্রিমকে বলেন, ‘কৃষি হলো আমাদের মূল। খনার বচন শুনে কৃষিতে যদি আমরা উন্নতি করতে পারি, তাহলে আমাদের স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাতেও উন্নতি করতে পারব।’

মঙ্গলঘর পরিসরের সংগঠক আবুল কালাম আজাদ স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমরা খনাকে দেখি আমাদের হাজার বছরের কৃষি কৃষ্টি, মানুষের জ্ঞান, জীবনধারা—তার একটা প্রতীক হিসেবে। কৃষি কৃষ্টির অন্যতম বড় বৈজ্ঞানিক এবং শক্তিশালী অনুষঙ্গ হচ্ছে খনা।’

আবুল কালাম আজাদ আরো বলেন, ‘ঈর্ষার কারণে জ্ঞানী খানার জিহ্বা কেটে দেওয়া হয়েছিল। এটাকে আমরা মানুষের জ্ঞানচর্চা এবং মুক্তবুদ্ধিচর্চার যে প্রতিবন্ধকতা আছে—তার প্রতীক হিসেবে।’

সংগীতশিল্পী ও মঙ্গলঘরের সংগঠক কফিল আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘খনা শুধু কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত না। বাকস্বাধীনতার জন্য খনা নিজের জিহ্বা হারিয়েছেন। ফলে, যে দেশে ভাষা আন্দোলন আছে, সে দেশে খনা থাকবে। খনার মেলাও হবে।’

বিষয়:

মেলা

সম্পর্কিত