leadT1ad

ভোলা-১: নজরে সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগের ভোট

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ভোলা

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০: ১৭
আন্দালিব রহমান পার্থ এবং অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম। স্ট্রিম কোলাজ

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ (সদর) আসনের ভোটের সমীকরণ ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। দীর্ঘদিনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘নৌকা’ ও ‘ধানের শীষ’ প্রতীক এবারের ব্যালটে না থাকায় নির্বাচনী মাঠে তৈরি হয়েছে নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতা। এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু ভোটার এবং আওয়ামী ঘরানার ‘নীরব’ ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কার দিকে ঝুঁকবেন—তা নিয়েই এখন ভোলার রাজনীতির মাঠে চলছে আলোচনা।

ভোলা-১ আসনে এবার মোট ৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল লড়াই কেন্দ্রীভূত হয়ে উঠেছে বিএনপি জোট সমর্থিত বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ (গরুর গাড়ি প্রতীক) এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) মধ্যে। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা ওবায়দুল রহমান (হাতপাখা) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান (আম) আলোচনায় রয়েছেন।

নির্বাচনী ময়দানে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নেই, দলটির শীর্ষ নেতারাও অধিকাংশই আত্মগোপনে। তবে স্থানীয়দের মতে, আওয়ামী ঘরানার একটি বড় ভোটব্যাংক এখনো মাঠে সক্রিয়। এই বিশাল ভোট নিজেদের ঝুলিতে ভরতে প্রার্থীরা গোপনে গ্রাম-গ্রামান্তরে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। বিশেষ করে বিএনপি জোট ও জামায়াতের পক্ষ থেকে এই ভোটারদের কাছে টানার নানা কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

ভোলা-১ আসনের জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু ভোটারদের বড় ভূমিকা রয়েছে। এই ভোট একচেটিয়া করার লক্ষ্যে গত কয়েক দিন ধরে আন্দালিব রহমান পার্থ ও অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম একে অপরের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দিচ্ছেন।

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এক জনসভায় বলেন, ‘এই নির্বাচন হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের জন্য অস্তিত্বের লড়াই। জামায়াত এমন এক দল যারা সবার সাথে বসবাসের দর্শনে বিশ্বাস করে না। তারা পাকবাহিনী এনেছিল অমুসলিমদের মারার জন্য। এরা ক্ষমতায় আসলে সংখ্যালঘু অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।’

অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সব মানুষকে সব সময় বোকা বানানো সম্ভব না। হিন্দু সম্প্রদায় গত ৫৪ বছরে দেখেছে কারা তাদের ওপর নির্যাতন করেছে, বাড়িঘর দখল করেছে আর কারা চাঁদাবাজি করে। জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না।’

ভোলা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার সাহা বলেন, ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কোনো নির্দিষ্ট দলের অনুসারী নয়। ভোটাররা প্রার্থীর সততা, যোগ্যতা ও জনস্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেবেন। তবে সব প্রার্থীই সংখ্যালঘু ভোটার টানার চেষ্টা করছেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন ভোটার বলেন, আওয়ামী লীগের সবাই পালিয়ে যায়নি। তাদের একটি অংশ এই নির্বাচনেও গোপনে সক্রিয় রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, জোট রাজনীতির টানাপোড়েন আর সংখ্যালঘু ও নীরব ভোটারদের মন জয়ের লড়াই-ই নির্ধারণ করবে কে হচ্ছেন ভোলার আগামীর কাণ্ডারি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত