বাংলা একাডেমিতে ৭ দিনব্যাপী ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের মিলনমেলা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

বাংলা একাডেমিতে মেলার উদ্বোধন করেন অতিথিরা। স্ট্রিম ছবি

‘বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩’ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা, যেখানে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের এক অনন্য সমন্বয় ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে বাংলা একাডেমি ও বিসিকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

পয়লা বৈশাখ এখন জাতীয় অস্তিত্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বৈশাখী শোভাযাত্রায়’ অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘এই উৎসব একসময় কৃষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা সর্বস্তরের মানুষের উৎসবে পরিণত হয়েছে।’

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মেলা। স্ট্রিম ছবি
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মেলা। স্ট্রিম ছবি

এই ধরনের আয়োজন দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।

এসময় শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘এখন মানুষ অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৈশাখ উদযাপন করছে, যা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির প্রতিফলন।’

গত দেড় দশকে বৈশাখ উদযাপনকে ঘিরে যে নিরাপত্তা উদ্বেগ ছিল, তা এখন আর নেই দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে শুধু আমরা তিন স্তর, চার স্তর নিরাপত্তার কথা শুনতাম। এখন আর সেই আতঙ্ক নেই। ফলে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎসবে অংশ নিচ্ছে। এই শৃঙ্খলাবোধই প্রমাণ করে, আমরা একটি শান্তিপ্রিয় জাতি।’

দেশের অর্থনীতির ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতনির্ভর এবং এসএমই উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বিসিক ৩০০ কোটি টাকার আবর্তনশীল ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি শতভাগ ঋণ পরিশোধের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিশেষভাবে প্রশংসা করেন।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মেলা। স্ট্রিম ছবি
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মেলা। স্ট্রিম ছবি

সংস্কৃতি, আনন্দ, কেনাকাটা ও অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে বৈচিত্র্যময় অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন মেলায় আগত দর্শনার্থীরা। শাহজাহান নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ‘এখানে এসে সত্যিই গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা বৈশাখী আমেজটা অনুভব করা যাচ্ছে। পণ্যগুলো খুবই আকর্ষণীয়, বিশেষ করে হাতে তৈরি জিনিসগুলো।’

ফারজানা নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘শুধু কেনাকাটা নয়, এখানে একটা সাংস্কৃতিক আবহ আছে। পুতুল নাচ, গান আর খাবারের আয়োজন—সব মিলিয়ে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য দারুণ জায়গা।’

শিশুদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছেন মাহবুব নামে এক অভিভাবক। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত যাত্রাবাড়ীর এই বাসিন্দা বলেন, ‘আজ বন্ধের দিন। বাচ্চাদের আবদারে এখানে নিয়ে এলাম। নাগরদোলাসহ বিভিন্ন রাইড থাকায় তারা খুব আনন্দ পাচ্ছে। এমন আয়োজন আরও বেশি বেশি হওয়া উচিত।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মাওলা, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গণের বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিসিকের পক্ষ থেকে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সাত দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়।

সম্পর্কিত