ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের ইজারা চুক্তি হচ্ছে না

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮: ৫৫
গণমাধ্যমকে ব্রিফি করছেন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন হারুন। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ইজারা চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে হচ্ছে না। আলোচনা চলমান থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচনের পর পরবর্তী সরকারের আমলেই হবে। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন হারুন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

আশিক চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি ডিপি ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়ে আলোচনার অগ্রগতির প্রশংসা করেছে। তবে খসড়া কনসেশন চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য তারা আরও সময় চেয়েছে। ফলে আলোচনা নির্বাচনের পর পর্যন্ত গড়াতে পারে।

তিনি বলেন, ‘বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে আলোচনাটি বর্তমান সরকারের মেয়াদ ও আসন্ন নির্বাচনের পরবর্তী সময় পর্যন্ত গড়াতে পারে। পরবর্তী সরকার এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে।’

বিডা প্রধান আরও জানান, ডিপি ওয়ার্ল্ড খসড়া কনসেশন চুক্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করবে। ‘তারা কিছু সময় চেয়েছে। বাস্তবতা হলো, হাতে খুব বেশি কার্যদিবস নেই।’

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের ভূমিকা পরিষ্কার করে আশিক চৌধুরী বলেন, পিপিপি কোনো বাণিজ্যিক অংশীদার নয়; বরং আলোচনার প্রক্রিয়ায় সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, সরকার টু সরকার (জি-টু-জি) আলোচনার ক্ষেত্রে প্রথমে দুই দেশের সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং অংশীদার দেশের মনোনীত কোম্পানির মধ্যে প্রকল্পভিত্তিক পিপিপি আলোচনা শুরু হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় পিপিপি কর্তৃপক্ষ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা আশিক বিন হারুন জানান, ডিপি ওয়ার্ল্ড একটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি ধাপে সরকার পর্যায়েই সমন্বয় করা হচ্ছে। আলোচনা ২০১৯ সাল থেকে চলছে এবং সম্প্রতি তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গত এক মাসে এনসিটি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নিবিড় পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, ‘এত বড় একটি কনসেশন চুক্তি চূড়ান্ত করতে সময় লাগাটাই স্বাভাবিক।’

ডিপি ওয়ার্ল্ডের পাঠানো চিঠির প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেখানে আলোচনাটি ‘সঠিক পথে’ এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে চুক্তি স্বাক্ষর না হলেও আলোচনা থেমে যাবে না।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অবকাঠামো। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি পণ্য এই বন্দর দিয়েই পরিবহন হয়। এনসিটি বন্দরের অন্যতম বড় কনটেইনার টার্মিনাল।

২০১৯ সালে সরকার ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। পরে জি-টু-জি ভিত্তিতে পিপিপি মডেলে চুক্তির আলোচনা শুরু হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। তবে বিষয়টি ঘিরে বিতর্ক, স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। এ নিয়ে আদালতেও আইনি লড়াই হয়েছে। সম্প্রতি হাইকোর্ট কোম্পানি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বৈধ বলেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আপিল প্রক্রিয়াও চলছে।

এদিকে চুক্তির প্রতিবাদে বন্দরের শ্রমিকদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কয়েক দফা কর্মসূচির কারণে বন্দরের কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে। রোববার থেকে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। ব্যবসায়ীরা এতে অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সমালোচকদের অভিযোগ, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করলে ভবিষ্যৎ সরকারের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, বিদেশি অপারেটর এলে বন্দরের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়বে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত